Home কক্সবাজার কক্সবাজারের পরিবেশ প্রকৃতি জলবায়ু ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সুরক্ষানীতি আবশ্যক

কক্সবাজারের পরিবেশ প্রকৃতি জলবায়ু ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সুরক্ষানীতি আবশ্যক

120
SHARE

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি(১৪ মে) :: সেভ দ্যা নেচ্যার অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নেচ্যার কনভেনশনে “কক্সবাজারে পরিবেশগত ঝুঁকি ও সম্ভবনা” শীর্ষক আলোচনা সভাতে নেতৃবৃন্দরা বলেন কক্সবাজারের অধিকাংশ এলাকা বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেনা। নেই পরিকল্পিত ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থপনা ও সওয়ারেজ সিষ্টেম, শহরের যানজট সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

অন্যদিকে পাহাড়কাটা, বনভূমি উজাড়, নদী নালা দখল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যারজন্য এখনই সুস্থ বাসযোগ্য নগরী গড়তে ঢেলে সাজাতে হবে সকল পরিকল্পনা।

সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা হিসেবে বড় ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও পরিবেশগত প্রভাবসমূহ সর্বপ্রথম কক্সবাজারের মানুষকে মোকাবেলা করতে হয়। তাই কক্সবাজার জেলার পরিবেশ প্রকৃতি জলবায়ু ও জীববৈচিত্র সুরক্ষানীতি গ্রহণ আবশ্যক। সেই সাথে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী হতে হবে।

ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবাসনের নামে প্রায় দশ হাজার একর বনভূমি ও জীববৈচিত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের আবাসনের জন্য অব্যাহত সমগ্র অঞ্চলজুড়ে পাহাড় কাটার কারণে খাবার পানির স্তর নীচে নেমে গেছে। তাই তাদের সেন্ট্রাল প্রসেসিং সিষ্টেম ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও সেন্ট্রাল সওয়ারেজ প্ল্যান্ট থেকে বায়ুগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানীর চাহিদা মেটানো সম্ভব এবং সেই সাথে আগামী বর্ষায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রয়োজন অনুপাতে বায়ু দূষণ রোধে নিম সহ বনজ ফলজ বৃক্ষ রোপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রধান অতিথি সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, জনগণের কল্যানেই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য ঝুঁকি বিবেচনাতে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব তার ক্ষতিকর ঝুঁকি থেকে অনেকাংশে দেশ ও জাতীয় সম্পদ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। কক্সবাজার প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে ভরপুর হলেও ইতিমধ্যে তা অনেকটা শ্রীহীন হয়ে পড়েছে, অব্যাহত জনসংখ্যার চাপ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে।

তবে যেহেতু কক্সবাজার মাষ্টার প্ল্যানের আওতায় এসেছে সেক্ষেত্রে আগামীতে পরিকল্পিত নগরায়ণে সরকার বদ্ধ পরিকর। এক্ষেত্রে সচেতন জনসাধারণ কে তাদের দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশের সুরক্ষা মাথায় রেখে সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডে পাশে থাকা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন।

সেভ দ্যা নেচ্যার অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নেচ্যার কনভেনশনে কক্সবাজার জেলা সভাপতি নাজমুল হক বাবুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রানা শর্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।

এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা নেচ্যার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জাহানারা ইয়াসমিন এবং কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সদর কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্যা নেচ্যার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মিডিয়া সেলের প্রধান মিসবাহ্ মাহমুদ মিশকাত, জেলা সেভ দ্যা নেচ্যারের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অন্তু ধর, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু, সেভ দ্যা নেচ্যার অব বাংলাদেশ মহেশখালী উপজেলা শাখার সভাপতি আশেক আরফিন আরফাত, টেকনাফ উপজেলার সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, রামু উপজেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন রিয়াদ, ঈদগাহ্ উপজেলার সভাপতি নাসির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আজম চৌধুরী, মহেশখালী সংগঠক আব্দুল মান্নান রানা, টেকনাফের সংগঠক ফরহাদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলওয়াত করেন তকিউল হাসান এবং অনুষ্ঠানের শেষে কুইজ এবং রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরুষ্কার হাতে তুলে দেন সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

SHARE