Home কক্সবাজার কক্সবাজার শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠে প্রতিবাদকারীদের দম্ভুক্তি দেখালেন ট্রাফিক পুলিশের ASI

কক্সবাজার শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠে প্রতিবাদকারীদের দম্ভুক্তি দেখালেন ট্রাফিক পুলিশের ASI

139
SHARE

বিশেষ প্রতিবেদক(১৪ মে) :: জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে উল্টো প্রতিবাদকারীদের দম্ভুক্তি দেখালেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইউসুফ। এ নিয়ে জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রোববার (১৩ মে) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের প্রাচীন শহীদ মিনারে এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের পালের দোকানের সামনে জেলার সবচেয়ে প্রাচীন শহীদ মিনারের উপর দাঁড়িয়েই কর্তব্য পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের ১ জন সদস্য। দায়িত্ব পালনের এক ফাঁকে ওই কনস্টেবলকে শহীদ বেদিতে জুতা পায়ে উঠতে দেখে কক্সবাজার শহর ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী আপন দাশ তাকে শহীদ বেদি থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করেন। এতে তেলে বেগুনে জ¦লে উঠে ওই পুলিশ সদস্য।

এসময় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদা খানম, ইসমত জাহান জো, শহর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভজিৎ রুদ্র ও সাধারণ সম্পাদক তনয় দাশ প্রতিবাদ জানালে তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করে এএসআই ইফসুফ। পরে এএসআই ইউসুফ নিজেই জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে উঠে দম্ভুক্তি দেখান।

শহর ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তনয় দাশ জানিয়েছেন, কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে প্রাচীন শহীদ মিনারটি সংরক্ষের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে আসছি। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের এমন কর্মকান্ড দেখে তিনিসহ উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়েছেন। বিষয়টি নজরে এনে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা ও শহীদ মিনার সংরক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান এই ছাত্র ইউনিয়ন নেতা। অন্যথায় শহর ছাত্র ইউনিয়ন বিষয়টি নিয়ে রাজপথে কর্মসূচির ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে।

জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অর্পন বড়–য়া জানিয়েছেন- ঘটনার কিছুক্ষণ পরই তিনি বিষয়টি কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের প্রধান বাবুল কুমার বণিককে অবহিত করেছেন এবং তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন।

রিপোটার্স ইউনিটি কক্সবাজারের সভাপতি এইচএম নজরুল জানিয়েছেন, একজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তিনি কিভাবে জুতাপায়ে শহীদ মিনারে উঠেন। এটি অত্যন্ত দু:খজনক। তিনি ইতিপূর্বে কক্সবাজারের একজন কর্মরত সাংবাদিকের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। অথচ তার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেননি। কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া আচরণে সাধারণ মানুষ দিন দিন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল কুমার বণিক জানিয়েছেন- এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

SHARE