Home কক্সবাজার পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী ননদীকে হত্যা চেষ্টা, পুকুরে ডুবে শিশু’র মৃত্যু

পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী ননদীকে হত্যা চেষ্টা, পুকুরে ডুবে শিশু’র মৃত্যু

119
SHARE
নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১৫ মে) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় বাকপ্রতিবন্ধী (বোবা) ননদীকে পানির সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে এক পাষন্ড ভাবী। মুমর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া ডাঃ মুজিবুর রহমানের ক্লিনিকে ভর্তি করে। চিকিৎসক জানিয়েছেন তিনি এখনো শংকামুক্ত নয়।
(১৪ মে) সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিলহাসুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা পাষন্ড ওই মহিলাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এদিকে খালা মনিকে দেখতে সকালে মায়ের সাথে হাসপাতালে যান ভাগিনা। পরে বাড়িতে গিয়ে খেলার ফাঁকে পুকুরে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ওই ভাগিনার। দু’পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতান।
জানা গেছে সোমবার রাতে ভাবি  তাহমিনা আক্তার ও ননদী রিনা আক্তার (২০) খৈয়ের লাডু খান। রিনা ভাবির কাছে পানি চায়। এ সময় ওই পাষন্ড ভাবি কৌশলে গ্লাসে পানির সাথে বিষ মিশিয়ে দেয়। পানি পান করার কিছুক্ষনের মধ্যে ব্যাথায় ছটফট করে বাকপ্রতিবন্ধী রিনা। তাহমিনা ওই এলাকার নুরুন্নবীর স্ত্রী।
রিনার মেঝ ভাবী বুলুআরা জানায়, রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে তাদের বাড়িতে যাই। রিনা মাটিতে গড়াগড়ি করছে। মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ আসছে। রিনা ইশারায় বলেছে তাহমিনা পানির সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে। তবে তাহমিনা বলেছে সে কিছু জানেনা। রিনা নিজেই বিষ খেয়েছে। তার কথায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা  তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
রিনার মা মরিয়ম জানায় আমার বোবা মেয়েকে পুত্রবধু মেরে ফেলতে চেয়েছে। ছেলে চট্টগ্রামে চাকুরি করে। পুত্রবধুসহ তিনজন এখানে থাকি। বউ শহরে চলে যেতে চায়।
এনিয়ে ঘরে বাকবিতন্ডা লেগে থাকে। অপর ছেলেরা বউ বাচ্চা নিয়ে আলাদা ঘরে থাকে। ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম জানায় বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানায় পুলিশ পাঠাচ্ছি। ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে হাসপাতালে ছোট বোনকে দেখতে আসে বড় বোন সেতেরা বেগম। মায়ের সাথে আসে ৫ বছর বয়সের ইয়াসিন। দুপুরে হাসপাতালে স্বজনদের জন্য খাবার আনতে ইয়াসিনকে নিয়ে বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ায় নিজ বাড়িতে ফিরেন সেতেরা।
সেতেরা বেগম জানায়, হাসপাতালে খাবার নেয়ার জন্য রান্না করছিলাম। কোন এক সময় ইয়াসিন খেলের ছলে পুকুরে পড়ে যায়। উদ্ধার করে ডাঃ মুজিবের ক্লিনিকে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষনা করেন।
জানা গেছে গত একবছর আগে বিলহাসুরা এলাকার মৃত,আহমদূর রহমানের ছেলে নুরুন্নবীর সাথে বিয়ে হয় বারবাকিয়া ইউনিয়ন মাতবর পাড়ার তাহমিনার। ইয়াছিন আরাফাত সবজীবন পাড়ার শাহদাত হোসেনের ছেলে।
SHARE