Home শীর্ষ সংবাদ খুলনা সিটি নির্বাচন : নৌকার প্রার্থী অাবারও বিজয়ী

খুলনা সিটি নির্বাচন : নৌকার প্রার্থী অাবারও বিজয়ী

129
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ মে) :: খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে অাবারও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টিতে তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট। তিনটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি ও কারচুপি হয়েছে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।  সন্ধ্যায় ভোট গণনা চলাকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জালিয়াতি, কারচুপি, ভোট ডাকাতির ফলাফল খুলনাবাসী মেনে নেবে না।  অন্তত ১০০টি কেন্দ্রে ব্যাপকমাত্রায় জালিয়াতি হয়েছে। এসব কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট নিতে হবে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে একযোগে সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সংঘাত না ঘটলেও জাল ভোট প্রদান, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। জোরপূর্বক প্রবেশ করে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে তিনটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের শেষ দিকে একটি কেন্দ্রে গোলযোগ ঠেকাতে ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিস রহমান জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ২০২ নং ইকবালনগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের একটি বুথে যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের ৫০-৬০ কর্মী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে প্রকাশ্যে ১১৫টি ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলেন। এ কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। কেন্দ্রটিতে মোট ভোট রয়েছে ২ হাজার ২১টি।

এছাড়া ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে ৩১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ভোটকেন্দ্র ও লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্র দুটিতে যথাক্রমে ১ হাজার ৬৯১ ও ২ হাজার ১৬টি ভোট রয়েছে। স্থগিত হওয়া তিন কেন্দ্রে মোট ভোট আছে ৫ হাজার ৭২৮টি।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ২১ নং ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী মোল্লা ফরিদ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুজ্জামান মিয়া স্বপনের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ২২ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সারের এজেন্ট আলী আকবরকে মারধর করা হয়েছে। এ কারণে ওই ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হলেও পরে আবার ভোট নেয়া হয়।

৩০ নং ওয়ার্ডে রূপসা স্কুল কেন্দ্রেও ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট সেলিম কাজীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে মহানগরীর জিলা স্কুল কেন্দ্রে আলী আকবরকে মারধর করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর সমর্থকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খালিশপুর ১১ নং ওয়ার্ডের জামিয়াহ তৈয়্যেবাহ নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে সহোদর সিরাজকে কুপিয়ে আহত ও আলমকে মারধর করা হয়। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ওয়ার্ডে জামিয়া ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী জামান মোল্লা জেলিনের এজেন্ট আসাদ ও হাবিবকে সকালেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।

রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ইবনুর রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ২০-২৫ জন যুবক জোরপূর্বক কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিক র্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেয়া হয়। তারা এলে যুবকরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হয়।

বিকাল পৌনে ৪টায় খালিশপুর উত্তর কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, সেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা জাল ভোট দিচ্ছে। এ গুজব শুনে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা স্কুলের গেট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সোনালী সেন।

এছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভাংচুর করা হয়েছে ৩১ নং ওয়ার্ডের হাজি আব্দুল মালেক ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের নির্বাচনী ক্যাম্পও।

২ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ: নগরীর সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআইয়ের জসীমউদ্দীন হোস্টেলের অস্থায়ী কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৯৯, আর দ্বিতীয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৭৯। গণনার ঝামেলা না থাকায় দুটি কেন্দ্রের ফলাফল ১ ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ করা হয়।

পিটিআই জসীমউদ্দীন হোস্টেল কেন্দ্রে ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ৫০৫ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৫১১ ভোট। অন্যদিকে সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে খালেক পেয়েছেন ২৭২ ও মঞ্জু ১৯৯ ভোট। দুটি কেন্দ্রের মোট ফলাফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পেয়েছেন ৭৭৭ ভোট ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ৭১০ ভোট।

এটা জনগণের রায় নয়, এটা প্রশাসনের সাজানো রায়: মঞ্জু

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেছেন: এটা জনগণের রায় নয়, এটা প্রশাসনের সাজানো রায়। এই ভোটকে কারচুপির ভোট বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিক ফলাফল সামনে আসার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।  মঞ্জু বলেন: এই ভোটে খুলনাবাসীর জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। এই ফলাফলকে আমি প্রত্যাখ্যান করছি।

নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন মঞ্জু।  সকাল ১১টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং জোট নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন তিনি।

এদিকে বিজয়ী প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় পরাজিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার উন্নয়নে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোটে পরাজিত করেন নৌকার প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।

২৮৬টি কেন্দ্রের গণনা শেষে খালেক পান ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট আর তার বিপরীতে মঞ্জু পান ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট।

SHARE