Home মহাকাশ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন : দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বাংলাদেশের

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন : দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বাংলাদেশের

131
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৬ মে) :: দক্ষিণ এশিয়ায় বেসরকারি খাতে তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। দেশ’র জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণ করা এই ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’ ১১ মে রাতে ‘স্পেসএক্স’-এর আপগ্রেড ভার্সন রকেট ‘ফ্যালকন ৯’-এর মাধ্যমে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে।

এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃত্রিম উপগ্রহের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।

ইউরোপের সর্ববৃহৎ স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারক ফরাসী-ইটালীয় কোম্পানি থালেস এলেনিয়া স্পেস বাংলাদেশের জন্য স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে। এতে আছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার, যেগুলোর অর্ধেক প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ভাড়া দেয়া হবে যোগাযোগ সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য। কাজটি এই অঞ্চলে এতদিন শুধু ভারতই করে আসছিলো।

কাছেই বাংলাদেশের এই স্যাটেলাইট দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে তীব্র আর্থিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের ঘটনা একটি স্বাগত জানানোর মতো বিষয় হলেও তা মহাকাশ জগতে অনেক এগিয়ে থাকার দাবিদার জন্য ভারতের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সারা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে মহাকাশ সেবা কাজে লাগানোর প্রবণতা বাড়ছে। একটি ফরাসী মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার স্যাটেলাইটের চুক্তি সই করে ২০১৫ সালে। এটা ভারতের সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের কয়েক বছর আগের ঘটনা।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের প্রস্তাব ভারতও দিয়েছিলো। কিন্তু সে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটির ওজন ৩,৫০০ কেজি, যা উৎক্ষেপনের ক্ষমতা ভারতের নেই।

ভারতের জিএসএলভি এমকে-৩ ৪,০০০ কেজি ভার বহন করে জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিট (জিটিও)-তে যেতে পারে। তবে তা মাত্র গত বছর প্রথম যাত্রা করে এবং এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত নয়।

অন্যদিকে, পরীক্ষিত ফ্লাইট রেকর্ডের অধিকারী জিএসএলভি-২ মাত্র ২,৫০০ কেজি ভার নিয়ে কক্ষপথের নির্দিষ্ট স্থানে যেতে পারে।

তাছাড়া ফরাসী কোম্পানি বাংলাদেশকে নিশ্চয়তা দেয় যে প্রাইমারি ল্যান্সার আরিয়ান ৫ পাওয়া না গেলে তাৎক্ষণিভাবে স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ পাওয়া যাবে। মজার ব্যাপার হলো ভারতও তার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের জন্য আরিয়ান ৫-এর উপর নির্ভর করে, যেমন: জিএসএটি-১১।

একটি বিশ্বাসযোগ্য উৎক্ষেপক না থাকায় বাংলাদেশে একটি বড় অংকের ব্যবসাও হারিয়েছে ভারত। এই স্যাটেলাইট প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ ফ্রান্সের কাছ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যেসব স্যাটেলাইট ঋন দেয় তার চুক্তিতে সাধারণত ঋণদাতা দেশকে কাজ দেয়ার কথা উল্লেখ থাকে।

বাংলাদেশ তার স্যাটেলাইটের কিছু স্পেকট্রাম প্রতিবেশি দেশগুলোর কাছে ভাড়া দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ফলে বাংলাদেশের মহাকাশ কোম্পানিটি দক্ষিণ এশিয়ার নতুন আঞ্চলিক হাবে পরিণত হতে যাচ্ছে।

ভারত এখনো তার অভ্যন্তরিণ চাহিদা মেটাতে বিদেশী স্যাটেলাইটের উপর নির্ভরশীল। আর এখন নিজের আঙ্গিনা বলে দাবি করা দেশগুলোর কাছ থেকেই স্যাটেলাইট সেবা ব্যবসায় কঠিন প্রতিযোগিতায় পড়তে যাচ্ছে। 

SHARE