Home কক্সবাজার রমজান মাসে কক্সবাজার শহরের অসহনীয় যানজট-রুঁখবে কে?

রমজান মাসে কক্সবাজার শহরের অসহনীয় যানজট-রুঁখবে কে?

199
SHARE

সাইফুল ইসলাম(১৬ মে) :: এটি পর্যটন নগরীর চিত্র। কক্সবাজার শহরের তীব্র যানজট কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। ফলে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে স্থানীয় ও দেশি-বিদেশী পর্যটকেরা। কাল থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। মাহে রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নিষ্কন্ঠক পথ চলতে চায়। যানজটমুক্ত শহর করতে ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভার প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই শহরে যানজট লেগেই থাকে । ছোট-বড় গাড়ির যত্রতত্র পার্কিং ও প্রধান সড়কের দুই পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান, ফুটপাতে দখল, প্রধান সড়কের আশপাশে সিএনজির মিনি টার্মিনাল, টমটম ও বড় বড় বাস-ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে শহরটিতে যানজট স্থায়ীভাবে রুপ নিয়েছে। প্রত্যহ দিনের প্রায় ১ থেকে ২ ঘন্টা সময় যানজটের কারণে থমকে থাকে জনজীবন। এতে কক্সবাজারের উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

জানা যায়, শহরের অভ্যন্তরে প্রায় ছয়টি স্থানে বেশির ভাগ যানজট লেগে থাকে। তৎমধ্যে বার্মিজ মার্কেট বৌদ্ধমন্দির সড়কের চৌরাস্তার মোড়ে, বাজারঘাটা আইবিপি রাস্তার মাথায়, পেট্রোল পাম্পের পাশে, খুরুশকুল রাস্তার মাথায়, পৌরসভার সামনে প্রধান সড়কে।

এদিকে কক্সবাজারে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও যে কয়েকজন আছে তারাও শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে গাড়ি তল্লাশীর নামে অন্য ধান্ধায় ব্যন্ত থাকে- এ অভিমত সচতেন মহলের।

শহরের পিটিস্কুল থেকে টমটম যোগে বাজারঘাটা আসতে যেখানে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট, সেখানে যানজটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ ঘন্টারও বেশি সময় পার করছে বলে জানান যাত্রীরা।

যাত্রীরা জানান, ট্রাফিক পুলিশ ইচ্ছা করলে শহরকে যানজটমুক্ত করতে পারেন। কিন্তু এরা প্রতিনিয়তেই যানজট নিরসনের চেয়ে সিএনজি, টমটম, মোটরসাইকেল ও অনুমোদনহীন গাড়ি থেকে টাকা আদায়ে ব্যস্ত থাকেন।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভারুয়াখালীর বাসিন্দা মো. জয়নাল আবদেীন বলেন, এই কক্সবাজার শহর নাকি পর্যটন এলাকা। এখানে রাস্তার কোন নিয়মনীতি নেই। দিন দিন সড়কে যানজট বাড়তেই দেখা গেছে। এ যানজটের কবলে পড়ে বার্মিজ মার্কেট থেকে হাসপাতালে আসতে ১ ঘন্টা সময় লাগছে।

শহরের পিটিস্কুল এলাকার সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, “সরকারী বন্ধ ছাড়া রুমালিয়ারছড়া থেকে প্রতিদিন আমাকে ব্যাংকে যেতে হয়। যে ব্যাংকে যেতে ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে, সেখানে প্রায় ১ ঘন্টা পূর্বে বাসা থেকে বের হতে হয়। তা না হলে ঠিক মতো একদিনও ব্যাংকে উপস্থিত হতে পারিনা”।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, যে কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায় তারা আবার আশপাশের চায়ের দোকানে আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন। সড়কে এতো যানজটের মাঝেও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন মহলের কোন মাথা ব্যথা না থাকাটা খুবই দু:খজনক। এভাবে কখনো বিশ^মানের পর্যটন নগরী হয়ে উঠবেনা কক্সবাজার।

মনিরুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী জানান, যানজটতো মানুষের জন্য নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে রয়েছে। এ যানজটের কবলে পড়ে প্রতিদিন কর্মজীবন থেকে ২ থেকে ৩ ঘন্টা অপচয় হচ্ছে। তিনি বলেন, “পেশাগত কাজে আদালতে যেতে অর্ধ ঘন্টা সময়ের জায়গায় এখন লাগে প্রায় ২ ঘন্টা। অসহনীয় যানজটের কারনে অনেক সময় কর্মস্থলে উপস্থিতও হতে পারিনি”।

এদিকে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর বিনয় কুমার বড়–য়া বলেন, “পর্যটন নগরী হিসেবে চাহিদা অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় মাঝে মধ্যে একটু যানজট হয়ে থাকে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে আসছি যানজটমুক্ত রাখার”।

নিউজটি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় পত্রিকায় ছাপানো নিষেধ।

SHARE