Home অর্থনীতি দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট প্রকট হবে : BIBM

দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট প্রকট হবে : BIBM

126
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৬ মে) :: দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণ যেভাবে বাড়ছে, ব্যাংকে আমানত সেভাবে বাড়ছে না। এ অবস্থায় সাবধান না হলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট আরো প্রকট হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

বিআইবিএমের উদ্যোগে ‘ট্রেজারি অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় গতকাল গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, ঋণের প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে, তার অনেক কম হারে বাড়ছে আমানত। ২০১৫ সালের জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭ শতাংশ আর আমানত প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ঋণের প্রবৃদ্ধি যখন ১৮ দশমিক ১ শতাংশ, তখন আমানতের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। এ অবস্থা চলতে থাকলে তারল্য সংকট আরো বাড়বে।

রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান।

সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী। স্বাগত বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং দক্ষ ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের মুজাফফর আহমেদ চেয়ার প্রফেসর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি, কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, প্রাইম ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল খান চৌধুরী, বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ বারিকুল্লাহ।

কর্মশালায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিআইবিএমের অধ্যাপক মো. নেহাল আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের গবেষক দল। এতে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের প্রভাষক রিফাত জামান সৌরভ, ইস্টার্ন ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্রেজারি মেহেদী জামান এবং ব্যাংক এশিয়ার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্রেজারি আরেকুল আরেফিন।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ব্যাংকের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংককে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে ডলারের দাম একটু ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো বিষয়টি নজরদারি করছে, যাতে এটি আর না বাড়ে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বর্তমানে অ্যাডভান্স ডিপোজিট (এডি) রেশিও ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হলে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে এডি রেশিও ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ হবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্যাংকাররা ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতার পরিচয় না দিলে পুরো ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, সাধ্যের বাইরে ঋণপত্র খুলে বিভিন্ন ব্যাংক পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা সংস্থানের জন্য অন্য ব্যাংক থেকে তহবিল চায়। এর ফলে বাজারে ডলারের ওপর চাপ পড়ে। ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় কর্মরত কর্মীদের ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কাছে সঠিক তথ্য দিতে হবে। এটি না করলে বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার ওপর জোর দেন অধ্যাপক ইয়াছিন আলি। তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় ভুল নীতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংক ২০০৭ সালে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল করলে চলবে না।

আহমেদ কামাল খান চৌধুরী বলেন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় জড়িত ব্যাংকারদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং শীর্ষ ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বৈশ্বিক তারল্য গতিবিধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

SHARE