Home কক্সবাজার রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে থাকতে হতে পারে : ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে থাকতে হতে পারে : ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ

149
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৮ মে) :: বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা শিগগিরই মিয়ানমারে ফিরতে পারবে না। এ ‘নির্মম বাস্তবতার’ ব্যাপারে দাতাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গ্রুপ।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্যাম্পে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থানের সময়কাল দীর্ঘ হতে পারে। তাই তাদের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করাটা জরুরি।

ব্রাসেলস-ভিত্তিক এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গ্রুপটি বলেছে, শরণার্থীদের বিশাল অংশ নিকট ভবিষ্যতে ফিরতে পারবে না, এটা একটা নির্মম বাস্তবতা, তা মিয়ানমার যত আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখেই পড়ুক না কেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য মানবিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি দাতাদের কক্সবাজার জেলার উন্নয়নেও বিনিয়োগ করা উচিত। বিশেষ করে যেখানে শরণার্থী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে তাদের সমন্বয়ের জন্য একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

আইসিজি তাদের রিপোর্টে বলেছে, এ ধরণের বিনিয়োগ করা গেলে সেটা আশ্রয়দাতা দেশের উপর থেকে চাপ কমাবে এবং শরণার্থীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনমত গড়ে ওঠাও ঠেকানো যাবে।

‘দ্য লং হল এহেড ফর মিয়ানমার’স রোহিঙ্গা রিফিউজি ক্রাইসিস’ শিরোনামের রিপোর্টটি ১৬ মে প্রকাশিত হয়।

এদিকে,পরিচয় যাচাই-বাছাই করে ৮,০৩২ জন রোহিঙ্গার যে নতুন তালিকা মিয়ানমারের কাছে দিয়েছিল বাংলাদেশ সেখান থেকে ১,১০১ জনকে ফেরত নিতে চায় দেশটি।

এর আগে পরিচয় যাচাই করা ৭৭৮ জন মুসলমান এবং ৪৪৪ জন হিন্দু রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেওয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে থেকে ‘যাচাইকৃত যথাযথ তথ্য’ চেয়েছে।

একজন কর্মকর্তার মতে, বাংলাদেশ চায়- রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসিত হতে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, ধ্বংস করে দেওয়া রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুনর্নির্মাণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও চলাফেরার ওপর তাদের স্বাধীনতার পরিবেশ দেশটি তৈরি করুক।

মিয়ানমারের গণমাধ্যম জানায়, (১৭ মে) ঢাকায় দেশ দুটির যৌথ কার্যকরী দলের বৈঠক শেষে মিয়ানমার দাবি করেছে যে তারা বাংলাদেশ থেকে ‘প্রকৃত রোহিঙ্গাদের’ ফেরত নিতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ।

যৌথ কার্যকরী দলের তৃতীয় বৈঠক মিয়ানমারের রাজধানী নেপিতোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

SHARE