Home শীর্ষ সংবাদ বিএনপির ইফতার মাহফিলে আত্মগোপনে থাকা এক ঝাঁক জামায়াত নেতা

বিএনপির ইফতার মাহফিলে আত্মগোপনে থাকা এক ঝাঁক জামায়াত নেতা

167
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৯ মে) :: রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে আয়োজিত বিএনপির ইফতার মাহফিলে অংশ নিলেন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা জামায়াতের এক ঝাঁক নেতা। পাশাপাশি নব গঠিত রাজনৈতিক জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’-এর শীর্ষ চার নেতাও অংশ নিয়েছেন বিএনপির এই ‘রাজনৈতিক’ ইফতারে।

রমজানের দ্বিতীয় দিন শনিবার (১৯ মে) রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করে বিএনপি। খালেদা জিয়াবিহীন এই ইফতার মাহফিলে বিএনপির প্রায় ৫০ জন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। ইফতারে অংশ নেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১০ সাল থেকে মধ্যম সারির যেসব নেতা আত্মগোপনে ছিলেন তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন নেতা শনিবার বিএনপির ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

এদের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে ইফতার গ্রহণ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। আর মঞ্চের সামনের একটি টেবিলে ইফতার গ্রহণ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুল হালিম, মশিউল আলম, মো. সেলিম উদ্দীন, নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ ৯ জন নেতা। এরাই মূলত এখন জামায়াতের কাণ্ডারি।

ইফতারের আগে জামায়াতের এসব নেতার সঙ্গে কুশল বিনময় করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

টানা প্রায় ৮ বছর আত্মগোপনে থেকে কয়েক মাস আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। অন্যদিকে গ্রেফতার না হলেও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দীন।

আত্মগোপন ও কারাগারে থাকা এসব জামায়াত নেতা দীর্ঘদিন পর লোকসম্মুখে এলেন বিএনপির ইফতারে শরিক হতে। সঙ্গে নিয়ে এলেন আত্মগোপনে থাকা দলের অন্য নেতাদেরকেও।

সংক্ষিপ্ত আলাপে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘হ্যাঁ টানা ৪ বছর পালিয়ে থাকার পর আবার আপনাদের মাঝে এলাম। আমার অন্য সহকর্মীদের ব্যাপারটাও প্রায় একই রকম।’

এদিকে বিএনপির এই ইফতার মাহফিলে নবগঠিত রাজনৈতিক জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’-এর শীর্ষ চার নেতাও অংশ নেন।

এদের মধ্যে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী) বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে ইফতার গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্য’র সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মঞ্চের সামনে অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত টেবিলে ইফতার গ্রহণ করেন।

অবশ্য ইফতারের আগে যুক্তফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতাদের মঞ্চে আসন গ্রহণের জন্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল বার বার অনুরোধ করেন। কিন্তু বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না সে অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে নিজ নিজ দলের নেতাদের নিয়ে সংরক্ষিত টেবিলেই ইফতার গ্রহণ করেন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে ইফতার করেন এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহম্মদ ইবরাহিম, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, ইসলাম ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব, মুসলীম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ইসলামী পার্টির সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, জাগপার সভাপতি রেহানা প্রধান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডিএল-এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দি আহমেদ মনি, পিএল-এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহবুব হোসেন ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে বসে ইফতার করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সভাপতি মুফতি মোহম্মদ ওয়াক্কাস, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকার বুল বুল চৌধুরী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান ও এনপিপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে মঞ্চে ইফতার গ্রহণ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

হলরুমে ইফতার করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মোশাররফ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, আ ন হ আখতার হোসেইন, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, নাজমুল হক নান্নু, শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিছ জাহান শিরিন ও শামা ওবায়েদসহ অনেকে।

ইফতারের আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতির সংকটকালে অতীতে যে নেতা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছেন সেই নেতা আজ কারাগারে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের এই দুঃসময়ে আমরা সবাই প্রত্যাশা করি জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাদের মূল্যবান অবদান রাখবেন এবং সংকট উত্তরণে তারা নেতৃত্ব দেবেন। আমরা এ কথা সব সময় বলে আসছি এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই এবং আমাদের অধিকার আদায় করে নিই।’

SHARE