Home কক্সবাজার রোহিঙ্গাদের তুমব্রুর শূন্যরেখা ছাড়ার নির্দেশ মিয়ানমার বিজিপি’র

রোহিঙ্গাদের তুমব্রুর শূন্যরেখা ছাড়ার নির্দেশ মিয়ানমার বিজিপি’র

155
SHARE

মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া(১৯ মে) :: মিয়ানমারের তুমব্রুতে ১৪৪ ধারা জারি করে উখিয়া সীমান্তের তুমব্রুর কোনারপাড়া শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের সরে যেতে আবারো মাইকিং করেছে মিয়ানমারের বিজিপি।

শনিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে বিজিপির টহল জোরদারের পাশাপাশি কয়েক দফা মাইকিং করা হয়েছে।

এ সময় বিজিপি শূন্যরেখায় অবস্থান করা সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে সরে গিয়ে বাংলাদেশের অন্য কোনো স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে। ক্যাম্পে ছুঁড়ে মারা হয় ইট-পাটকেলও মদের বোতল। মাইকিংয়ের পর থেকে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

বিজিবি ও রোহিঙ্গারা জানায়, দেড় মাসের মাথায় আবারো সীমান্তের তুমব্রু পয়েন্টে সেনা-বিজিপির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে মিয়ানমার। সকাল থেকে নতুন করে সাতটি পিকআপ ভ্যানে করে সেনা-বিজিপি জড়ো হয়েছে সীমান্ত অঞ্চলে। অস্ত্র নিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার কাছেই অবস্থান নেয় তারা।

কাঁটাতারের বেড়ার ওপাশে পাহাড়ের চূড়ায় প্রায় ৩০ গজ পরপর দূরত্বে স্থাপন করা বাংকার থেকে মাইকিং করা হচ্ছে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সরে যেথে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবি কর্মকর্তারা।

এ দিকে সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। বান্দরবানে মিয়ানমারের ১৭২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিজিবি সতর্ক প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে।

রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, বেশ কিছুদিন নীরব থাকার পর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আবারো তাদের তাড়ানোর জন্য তত্পর হয়ে মাইকিং করার ফলে জনমনে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় রোহিঙ্গাদের সরাতে একইভাবে মাইকিং করেছিল। সে সময় রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। পরে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমদ বলছেন, মাইকিং করে মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা বলছে রোহিঙ্গারা যে স্থানে অবস্থান করছে ওই স্থানটি মিয়ানমারের। তাই ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গাদের অন্যত্রে সরে যাওয়ার জন্য বলছে মিয়ানমার। যার ফলে পবিত্র রমজান মাসে রোহিঙ্গাদের আবারো আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বিজিবিকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পতাকা বৈঠকের পর থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভালো ছিল। নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি করায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসী ভীতির মধ্যে রয়েছে।

SHARE