Home শীর্ষ সংবাদ সৌদি আরবের মক্তবে আটকে আছে শত শত বাংলাদেশি মেয়ে’

সৌদি আরবের মক্তবে আটকে আছে শত শত বাংলাদেশি মেয়ে’

198
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২১ মে) :: সৌদি আরবে হাজার হাজার মক্তব আছে, সেখানে বাংলাদেশি শত শত মেয়ে আটকে আছে। আপনারা তাদের রক্ষা করেন।’নিজ মাতৃভূমিতে পা রেখেই সাংবাদিকদের কাছে এ আর্তি জানান সৌদি আরব থেকে দেশে আসা মরিয়ম বেগম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারকে বলেন সৌদি আরবে নারীদের ভিসা বন্ধ করে দিতে। আমরা তো বাইচ্যা ফিরেছি, সবাই ফিরতে পারবে না। এখান থেকে যাওয়ার সময় হাসিমুখে যায় অথচ ওখানে গিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা মক্তবে মার খায়।’

মরিয়ম বেগম শুধু নন  তার সঙ্গে শনিবার (১৯ মে) একই ফ্লাইটে আসেন আরও ৬৫ জন। এরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে নারী গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে নিজের আর পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ভিনদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

কিন্তু তাদের ভাগ্য ফেরেনি, বরং কোনোভাবে পালিয়ে বেঁচে এসেছেন তারা। সঙ্গে আর কিছুই নেই, কারও হাতে একটা হাত ব্যাগ, সঙ্গে একটি পলিব্যাগ। নেই মোবাইল ফোন, কারও আবার মোবাইল থাকলেও তাতে টাকা নেই যে বাড়িতে ফোন করে জানাবেন। কেউবা আবার এসেছেন একেবারেই এক কাপড়ে।

কেউবা আবার দেশে ফিরে এলেও বাড়িতে যোগাযোগ করছেন না, ঠাঁয় দাঁড়িয়েছিলেন বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে। বলছেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে গেছি-কিন্তু এখন বাড়িতে যোগাযোগ করতে লজ্জা করছে।’

মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি নির্যাতিত হয়েই এসছি। ওখানে যারা যায়, সবাই এভাবেই থাকে-এছাড়া আর কোনো উপায় নাই। তারা মারধর করে, অত্যাচার করে, খুবই জঘন্য। মক্তবতো খুবই খারাপ, সেখানে মেয়েদের ইচ্ছামতো পেটায়। একবছর ছিলাম ওই সময় পুরোটা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।’

এক হাজার রিয়াল বেতনে সৌদি যান মরিয়ম, তবে আসার আগে দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করার পর পুরো বেতন মেলে তার।

কোন অ্যাজেন্সির মাধ্যমে গিয়েছিলাম জানতে চাইলে মরিয়াম বলেন, ‘আমি অত কিছু বলতে পারব না। শুধু মনে আছে, ফকিরাপুলে অফিস আর ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম মিরাজ দালালকে এইটুকু মনে আছে।’

বাসাবাসির ‘এ টু জেড’ সব কাজ করা তো মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি যে বাসাতে ছিলাম সেখানে ১০ ঘরের এক বাড়ি। প্রত্যেকটা ঘর পরিষ্কার করতে হতো, বাইরেও। সেখানে সকালে নাস্তা দিতো না, দুপুরে যে ভাত দেয়-তাতে পেট ভরে না, বাথরুমে আটকে রাখত। এরপর কোনও রকমে সেই বাসা থেকে পালায়ে রাস্তায় এলেই পুলিশ ধরে ফের মক্তবে বিক্রি করে দেয়। গলায় পেটে এখনও মারের দাগ আছে।’

মক্তব কী জানতে চাইলে দেশে ফেরত আসা মোর্শেদা বলেন, ‘বাসাবাড়িতে নির্যাতনের কারণে যে সব মেয়ে পালিয়ে আসে তাদের পুলিশ ধরে মক্তবে দিয়ে দেয়। সেখানে মেয়েদের নিয়ে ব্যবসা হয়, অনেককে মারধর করা হয় ওখানে।’

‘মক্তব্যে এমন অনেক মেয়ে আছে যাদের আসতে দিচ্ছে তারা। তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে।’

ওখানে কেন মেয়েদের দেওয়া হয় জানতে চাইলে অপর নারী ফাতেমা বলেন, ‘অনেক সময় বাসাবাড়ির মালিকরাও মেয়েদের মক্তবে তুলে দেয়, যেন তারা মার খেয়ে আবার ভালোভাবে কাজ করে।’

গত এক বছরে ৪ বাসায় কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি মরিয়ম বলেন, ‘কাজে টিকতে দেয় না। খাইতে দেয় না, মারধরা করে, নানান অইত্যাচার করে।’

অথচ যাওয়ার আগে দালাল বলছিল, স্বামী-স্ত্রীসহ দুই বাচ্চার সুন্দর সংসার, কোনো ঝামেলা হবে। কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর আমি কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে যাই যেটা ছিল কারাগারের মতো, সেখানে ১০ দিন বন্দি ছিলাম। ওরা বলেছিল ৬ লাখ টাকায় আমাকে কিনে এসেছে, এই টাকা দাও, তারপর বাংলাদেশ যাও ‘

এরপর কোনোরকমে বের হয়ে তিন বাসায় কাজ করেছি। সর্বশেষ বাসায় সাত মাস কাজ করছি, এ বাসার মালিক একটা ফোন দেয়। তখন স্বামীকে সবকিছু জানাই। এরপর কেস করে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে ছিলাম- আজ ফেরত এলাম।

‘অনেক কষ্টে পড়ে বিদেশে গিয়েছিলাম, গরিব মানুষ। কিন্তু সব হারায়ে আজ ফেরত আসছি-এভাবে যেন কোনও মেয়ে না যায় সৌদিতে, আপনারা লেখেন’ বলেন সৌদি আরব থেকে দেশে আসা ফাতেমা খাতুন।

SHARE