Home কক্সবাজার মাদকবিরোধী অভিযান : ক্রসফায়ার নিয়ে যা বললেন এমপি বদি

মাদকবিরোধী অভিযান : ক্রসফায়ার নিয়ে যা বললেন এমপি বদি

340
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২২ মে) :: মাদক ব্যবসায়ীদের ক্রস ফায়ারে দেওয়ার পক্ষে বলে নিজের মত জানালেন মাদক ব্যবসা নিয়ে আলোচিত ( কক্সবাজার-৪ আসন) সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। তিনি বলেন, ‘ক্রসফায়ার আরও আগে শুরু হওয়া উচিত ছিল।

মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য আমাদের সবারই সহযোগিতা করা প্রয়োজন। যুব সমাজকে বাঁচাতে এটা অপরিহার্য।’

মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে মঙ্গলবার (২২ মে)  তিনি এসব কথা বলেন। মোবাইল ফোনে নেওয়া তার সাক্ষাৎকারটি কক্সবাংলা’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী চলমান অভিযান সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

আবদুর রহমান বদি:  মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ও ক্রসফায়ার আরও অনেক আগে শুরু করা দরকার ছিল। যখন মাদক নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল, তখনই এই অভিযান দরকার ছিল। এখন যে অভিযান হচ্ছে, তাও খুব ভালো। কারণ এটা না করলে সমাজ তো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন : মাদকের ব্যবসা কারা করছে?

আবদুর রহমান বদি:  বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। এছাড়া এখন যারা মাদকের যারা ব্যবসা করে, তারা সবাই টিএনএজার। ১৭-১৮ বছর থেকে শুরু করে ২৫-৩০ বছরের ছেলেগুলো মাদক ব্যবসায়ী হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ আছে কিনা?

আবদুর রহমান বদি: সরকারের পদক্ষেপ আমার পদক্ষেপ। আর আমার পক্ষ থেকে যা আছে, তা হচ্ছে আমি ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার পক্ষে।

প্রশ্ন : আপনি বা আপনার ভাইদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কে কী বলবেন?

আবদুর রহমান বদি: আমার সম্পর্কে আমি বিস্তারিত সংসদে বলেছি, চ্যালেঞ্জ করেছি। আমি বলেছি, এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। কারও কাছে যদি কোনও তথ্য থাকে, প্রশাসনের কারও কাছে যদি কোনও তথ্য থাকে, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া, সাংবাদিক, প্লাস বাংলাদেশের প্রশাসনের যত গোপন সংস্থা আছে, কারও সঙ্গে ইয়াবা সংক্রান্তে কথা বলেছি, সে রকম কোনও তথ্য থাকলে প্রমাণ করুন।

বিএনপি-জামায়াতের যে লোকগুলো ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে, সেখানে তাদের কোনও নাম নেই। আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই আজ আমার এই অবস্থা। আমার ভাইদের বিরুদ্ধেও কোনও অভিযোগ নেই।

ইয়াবা ব্যবসা করে ধরা পড়ে শামসুন্নাহার জ্যোতি। নাম হয় আমার বোন শামসুন্নাহারের। আমার বোন তো একজন ওসির  ওয়াইফ। শামসুন্নাহার জ্যোতি নামের একটি মেয়ে ইয়াবা ব্যবসা করে ধরা খেয়ে কারাগারে গেছে। কারাগার থেকে বের হয়েছে। আবার ব্যবসা করছে। সেখানে বলা হচ্ছে, আমার বোন শামসুন্নাহারের কথা। এখন কী বলবেন? এই একটি ঘটনা তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আমার ভাইদেরও কোনও নাম নেই। অথচ আমার ভাইদের নামগুলো বলা হয়। যারা প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী, তারা তো কোটি কোটি টাকার মালিক। তারা টাকা-পয়সা খরচ করে সব ম্যানেজ করে ফেলে। সমস্যা হচ্ছে এখানে। যেমন, একজন করিম ইয়াবা ব্যবসা করে, কিন্তু টাকা দিয়ে আরেক করিমকে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এগুলো আয়নার মতো পরিষ্কার। যারা ইয়াবা ব্যবসায়ী, তাদের ঘর-বাড়ি দেখলেই বোঝা যায়। যারা রিকশা চালাতো, পানের দোকানে চাকরি করতো, তারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। পাজেরো গাড়ি চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ থাকার পরও আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার (২২ মে) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। আমরা সেই অভিযোগগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। বদিসহ অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে আপনাদের কাছেও কোনও তথ্য থাকলে আমাদের দিন। বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তথ্য-প্রমাণ নেই।’

SHARE