Home অর্থনীতি শ্রীলংকা-চীন মুক্ত বাণিজ্য আলোচনায় “রিভিও ক্লজ” নিয়ে কঠিন বাধার মুখে

শ্রীলংকা-চীন মুক্ত বাণিজ্য আলোচনায় “রিভিও ক্লজ” নিয়ে কঠিন বাধার মুখে

154
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৩১ মে) :: শ্রীলংকা ও চীনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা কঠিন বাধার সম্মুখিন হয়েছে। ১০ বছর পর এই চুক্তি পর্যালোচনা করতে কলম্বোর দাবি মেনে নিতে বেইজিং রাজি না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে শ্রীলংকার প্রধান বাণিজ্য আলোচক জানিয়েছেন।

ভারত মহাসাগরীয় এই দ্বীপ রাষ্ট্রে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে নগর, বন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করছে চীন। বেইজিংয়ের ‘অঞ্চল ও সড়ক’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

কিন্তু চীনের এই বিনিয়োগ ২ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিকে ঋণের দায়ে ডুবিয়ে দিতে পারে বলে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে চীনের সঙ্গে চুক্তিগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করতে চায় শ্রীলংকা।

অন্য দেশের তুলেনায় চীনে শ্রীলংকার রফতানি একেবারে নগন্য। ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে কলম্বোর বাণিজ্য ঘাটতি বিপুল।

চলতি সপ্তাহে শ্রীলংকার প্রধান বাণিজ্য আলোচক কে. জে. বিরাসিঙ্ঘে বলেন যে ১০ বছর পর কলম্বো এফটিএ পর্যালোচনার অধিকার চাচ্ছে। কিন্তু চীন এতে রাজি নয়। গত বছরের মার্চ থেকে এই চুক্তি নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের কোন বৈঠক হয়নি। কর্‍মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক হলেও তাতে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে বলে বিরাসিঙ্ঘে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। চীন রিভিও ক্লজ বাদ দেয়ার পক্ষে। কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা চায়।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রয়টার্সের অনুরোধে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাড়া দেয়নি।

শ্রীলংকা চাচ্ছে রিভিউ ক্লজের সুযোগ নিয়ে চুক্তির কিছু ধারা-যেগুলো স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতি করছে সেগুলো সংশোধন করতে।

আরেকটি বিরোধপূর্ণ ইস্যু

বিরাসিঙ্গে বলেন, বিরোধের আরেকটি ইস্যু হলো চুক্তিটি সই করার সময় দুই দেশের মধ্যে যেসব পণ্যের বাণিজ্য হতো চীন সেগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর শূন্যশুল্ক দাবি করছে। কিন্তু কলম্বো চাচ্ছে অর্ধেক পণ্যের উপর শূন্যশুল্ক দিতে এবং ২০ বছর সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে পণ্যের পরিমাণ বাড়াতে।

চীন এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে এফটিএ সই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছর মালদ্বীপের সঙ্গে তার এফটিএ সই হয়। তবে, চুক্তিটি তড়িঘড়ি মালদ্বীপের পার্লামেন্টে পাস হওয়ায় তা নিয়ে বিরোধী দলগুলো তীব্র আপত্তি তোলে।

শ্রীলংকা আগে বলেছিলো যে চীনের সঙ্গে এফটিএ সই করার আগে এর অর্থনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে আরো সময়ের প্রয়োজন।

২০১৬ সালে চীন থেকে ৪.২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে শ্রীলংকা। এর বেশিরভাগ পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, মেশিন ও ইলেক্ট্রনিক্স, ধাতব পদার্থ, পরিবহন যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক।

অন্যদিকে, একই সমেয় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে শ্রীলংকার রফতানি ছিলো মাত্র ২১১ মিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে রয়েছে কাপড়, চা, সবজি, জুতা ও রাবার।

২০১৭ সালে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের বিস্তারিত এখনো শ্রীলংকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হয়নি।

২০১৬ সালে শ্রীলংকার মোট বাণিজ্য ঘাটতির অর্ধেকই ছিলো চীনের সঙ্গে। এতে দ্বীপদেশটির চলতি হিসাবে ঘাটতির উপর চাপ তৈরি হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপাত্তে দেখা গেছে।

শ্রীলংকা আলাদাভাবে ভারতের সঙ্গে এফটিএ সইয়ের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই আলোচনাও চলছে ধীর গতিতে। কারণ, এই চুক্তি হলে ভারতীয় পণ্যে শ্রীলংকা বাজার সয়লাব হয়ে যাবে বলে শ্রীলংকার ব্যবসায়ীরা আশংকা করছে।

SHARE