Home কক্সবাজার এমপি বদি কি আর দেশে ফিরবেন ?

এমপি বদি কি আর দেশে ফিরবেন ?

138
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১ জুন) :: ইয়াবা কারবারের অভিযোগে বহুল বিতর্কিত কক্সবাজারের-৪ টেকনাফ-উখিয়া আসনের সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদি দেশ ছেড়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। বলা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ঢাকা ছেড়ে যান। দেশে চলমান ইয়াবাসহ মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলার মধ্যেই খবরটি এলো। অনেকেই বলছেন, বদি আর সহজেই দেশে ফিরছেন না।

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রবিবার রাতে একরামের জানাজায় অংশ নেওয়ার পর আর বদিকে এলাকায় দেখা যায়নি।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চলার সময় সাংসদ বদির হঠাৎ করে সৌদি আরবে যাওয়াটা একধরনের কৌশল। অভিযান থেকে বাঁচতেই তিনি সৌদি আরব গেছেন।আর অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এমপি বদি দেশে ফিরবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া অসুস্থ হওয়ার অজুহাত দেখিয়েও বিদেশে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি সাহেব সৌদি আরব গেছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করবেন।’

উল্লেখ্য, মাদকবিরোধী অভিযানের আগে পাঁচটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমন্বয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের একটি তালিকা তৈরি করে সরকার। সেই তালিকায় মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে সাংসদ আবদুর রহমান বদির নাম। এই সাংসদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ অনেক পুরোনো। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় এক নম্বরে আছে তাঁর নাম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ মানব পাচারকারীর তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল।

গত ৪ মে থেকে মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বারবার বদিকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সড়ক পরিবহন সে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। তারা দুই জনই জানান, বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও প্রমাণ নেই। আর প্রমাণ পেলে তাকেও ছাড়া হবে না।

বদি সব সময় এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র দাবি করে আসছেন। ৩১ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তিনি ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

অভিযানে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বদির সৌদি আরব যাত্রার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় একটি জাতীয় দৈনিকে।

বদি যাওয়ার সময় জানান, রমজানের শেষ সপ্তাহ জুড়ে মক্কায় ইতেকাফ শেষে ১৭ জুন দেশে ফিরবেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার কক্সবাজারের আরেক আলোচিত বিষয় হচ্ছে বদির খালাতো ভাই মং মং সেনের মিয়ানমারে যাওয়ার খবরটি।

বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে,বদির খালাতো ভাই আরেক বিতর্কিত ব্যক্তি মং মং সেনও গোপনে মিয়ানমার পাড়ি জমিয়েছেন। মং মং টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা, হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরচালানের ডন হিসেবে পরিচিত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত কারবারি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ চোরাচালানি ও ইয়াবার গডফাদার মং মং সেন আগে অন্তত দুবার গ্রেপ্তার হন এবং ছাড়া পেয়ে যান।

শোনা যাচ্ছে, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ নৌঘাট দিয়ে কার্গো ট্রলারে করে তিনি মিয়ানমারে পাড়ি জমান। ট্রলারটি গরু নিয়ে মিয়ানমার থেকে এসেছিল।

টেকনাফ থানার ওসি রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘মং মং সেনকে ধরতে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দফা অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পাওয়া যায়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে তাঁর মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়ার খবর আমরা পাইনি।’

এমপি বদির পিতা প্রয়াত এজাহার মিয়া কম্পানির একাধিক স্ত্রীর মধ্যে একজন ছিলেন মিয়ানমারের রাখাইন জাতি-গোষ্ঠীর। সেই স্ত্রীর বোনের ছেলে মং মং সেন। অর্থাৎ আবদুর রহমান বদির সত্ভাই মো. ফয়সালের মা ও মং মং সেনের মা আপন বোন। মং মং-এর বাবার নাম অং সেন তা।

২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১০ হাজার ইয়াবাসহ মং মং সেনকে টেকনাফ থানা পুলিশ আটক করে। চার-পাঁচ মাস জেল খেটেই তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। এরপর ২০১৬ সালে মার্চে মং মং ধরা পড়েন চোরাইয়ের সাড়ে ৯ কেজি স্বর্ণ ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ। এবারও মং মং বেরিয়ে আসেন।

জানা গেছে, দেশব্যাপী ইয়াবাসহ মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর ভীত হয়ে পড়েন মং মং সেনসহ অনেকে। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারি আকতার কামাল মেম্বার এবং পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর সীমান্তের কারবারিরা যে যেদিকে পারছে পালাচ্ছে।

ইয়াবা সাম্রাজ্যের আরেক ডন হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক বিএনপি নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আহমদও কয়েক দিনের মধ্যে সৌদি আরব পাড়ি জমাতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারি হিসেবে তালিকাভুক্ত আরো অনেকেই ওমরাহ হজসহ নানা অজুহাতে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে বা দিচ্ছে।

SHARE