Home শীর্ষ সংবাদ সরকারের শেষ বছরের বাজেট অধিবেশন শুরু

সরকারের শেষ বছরের বাজেট অধিবেশন শুরু

93
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৫ জুন) :: বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ বছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ( ৫ জুন) বেলা ১১টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় দশম জাতীয় সংসদের ২১তম এ অধিবেশন। অধিবেশন ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে বলে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ অধিবেশনেই আগামী ৭ জুন আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার সব সংসদ সদস্যসহ দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাজেটেরে ওপর সংসদ সদস্যদের অর্থবহ আলোচনা করার আহ্বান করেন।

তিনি বলেন, ‘বাজেট অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যরা সরকারি আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুচিন্তিত মতামত দিয়ে বাজেটকে আরও বাস্তবমুখী করার ওপর আলোচনা করবেন।

 ভ্যাটে বড় পরিবর্তন আসছে

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটে দুই স্তরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। বহুস্তর বহাল রেখেই নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে স্তর এবং পণ্য ও সেবাভেদে ভ্যাট আদায়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এসব ঘোষণা দেবেন।

২০১৯ সালে এক স্তরবিশিষ্ট নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক আইন বাস্তবায়নের আগে আগামী অর্থবছর থেকেই দুই স্তরের ভ্যাটের কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। ভ্যাট আহরণ দুই স্তর হলে মাঠপর্যায়ে এর প্রভাবও পর্যালোচনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে দ্রব্যমূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি।

বর্তমানে নিম্নস্তরের চারটি ও উচ্চস্তরের পাঁচটিসহ মোট নয়টি স্তরে ভ্যাট আদায় করছে এনবিআর। আগামী অর্থবছরেও বহুস্তর থাকছে। তবে কিছুটা কমিয়ে মোট পাঁচটি স্তর করতে যাচ্ছে এনবিআর। বর্তমানে দেড়, আড়াই, তিন, চার, সাড়ে চার, পাঁচ, সাড়ে সাত, ১০ ও ১৫— এ নয়টি হারের পরিবর্তে দুই, পাঁচ, সাড়ে সাত, ১০ ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসা শুরুর আগেই আদায়কৃত অগ্রিম ভ্যাটও (এটিভি) ১ শতাংশ বেড়ে ৫ শতাংশে উন্নীত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পকে সুবিধা দিতে পণ্য ও সেবায় কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ ও কিছু ক্ষেত্রে অব্যাহতিও থাকছে।

জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতেই ভ্যাটের বহুস্তর রাখা হচ্ছে। বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে স্থানীয় উৎপাদনে ভ্যাটের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে রাজস্ব আহরণের তাগিদে কিছু ক্ষেত্রে চাইলেও অব্যাহতি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সার্বিকভাবে একটি সুষম রাজস্ব কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা রয়েছে এবারের বাজেটে।

জানা গেছে, আগামী বাজেটে নতুন করে ভ্যাট আরোপের ক্ষেত্রে ই-কমার্স সেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে অনলাইনে কেনাবেচার ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে ভোক্তাকে। নতুন করে করারোপ হচ্ছে হেলিকপ্টার সেবার ওপর। বিলাসবহুল ভ্রমণ বিবেচনায় এর ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে। বিড়ি ও সিগারেটে করহার বৃদ্ধির পাশাপাশি মদজাতীয় পানীয়ের ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হচ্ছে। এর বাইরে বেশকিছু বিলাসদ্রব্যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবনা রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনী বছর হওয়ায় বাজেটে নতুন করে আরোপের চেয়ে ভ্যাটে ছাড়ই বেশি থাকছে। বীমা খাতের এজেন্ট কমিশনের ওপর ভ্যাট নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ও মামলা-মোকদ্দমার পর আগামী বাজেটে তা প্রত্যাহার করছে সরকার। স্থানীয় শিল্পকে প্রণোদনা দিতে নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন ও গাড়ি উৎপাদনে। মোবাইল ফোন উৎপাদনে দুই বছর আগে আরোপিত সারচার্জও প্রত্যাহার হচ্ছে এবারের বাজেটে।

এর বাইরে ভ্যাট প্রত্যাহার হচ্ছে হাতে তৈরি ১৫০ কেজি পর্যন্ত বিস্কুট, কেক ও রুটির ওপর থেকে। অব্যাহতি পাচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত ১৫০ টাকার কম মূল্যের চপ্পল ও জুতা। এছাড়া আগের মতোই ভ্যাট অব্যাহতি থাকছে চাল, ডাল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় এক হাজারের মতো পণ্য ও সেবায়। আর মোটরসাইকেল ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পণ্যসেবার ভ্যাটের হারে পরিবর্তনের পাশাপাশি পদ্ধতিগত বেশকিছু পরিবর্তন আনছে এনবিআর। ভ্যাট আহরণ পদ্ধতি সম্পূর্ণ অনলাইনে আনা এর অন্যতম। পাশাপাশি ভ্যাট আদায় কার্যক্রম গতিশীল করতে আসন্ন বাজেটে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালু ও তা অনলাইন সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা হচ্ছে।

এটি হলে এনবিআর কর্মকর্তারা অফিসে বসেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কেনাবেচা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এজন্য বাজেটে ইসিআরের বিধিমালা সংশোধন করে ইএফডি ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। বাজেটে এ ধরনের তিন-চারটি বিষয়ের ওপর অর্থমন্ত্রী সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেন। আর এসব পরিবর্তনের ওপর ভর করেই ভ্যাট আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

এনবিআর ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী বাজেট থেকেই ভ্যাটের সব কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করে আগের আইনের সঙ্গে মেলাতে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত  ১ লাখ ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান অনলাইন নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠান ও টার্নওভারের আওতায় তালিকাভুক্ত হয়েছে প্রায় ১২ হাজার প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে চলতি অর্থবছর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এ খাতে ৯১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এনবিআর। শেষ মুহূর্তে ভ্যাট আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত করায় বছরের প্রথম নয় মাসে এ খাতে ৯ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা পিছিয়ে থেকে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করেছে সংস্থাটি।

আগামী অর্থবছরের জন্যও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩২ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ভ্যাট থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

SHARE