Home শীর্ষ সংবাদ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিদেশিদের ব্যস্ত রাখতে চায় আ.লীগ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিদেশিদের ব্যস্ত রাখতে চায় আ.লীগ

93
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৯ জুন) :: দেশে এখন খালেদা জিয়ার কারান্তরীণ বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধান আলোচ্য বিষয় হলেও সরকারের ওপর এই ইস্যুতে বিদেশিদের কোনও চাপ নেই। এমনকী আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে জোরালো কোনও চাপ দিচ্ছে না বিদেশি শক্তিগুলো। বরং এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

এই সুযোগ আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে বিদেশিদের ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়ে ভাবছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

এ বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবোবে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কোনও বিষয়েই বিদেশিদের কোনও চাপ নেই।’

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করাসহ বিএনপিকে নির্বাচনে আসার সুযোগ দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে কিছুদিন আগেও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে চাপ দেওয়া হতো সরকারের ওপর। কিন্তু এখন আর এই বিষয়টি নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ নেই। কোথাও আলোচনায়ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইস্যুটি উঠে আসে না।

এমনকী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনও শক্তির কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতে হয় না।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদশের নির্বাচনের ব্যাপারে বিদেশিরা এখন কোনও কথাই বলেন না।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে এখন আলোচনার একমাত্র ইস্যু রেহিঙ্গা। আমরা বিদেশি শক্তিগুলোকে ইতোমধ্যে জানিয়েছি, আগামী নির্বাচন হবে দেশের সংবিধান অনুযায়ী। এর বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনও বক্তব্য-পরামর্শ নেই।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের বাইরে বিদেশি কোনও শক্তির বক্তব্য-পরামর্শ থাকলে তা নিশ্চয়ই সরকারের পক্ষে রাখা সম্ভব হবে না।’

দলীয় নীতি-নির্ধারকরা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন একমাত্র ইস্যু রোহিঙ্গা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিই বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বিশ্ববাসী এখন বেশি সোচ্চার।

এ ইস্যুতে বিশের প্রায় সব শক্তিশালী দেশই বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনও ভাবনা নেই বললেই চলে। তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে যান, তখন বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিই উঠে আসে। এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে কোনও আলোচনায় যান না বিদেশিরা।

ক্ষমতাসীন দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, সম্প্রতি প্রায় ৪০টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির বৈঠক হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে দলটির গুরুত্বপূর্ণ অন্তত একডজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেও আগামী নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনও পরামর্শ ছিল না।

তবে নির্বাচন কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছেন। এর ফলে বাড়তি কোনও দুশ্চিন্তায় সরকার নেই।

এর ফলে সংবিধান সম্মতভাবে আগামী নির্বাচন করার সরকারের যে চেষ্টা সেটা করতে সরকারকে বাধার মুখে পড়তে হবে না। শুধু দেশের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অবস্থা যেভাবে চলছে, তা ঠিক রাখতে পারলে আগামী নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারকে আর বেগ পেতে হবে না।

রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রসঙ্গেহ আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের মানবিক অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক মহল সরকারের সঙ্গে অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে রেখেছে।

শেখ হাসিনার এই মানবিক কাজের স্বীকৃতি দিতে গিয়ে ব্যস্ত। অন্য ইস্যুগুলো নিয়ে তারা আর কথা বলতে চান না। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বিদেশিদের আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যস্ত রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারক খান বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ায় প্রশংসা করছে বিশ্ববাসী। বিদেশিদে

র কাছে এখন বাংলাদেশের নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবেশ আলোচনার কোনও ইস্যু নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় কাজে যেখানেই যাই, বিদেশি মেহমানদের সঙ্গে কথা বলি, তখন দেশের নির্বাচন নিয়ে কোনও আলোচনাই ওঠে না। একমাত্র আলোচনা হয় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে।’

SHARE