Home কক্সবাজার ঈদগাঁওতে ঈদ উপহার বিতরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

ঈদগাঁওতে ঈদ উপহার বিতরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

105
SHARE

মো. রেজাউল করিম,ঈদগাঁও(১৪ জুন) :: কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিশেষ করে সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে এ উপহার বিতরণের ছবি ফেইসবুকে আপলোড হওয়ার পর অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সাধারণ লোকজন সংশ্লিষ্টদের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব তহবিল থেকে জেলাবাসীর জন্য ১০ কোটি টাকার উপহার পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিকট এ উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করেছেন। ইউএনওরা উক্ত সামগ্রী তৃণমূল পর্যায়ে হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিভিন্ন ইউনিয়নে উক্ত ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদ উক্ত সামগ্রী বিতরণে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন কর্তৃক এ উপহার সামগ্রী বিতরণের বেশ কিছু ছবি ফেইসবুকে প্রচার হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ফেইসবুক ইউজাররা অনিয়ম ও দূর্ণীতির সমালোচনা করছেন। চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে এ ঈদসামগ্রী বিতরণ নিয়ে এক যুবলীগ নেতা ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বিতরণের ছবিতে দেখা গেছে, হতদরিদ্রের পরিবর্তে খোদাইবাড়ীর শাহীন কোম্পানী, ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, টেকপাড়ার মোস্তাক আহমদ মুন্সী, গজালিয়ার রফিকুর রহমান এবং সাবেক এক যুবলীগ নেতা ইউনিয়ন আওয়ামলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে উক্ত সামগ্রী গ্রহণ করছেন। এদের প্রত্যেককে নগদ ২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার টাকা মূল্যের সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এলাকাবাসীর মতে, উপরোক্তদের কেউই হতদরিদ্রের পর্যায়ে পড়ে না। বরং এরা মধ্যবিত্ত থেকে বিত্তশালী। এর সমালোচনায় তাওহীদ মীর ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘ভাই আমাদের এলাকায় তো সব প্রভাবশালীরা পাইছে’।

আবছার কামাল লিখেন, ‘আরো কত কি দেখতে হয় আল্লাহ জানে’। মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ লিখেছেন, ‘ছোট ভাই আবুল মনছুর আহমদ এটা তো চরম অন্যায়। ছবিতে ছানা উল্লাহ ছানি ও নুরুল ইসলামকে দেখলাম। সাবেক চেয়ারম্যানও আছেন। দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এরকম তামাশার বিচার হওয়া উচিত’।

রমজান আলী লিখেছেন, ‘যাক কিছু কিছু নেতা কেতার পকেট গরম হয়েছে’। আনিছ লিখেছেন, ‘ওরা দরিদ্র না, সবাই আমান পোষ’। ছৈয়দ করিম লিখেছেন, ‘উচ্চ শ্রেণীতে।

নাজিম উদ্দীন তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘গরিবের টাকা কি দরিদ্রদেরকে দান করা হচ্ছে’। রুবেল দে লিখেন, ‘ছবিতে যাদের দান করতে দেখলাম উনারা কি আসলে দরিদ্র? নাকি…..’।

এমএ আকরাম লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারও কি লিংকের মাধ্যমে নিতে হয়। যারা ২ হাজার টাকা লোভ সামলাতে না পারে তারা সত্যি বলতে হতদরিদ্র’।

মোহাম্মদ শাহ আলম লিখেছেন. ‘বাংলাদেশে অভাব নামে কোন শব্দ নাই। তবে উন্নয়নশীল দেশে গরিবের কমতি নেই। হা হা হা………’।

সংবাদকর্মী আশফাক উদ্দীন আরফাত লিখেছেন, ‘যারা তালিকা করেছে তারা অসম বন্টননীতি অনুসরণ করেছে’। আবদুস সাত্তার জয়ের ভাষ্য, ‘আসলেই কি তাদের দরিদ্রের মতো লাগছে’। মাজু কক্স মন্তব্য করেছে, ‘মাশা আল্লাহ খুব বড় বড় দরিদ্রদের সাহায্য নিতে দেখলাম। আল্লাহ এসব দরিদ্রদের বুঝিবার জ্ঞান দেন’।

আশীষ দে’র মতে, ‘ইউনিয়ন পরিষদে এ উপহার সামগ্রী যাওয়ার পর কিছু গুম হয়েছে’। রাশেদুল আমীর চৌধুরী লিখেছেন, ‘যাদের চুলে লাল কলপ করার সামর্থ আছে এরা দরিদ্র হলে রাস্তার গুলো কোন সম্প্রদায়ের তা বোধগম্য নয়’।

গিয়াস উদ্দীনের মতে, এসব হতভাগা সন্তান দেখতে তো এক একটার চেহারায় কম হলেও ৫০ লক্ষ টাকার মালিকের মত দেখায়।’

এ ব্যাপারে জালালাবাদ চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদ তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ঈদ উপহারকে কিছু আওয়ামীলীগ ভাইয়েরা বিতর্কে ফেলে দিয়েছে। তিনি তাদের সাধারণ মানুষকে বুকে টেনে নিয়ে শেখ হাসিনার চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য কাজ করার আহবান জানান’। কাফি আনোয়ার তার মন্তব্যে ইসলামাবাদের হতদরিদ্র ও অসহায় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সাবেক চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষকদের জন্য গঠিত মানবিক সহায়তা তহবিলে যা পারেন মুক্ত হস্তে দান করার আহবান জানান।

এদিকে সদর যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আমীর তার ইউনিয়ন চৌফলদন্ডীতে আওয়ামীলীগের শ্রমজীবী, কৃষিজীবী মানুষ ও দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড নেতারা জামায়াত-বিএনপির ঘরে এ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার মুখে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহিন কোম্পানী তার প্রাপ্য সামগ্রী ছাত্রলীগ নেতাদের উপস্থিতিতে এলাকার হতদরিদ্রদের দিয়েছেন। আর শিক্ষক নুরুল ইসলামও তার ফেইসবুক পেইজে বিষয়টি নিয়ে সমালোচকদের উত্তর ও আত্মপক্ষ সমর্থন সূচক বেশ কিছু লেখালেখি করেছেন।

অনিয়মের ব্যাপারে উপহার সামগ্রী বিতরণকারী ইসলামাবাদের মেম্বার সাইফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জামায়াত-বিএনপির লোকজন এ সমালোচনা করছে বলে মন্তব্য করেন।

SHARE