Home কক্সবাজার কক্সবাজারের দুই বৃহৎ প্রকল্পে ৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপান

কক্সবাজারের দুই বৃহৎ প্রকল্পে ৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপান

160
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৪ জুন) :: কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন ও আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ সহ ৬টি বড় প্রকল্পে সহজ শর্তে ও কম সুদে ১৮০ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান।

জানা যায়,কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে একটি বাণিজ্যিক বন্দর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার। এতে ব্যয় হবে ২০৩ কোটি টাকা। আর বন্দরের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আরেকটি বড় প্রকল্প মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাঁচ হাজার ১৪১ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।কক্সবাজারের এ দুই বৃহৎ প্রকল্পে মোট ৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ দেবে জাপান।

অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তরা জানান, বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে একসঙ্গে দেওয়া এই সহায়তা হবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাহায্য।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে দু দেশের মধ্যে ঋণ চুক্তি সই হয়। নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম, বাংলাদেশ জাইকা অফিসের চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ টাকাটোসি নিশিকাথা।

এর আগে দু’দেশের মধ্যে নোট বিনিময় হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোসা ইজমি।

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, সহজ শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। সুদ হার হবে অবকাঠামো খাতের জন্য ১ শতাংশ। তবে স্বাস্থ্য ও সেবা খাতের জন্য সুদ হার যথাক্রমে দশমিক ৯ শতাংশ ও দশমিক এক শতাংশ। দশ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে এ ঋণ। গ্রেস পিরিয়ড় মানে প্রথম ১০ বছর সুদ ছাড়াই মূল ঋণের অংশ দিতে হবে।

যোগাযোগ করা হলে ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, জাপান হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দু দেশের সর্ম্পক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বৃহস্পতিবার সই হওয়া চুক্তির অর্থ শিগগিরই ছাড় হবে।

জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ, সড়ক, ব্রিজ কালভার্টসহ অবকাঠামো খাতে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বা দেড় লাখ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে জাপান। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এক সময় জাপানের দেওয়া বেশির ভাগ ঋণ অনুদান হিসেবে দেওয়া হতো। তবে সম্প্রতি সময়ে সুদে ঋণ দিচ্ছে দেশটি। গত বছর পর্যন্ত জাপানের দেওয়া ঋণের সুদ হার ছিল দশমিক ৭ শতাংশ।

ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম ওঠায় বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে। ফলে ঋণের সুদ হার সামান্য বাড়িয়েছে জাপান।

তিনি আরও জানান, এ নিয়ম শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশের মতো একই কাতারে থাকা দেশগুলোকেও উল্লেখিত হারে ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা।

SHARE