Home কক্সবাজার রামুর কচ্ছপিয়ায় বিছিন্ন যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ : সর্বস্ব গিলে খেল সর্বনাশা দৌছড়িখালের...

রামুর কচ্ছপিয়ায় বিছিন্ন যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ : সর্বস্ব গিলে খেল সর্বনাশা দৌছড়িখালের ঢল

102
SHARE

মাঈনুদ্দিন খালেদ,নাইক্ষ্যংছড়ি(১৪ জুন) :: রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া বাজার-দৌছড়ি সড়কের নারিকেল বাগান এলাকায় সর্বস্ব গিলে খেল দৌছড়ি খালের ঢল। এছাড়া ঢলের তোড়ে কার্পেটিং করা সড়কটি ভেসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এ সড়কের।

আর এ অংশের ভাঙ্গনের সংস্কার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল সহ নানা উপকরণ ভেসে যায় একই সাথে।

এ খালের ঢল গত মঙ্গলবার দুপুরে ভেসে নিয়ে যায় দশম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রকেও। তার নাম নুরুল আলম। সে এখনও নিখোঁজ।

সরেজমিন গিয়ে আরো জানা যায়,বিগত বছরের জোড়াতালির সংস্কারের পরেও যখন খালের এ অংশের ভাঙ্গন রোধ করা যাচ্ছিল না, ঠিক তখনই নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু মো:ইসমাঈল নোমান নানা চেষ্টা তদবিরে এটির উন্নতভাবে স্থায়ী বাধঁ বা গাইড ওয়ালের ব্যবস্থা করান এলজিইডির রামুর মাধ্যমে।

তারা যথা সময়ে এ কাজ টেন্ডার দেন। আর ঠিকাদারও যথা সময়ে কাজ শুরু করেন এ কাজের। কিন্তু বিধি বাম। গত রোব, সোম ও মঙ্গলবারের টানা বর্ষণে সৃষ্ট ঢলে বা পাহাড় থেকে বয়ে আসা খালের ¯্রােত মূহুর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় এখানকার সব কিছু ।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, কেননা সে খালের ¯্রােত খুবই শক্তিশালী ও ভয়াবহ। উপরে পাহাড়ের টানা বৃষ্টি হলেই খালের নিচের এ অংশের একুল-ওকুল দু’কুলই ভেঙ্গে সর্বস্ব কেড়ে নেয় খালের ঢলের পানি। খালের এ অংশেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত সোম ও মঙ্গলবারের ¯্রােত ছিল ব্যতিক্রম।

এ কাজের ঠিকাদার সিরাজুল হক জানান ,কাজের ওর্য়াক অর্ডার পেয়ে তারা যথা সময়ে কাজ শুরু করলেও সোম ও মঙ্গলবারের ঢলের পানি তার কাজে গতিত হারিয়ে ফেলে। ঢালাই কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি মেশিন সহ নানা উপকরণ নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় এ ঢল।

তিনি আরো জানান,শনিবার সারা দিন শ্রমিকরা ঢালাই কাজ শেষ করার পর রোববার থেকে কাজের এ অংশ ডুবে থাকে ঢলের পানিতে। সোম ও মঙ্গলবার অন্যান্য নদী ও খাল সহ এ খালের ¯্রােতের গতি বেড়ে গিয়ে এলাকার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। আর ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে ঢলের এ স্রোত।

রামু উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মো: লুৎফর রহমান জানান,তিনি খোজঁ খবর নিয়েছেন। এবং অনেক জায়গায় সরেজমিন গিয়েছেনও। এ খালের ভাঙ্গন তিনি আবারো দেখতে যাবেন এবং দ্রুত ব্যবস্থার চেষ্টা করবেন।

তবে এলাকাবাসীর দাবী, চলমান কাজ যেন বন্ধ না হয়,সে ব্যবস্থা যেন প্রশাসন নেন তাই তাদের কাম্য।

কেননা সড়কের ওপারে রয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ৭০/৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা। আর এ সীমানায় রয়েছে ৮টি বিওপি। যাদের রসদপাতি, জরুরী যোগাযোগ এখন দারুন সংকটে।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মহাসংকট এ সড়ক দিয়েও বয়ে গেছে। শূধু তাই নয়, সেখানে রয়েছে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির একটি ইউনিয়ন দ্যেছড়ি। ইউনিয়নের লোকজন এবারের ঈদে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কেজি চালের ঈদ উপহার তথা ভিজিএফ এবং ভিজিডি খাদ্যশষ্য পর্যন্ত বিতরণ করতে পারেনি সড়কের এ ভাঙ্গনের কারণে।

SHARE