Home কক্সবাজার শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা অধরা : টেকনাফে অভিযানের মধ্যেও ইয়াবা বাণিজ্য !

শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা অধরা : টেকনাফে অভিযানের মধ্যেও ইয়াবা বাণিজ্য !

96
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৪ জুন) :: সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার মাদক কারবারের চিত্র পাল্টে গেছে। এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিরা। তার পরও ইয়াবা বাণিজ্য চলছেই। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা কারবারিরা মোবাইল ফোনে গোপনে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

আর মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়লেও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। তবে ইয়াবার প্রবেশদ্বার হিসেবে চিহ্নিত টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরাও অভিযানে রয়েছে অধরা।

তবে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযানে কিছু মাদক কারবারি নিহত বা গ্রেপ্তার হলেও বেশির ভাগই রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বড় ইয়াবা কারবারিদের গ্রেপ্তারে অভিযান নেই। তাই দেশে ইয়াবা প্রবেশের পথগুলোও বন্ধ করা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেড় মাসের অভিযানে ২০ হাজার ১১৬ মাদক বিক্রেতা ধরা পড়েছে। বন্দুকযুদ্ধে পড়ে নিহত হয়েছে ১৫৮ কারবারি। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নেই তালিকাভুক্ত শীর্ষ কারবারিরা।

এদিকে টেকনাফে গত ২৫ মে আকতার কামাল মেম্বার এবং ২৭ মে পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক বিতর্কিত এক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিরা গাঢাকা দিয়েছে। বড় ডিলার টেকনাফের শিলবনিয়াপাড়ার হাজি সাইফুল করিমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি গাঢাকা দিয়েছেন।

মিয়ানমারের মণ্ডুর বড় কারবারি রোহিঙ্গা আবদুর রহিমের আশ্রয়ে এমপি বদির খালাতো ভাই মংমং সেনসহ টেকনাফের কয়েকজন ইয়াবা কারবারি।

এদিকে মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের মধ্যেও কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ‘নীরব ইয়াবা বাণিজ্য’ চলছে। নাফ নদ তীরের ইয়াবা খালাসের প্রধান ঘাট খুরেরমুখ, সাবরাং নয়াপাড়া, মৌলভীপাড়া, শাহপরীর দ্বীপসহ সীমান্তের বিভিন্ন ‘ইয়াবা মোকামে’ চলছে এ কারবার।

মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে টেকনাফ সীমান্তের কেউই সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছে না। তবে সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে।

অভিযানের মধ্যেও সীমান্তে ইয়াবার কারবার চলার কারণ সম্পর্কে স্থানীয়রা বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্যের ‘লোভ’ মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা লোভের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেম লালন করতে পারলে একটি ইয়াবাও দেশে ঢুকতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের এক ইউপি মেম্বার এক রাতে নগদ ৪০ লাখ টাকা কামিয়েছেন। ভাগে মেম্বার পেয়েছিলেন ১০ লাখ টাকা। সেই ইউপি মেম্বারই হচ্ছেন এমপি আবদুর রহমান বদির বেয়াই হিসেবে পরিচিত আকতার কামাল। গত ২৫ মে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন আকতার কামালের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেন, ‘টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ইয়াবার ঘাট হলো খুরেরমুখ। এখানে সরকারি সংস্থার সদস্যদের সঙ্গেই দিনরাত কাটাতেন আকতার কামাল। আবার সেই সংস্থার সদস্যরাই নাকি তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছে বলে শুনেছি।’

ওই আত্মীয় জানান, নাফ নদ ঘাটে রাতের ইয়াবা পাচারের চিত্র হয়ে ওঠে ভিন্ন রকমের। ইয়াবার চালান পাচারের সময় ঘটনাস্থলে যারাই উপস্থিত থাকে, সবাই একাকার হয়ে যায়। এ সময় কারো সঙ্গে মতবিরোধের সুযোগ থাকে না।

গত ২৫ মে আকতার কামাল এবং ২৭ মে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিরা গাঢাকা দিয়েছিল। অনেকেই দেশ ছেড়ে গেছে। টেকনাফের অনেক কারবারি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

মিয়ানমারের বন্দর শহর মংডুুর বড় ইয়াবা কারবারি রোহিঙ্গা আবদুর রহিমের আশ্রয়-প্রশ্রয়েও রয়েছে টেকনাফের অনেক কারবারি।

সীমান্ত এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে তালিকাভুক্ত কারবারিরা এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। আবার যারা প্রকৃত কারবারি অথচ তালিকাভুক্ত নয়, তারা যথারীতি এলাকায় ইয়াবার কারবার করছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় এখনো প্রতিদিন ইয়াবার চালান আটক অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার রাতেও টেকনাফের নাজিরপাড়ার কারবারি সৈয়দ আলমের গোয়ালঘর থেকে ১৩ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়।

SHARE