Home আন্তর্জাতিক ভারতকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার

ভারতকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার

165
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ জুন) :: ইরানকে কোনঠাসা করতে ফের টার্গেট ভারত-চিন৷ ইরান থেকে আর তেল আমদানি নয়, দুই রাষ্ট্রকে জানাল আমেরিকা৷ ভারতে তেল সরবরাহে ইরান তৃতীয় দেশ৷ তেল রপ্তানিতে প্রথম ইরাক, দ্বিতীয় সৌদি আরব৷ ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ১০ মাসে মোট ১৮.৪ মিলিয়ন টন তেল আমদানি করেছে ভারত৷

পরিস্থিতি আপাতত বেশ জটিল৷ কারণ,ভারত,চিন সহ বেশ কয়েকটি দেশ রীতিমত হুমকি দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন৷ স্পষ্ট ভাষায় জানান হয়েছে, ৭ নভেম্বরের মধ্যে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে হবে৷ না করলে আমেরিকা সেই দেশকে ব্যবসায়িক বয়কটের তালিকায় ফেলবে৷

গত মাসে ইরান-মার্কিন পরমানু বৈঠক ছিল নেতিবাচক৷ ইরানের সঙ্গে পরমানু চুক্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তেহেরান নিউক্লিয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নে যা মারাত্মক ঘাটতি বলেই মনে করা হচ্ছে৷ ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত তুলে নেওয়ার পর থেকেই বেশ কয়েকটি দেশ চাপে পড়ে যায়৷ ইরানের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক যে বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে, তা ঘোষণার আগেই বোঝা গিয়েছিল৷

ওয়াশিংটনের তরফে জানান হয়েছে, বিশ্বব্যাপি প্রত্যেক দেশের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই ঘোষণা৷ ইরানের পরমানু উৎপাদনের বিরুদ্ধে বরাবরই রুখে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা৷ ঘোষণার পর ভারত,চিন সহ বাকি দেশগুলিতে ৯০ থেকে ১৮০ দিনের সময় দিচ্ছে আমেরিকা৷ ধীরে ধীরে তেল আমদানি কমিয়ে নভেম্বরের মধ্যে তেল আমদানি পুরোপুরি শূন্য করার নির্দেশ৷

পাশাপাশি, দেশগুলিকে EU-3 বৈঠকের আহ্বান জানাচ্ছে আমেরিকা৷ যেখানে , ঘাটতি পূরণের আশ্বাসও পেতে পারেন দেশগুলি৷ যে দেশ ইরানকে বয়কট করছে তারাই এই EU-3-র সদস্য হতে পারবে৷ ইতিমধ্যেই যেখানে রয়েছে, ফ্রান্স, জার্মানী ও ব্রিটেন৷

গোটা বিষয়ে ভারতের কী পদক্ষেপ, তা জানা না গেলেও বিষয়টি ওয়াশিংটনে তুলবে ভারত বলে জানা যাচ্ছে৷ পরের সপ্তাহেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন৷ বৈঠকে উঠবে ইরান প্রসঙ্গ৷

অতিত ঘাটলে জানা যাবে, ভারত-ইরান টানাপোরেন অনেকদিনের৷ তখন আমেরিকার শাসানিকে এতটুকু ভয় পাননি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ ভারত সফরে এসে বারাক ওবামা এভাবেই ইরানকে কোনঠাসার বার্তা দেন৷ বলা হয় তেল আমদানি বন্ধ করুক ভারত৷

যুক্তি দিয়েই প্রণব বুঝিয়েছিলেন, দেশের ১২ শতাংশ তেল আমাদানি হয় ইরান থেকে, যা বন্ধ করলে ঘাটতির মুখে পড়বে বারত৷ পাশপাশি, ইরানের সঙ্গে ভারতের ‘টাকা’ সমস্যাও মিটে যায়৷ ভারতীয় মুদ্রা গ্রহণের সবুজ সংকেতও দেয় ইরান প্রশাসন৷ ২০১৮ সালের ছবিটা ঠিক কী হবে? আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্কে থাকা মোদী সরকার কি ‘বিপ্লব’ঘটাবে? অপেক্ষার হয়ত ৭দিন৷

SHARE