Home জীবনযাত্রা বর্ষায় আসবাব পত্রের যত্ন

বর্ষায় আসবাব পত্রের যত্ন

63
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ জুন) :: আষাঢ় মাস চলে এসেছে। ঝুমঝুম বৃষ্টির সময় এখন। একটানা বৃষ্টিতে নগর জীবনে তো ব্যাহত তো হয়ই, সাথে নানান রকম সমস্যার জন্ম নেয় আপনার গৃহস্থালি কাজে। এসময় আসবাব পত্র ও কাপড় চোপড়ে একটা ভেজা, স্যাঁতসেঁতে ভাব চলে আসে।

এছাড়া বর্ষাকালে নানান রকম ফাঙ্গাস ও পোকা মাকড়ের উপদ্রপ লক্ষ্য করা যায়। এই কারনে বর্ষাকালে শখের আসবাব পত্রের জন্য দরকার হয় কিছু বিশেষ যত্ন।

জেনে নিন এইসময়ে কীভাবে নেবেন আসবাবপত্রের যত্ন –

আসবাবের যত্ন –

– এই মৌসুমে জানালার কাছ থেকে একটু দূরে আসবাব রাখার চেষ্টা করুন, বৃষ্টির পানিতে ছাঁট যাতে না লাগতে পারে। আর যদি বৃষ্টির পানি লেগেই যায় তবে যত দ্রুত সম্ভব শুকনো কাপড় দিয়ে আসবাব মুছে ফেলুন।

-এই বর্ষায় অনেকের বাড়ির দেয়ালই স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় বা ফাঙ্গাস পড়ে দেয়ালে, এমন দেয়াল থেকে দূরত্ব বজায় রেখে আসবাব সাজান। যদি দেয়াল ঘেঁষে রাখতেই হয় তা হলে আসবাবের পেছনে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখুন।

-বর্ষায় কাঠের আসবাবে পোকার আক্রমণ বেশী হয়।আলমারিতে আপনি নেপথোলিন রেখে দিন, সব ধরনের আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখে এটি। কাপড়কেও ঠিক রাখে। নিমপাতা একটি খুব জরুরি এবং প্রয়োজনীয় বস্তু। বর্ষায় পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষায় এর বিকল্প নেই। এছাড়াও পোকা দূর করতে কাঠ মিস্ত্রির পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করুন। ন্যাপথলিন , স্প্রিট ও নিমের তেল পোকা মাকড় দূর করতে বেশ উপকারি ।

-বসার ঘরের সোফার গদি ভিজে গেলে রোদে দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এদিকে রোদে দিলে সোফার কাঠের ফ্রেম যাবে ফেটে। এমন অবস্থায় একটি মোটা তোয়ালে রাখুন ভেজা স্থানে, তারপর ওপরে গরম ইস্ত্রি চালান। ভেজা ভাব অনেকটাই কমে আসবে অল্প সময়ে। ক্ষতিও হবে কম।

-দামি আসবাবের নিচে একটি ছোট টিনের বা কাঁচের পাত্রে এক টুকরো সালফার বা গন্ধক রেখে দিন, এতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে আসবাব মুক্ত থাকবে ।

-আসবাবে ছত্রাক জমে গেলে দূর করার জন্য আছে একটি বিশেষ উপায়। চা পাতা জ্বাল দিয়ে কড়া লিকার বানিয়ে ঠাণ্ডা করুন। তারপর তাতে মেশান অল্প ভিনেগার। এখন একটি কাপড় এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভালো করে চিপে নিন। এবং সেটা দিয়ে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করুন। না হলে দেখবেন পুনরায় ছত্রাক গজিয়ে যাবে।

-প্লাস্টিকের আসবাবও এই সময় খুব নোংরা হয়। লিকুইড সাবান বা টুথ পেস্ট ব্যবহার করুন পরিষ্কার করার কাজে।

মেঝের যত্ন-

যাদের বাসায় কাঠের মেঝে, তাদের বিশেষ নজরদারি রাখা ছাড়া উপায় নেই। বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন আছে এই স্যাঁতস্যাতে মৌসুমে। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, কাঠের মেঝে আর্দ্রতামুক্ত কিনা। এগুলো রক্ষার জন্য ওয়াক্স একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

কার্পেটের যত্ন-

কার্পেট, বিশেষ করে দেয়ালে ঝুলানো কার্পেট নিয়মিতভাবে ধুলামুক্ত রাখা জরুরি। এতে শুধু যে ধুলাই দূর হবে, তা কিন্তু নয়, আর্দ্রতাও অনেকখানি দূর হবে। কার্পেট ক্লিনারটি যদি ভাল মানের হয়, তবে যেকোনো ধরনের গন্ধ থেকেও মুক্তি মিলবে। মেঝের কার্পেট সম্ভব হলে বর্ষা মৌসুমে তুলে রাখুন। কারণ, এ সময়টাতে কার্পেট ব্যবহার মানেই বাড়তি ময়লা ডেকে আনা। পলিথিন কাগজে করে ভাল করে মুড়ে রাখলে পানি বা আর্দ্রতা বা পোকামাকড় থেকেও রক্ষা পাবে।

ঘর আলো-বাতাস মুক্ত রাখুন-

এই আবহাওয়ায় আপনার ঘরে ঠিকমতো আলো-বাতাস ঢুকছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। তা নাহলে একটা আর্দ্র ও গুমোট ভাব পুরো বাসা ঘিরে থাকবে, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।

টাইলস সংরক্ষণ-

বাথরুমের টাইলসগুলো ভাল করে পরীক্ষা করে দেখুন। টাইলসের ফাঁকে ফাঁকে ময়লা লেগে আছে কিনা, থাকলে তা ভালভাবে পরিস্কার করা অবশ্যই জরুরি।

বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলোর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন –

বাসায় কোনো ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার থাকলে তা তৎক্ষণাৎ ঠিক করুন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বক্সটিতে কোনো সংযোজন বা পরিবর্তন করতে চাইলে আপনার ইলেকট্রিশিয়ান বা সিটি ইলেকট্রিসিটি কোম্পানির সঙ্গে পরামর্শ করুন। বর্ষায় ইলেকট্রনিক্স জিনিসে ফাঙ্গাশ বেশি পড়ে। তাই এসব জিনিস মাঝে মধ্যে টিস্যু বা নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। বৈদ্যুতিক রুমে ওয়াটার সিমিজ এবং জেনারেটরের অবস্থানটির প্রতি লক্ষ্য রাখুন।

পরিচ্ছন্ন রাখুন

বর্ষায় ঘরদোর পরিস্কার রাখার কোন বিকল্প নেই। গুমোট আবহাওয়ায় সব আর্দ্র হয়ে উঠে, পানি জমে সেখানে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। একমাত্র নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে এ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে।

বাসার ভিতরের আর্দ্রতা দূর করার জন্য এয়ার কন্ডিশনার আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। আপনার ঘরের সব আসবাবপত্র সম্ভব হলে আলোর দিক মুখ করে রাখুন। বর্ষা মৌসুমে আপনার বাড়ির চারদিক যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। বর্ষা মৌসুম থেকে ডেঙ্গুজ্বর শুরু হয়। তাই আপনার গৃহে গাছ, টব, পুরনো ভাঙা জিনিসপত্র পানিমুক্ত রাখুন। বর্ষায় যেহেতু পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে, তাই আপনার বাড়ির চারপাশে কার্বলিক এসিড দিয়ে রাখুন।

SHARE