Home কক্সবাজার নাইক্ষ্যংছড়ি-কচ্ছপিয়া : দিনে অপহরন-রাতে ডাকাতি

নাইক্ষ্যংছড়ি-কচ্ছপিয়া : দিনে অপহরন-রাতে ডাকাতি

142
SHARE
হাবিবুর রহমান সোহেল,নাইক্ষ্যংছড়ি(২ জুলাই) :: নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার গর্জনীয়া কচ্ছপিয়ায় আইন শৃংখলার চরম অবনতি হয়েছে। ওই সব এলেকা দুর্গম ও পাহাড়ি জনপদ হওয়াতে প্রায় সময় দিনে অপহরন আর রাতে ডাকাতি সংঘটিত হচ্ছ। যেমনটি ঘটেছে গত কাল ও এর আগের দিন। বসত বাড়ী ডাকাতি সহ দুই সহোদর অপহরনের শিকার হয়েছে।
৩০ জুন রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গর্জনীয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড দক্ষিন নজুমাতবর পাড়া গ্রামে ডাকাতির পর ওই পরিবারের ২ জন অপহরূত হয়।
অপহরনের শিকার হওয়া দুই সহোদর হলেন- আমির হোসেনের পুত্র শহিদুল্লাহ (১৩) ও মোঃ রিদুয়ান (১৬) জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১০/১২ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরের দর।
প্রত্যক্ষদর্শী গৃহকর্তা আমির হোসেন (১) জানান, ভেঙ্গে বাড়ীর লোকজনদের জিম্মি করে ৮টি মোবাইল সেট ও নগদ দেড় লাখ টাকা সহ বিভিন্ন মুল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে চলে যাওয়ার সময় তার দুই ছেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরন করে পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দিকে নিয়ে যায়।গৃহকর্তার স্ত্রী খাদিজা বেগম জানান, সশস্ত্র ডাকাতদলের সদস্যদের মধ্যে দুই জন মুখোশ পরিহীত, বাকিরা মুখ খোলা অবস্থায় ছিল।
তারা রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বাড়ীঘরের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট সহ তান্ডব চালায়। এসময় তার কান ও গলার স্বর্ণ সহ বাড়ীঘরের মালামাল ছাড়াও চাউল, সবজি, সেমাই, চিনি সহ শুটকি মাছ পর্যন্ত নিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, অপহরনের শিকার দুই সহোদর ফেরত পেতে ভোররাত ৫টা থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের ভিতরে ৩ দফা মোবাইল ফোনে অপহরনকারী চক্রের সদস্যরা অপহৃতদের বড় ভাই মিজানুর রহমানের নিকট ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। দাবীকৃত মুক্তিপন আদায় না করলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
 খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গর্জনীয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোঃ আলমগীর সহ সঙ্গীয় ফোর্স।
তিনি এই প্রতিবেদকের নিকট মোবাইল ফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং তাদেরকে ঘটনার ব্যাপারে অভিযোগ করার জন্য বলেছি।
এছাড়া অপহৃতদের ব্যাপারে আমরা খোজ-খবর নিচ্ছি। এলাকার সচেতন মহল দাবী করেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়িঁর নবাগত আইসি পরিদর্শক মোহাম্মদ আলগীর যোগদানের পর পরই ওই এলাকার অপরাধীদের আবারও উত্তান ঘটে।
যার কারন হিসেবে গর্জনিয়া বাজার মসজিদ মার্কেটের মেসার্স তানজিল মেডিকোর পরিচালক জাহানগীর আলম জানান, তার দোকানে গত ১৫ দিন আগে মাগরিবের পর পরই চুরি হয়েছে। আর ওই ঘটনার কোন কুলকিনারা করতে পারেনি গর্জনিয়া পুলিশ।
এদিকে গত শুক্রবার ২৯ জুন রাতে উপরে উল্লখিত একই এলাকা থেকে তিন ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।অপহরণকারী চক্রের হাত থেকে কৌশলে দুই ব্যক্তি পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও একই এলাকার আব্দু সালামের পুত্র তাজর মুল্লুক (৩০) পালিয়ে আসতে না পারায় ৩০ জুন শনিবার রাতে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপনের বিনিময়ে উদ্ধার হয় বলে তার পরবিারের সদস্যরা জানান। এদিকে পরপর ডাকাতি ও অপহরনের ঘটনায় এলাকার সাধারন মানুষের আতংক বিরাজ করেছে।
এই ব্যাপারে কথা বলতে গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়িঁর আইসি পরিদর্শক মোঃ আলমগীরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন। পরে
এই ব্যাপারে কথা বলতে ককসবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গর্জনিয়া কচ্ছপিয়াসহ সমস্ত সন্ত্রাস প্রবন এলাকায় শীগ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিবেন বলে জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে এএসপি জানান, গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়িঁতে নতুন আইসি যোগদান করার কারনে অভিযান কিছুটা কম ছিল। তবে দু এক দিনের মধ্যে তা কাটিয়ে উটবে বলে জানান তিনি।
SHARE