Home অর্থনীতি বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা : এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন

বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা : এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন

55
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২ জুলাই) :: এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো সূচকের বেশখানিকটা পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের বেশকিছু পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে এ মন্দাভাব দেখা যায়।

আগামী শুক্রবার থেকে কয়েকশ কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কার্যকর হবে। এদিকে সপ্তাহে প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, জুনে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি যে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়টিকে ইঙ্গিত করছে।

বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে গেলেও চীনের শেয়ারবাজারে এর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। সেখানকার ক্রমে পতন হতে থাকা সূচকটি সম্প্রতি চূড়ান্ত উচ্চতা থেকে ২০ শতাংশ নিচে নেমে গেছে।

বেইজিংয়ে বিওসি ইন্টারন্যাশনাল চায়নার প্রধান সামষ্টিক অর্থনীতি বিশ্লেষক ঝু কিবিং বলেন, চীনের অর্থনীতি হয়তো বছরের বাকি সময়ের জন্য শ্লথ হয়ে পড়বে, তবে এ নিয়ে আমাদের এখনই শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের পরিণতি।

সোমবার সাংহাই সূচকের ২ দশমিক ৫ শতাংশ পতন হয়, অন্যদিকে চীনের ইউয়ান আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব স্তিমিত করার লক্ষ্যে মুদ্রাটিকে দুর্বল করে রাখছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষাবাদী আমেরিকা ফার্স্ট নীতিতে চীন মূল লক্ষ্য হলেও তিনি মিত্রশক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডাকেও নিশানা বানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশী কানাডা অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাত আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পাল্টা জবাব হিসেবে শুক্রবার থেকে ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে।

বেইজিং ছাড়াও টোকিতেও গতকাল সূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পায়। ব্যাংক অব জাপানের প্রায় ১০ হাজার কোম্পানির ওপর পরিচালিত ত্রৈমাসিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে ব্যবসায় আত্মবিশ্বাস আগের তিন মাসের চেয়ে কমে গেছে। অবশ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রায় এক দশকের মধ্যে এ হার অবশ্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে।

এশিয়ার অন্যান্য বাজারের মধ্যে সিউলের সূচকে ২ দশমিক ৪ শতাংশ পতন হয়েছে, সিডনিতে দশমিক ৩ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে দশমিক ৯ শতাংশ ও তাইপেতে দশমিক ৫ শতাংশ পতন হয়েছে এবং ওয়েলিংটনে সূচকের অবস্থান অপরিবর্তিত অবস্থায় শেষ হয়েছে। সরকারি ছুটির কারণে সিডনির বাজার এদিন বন্ধ ছিল।

ইউরোপের বাজারে সকালের দিকে লন্ডনের সূচক দশমিক ৭ শতাংশ দর হারায়, প্যারিসের সূচকে ১ শতাংশের মতো পতন দেখা যায় আর ফ্রাংকফুর্ট সূচক দর হারায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। মুদ্রাবাজারে ইউরোর মানে সামান্য পতন হলেও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা শরণার্থী বিষয়ক একটি চুক্তিতে পৌঁছতে সমর্থ হয়েছেন— এ খবর প্রকাশের পর মুদ্রাটির মানে শুক্রবার যে অর্জন করেছিল, তার অনেকটাই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তবে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের জোট সরকারের রক্ষণশীল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার পদত্যাগের ঘোষণা দিলে সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে মেরকেল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, শরণার্থীর বিষয়টি খোদ ইইউরই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা শুক্রবার প্রকাশিতব্য মার্কিন চাকরির উপাত্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ উপাত্তের মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতির হালচাল আরো ভালো বোঝা যাবে এবং ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরো বৃদ্ধি করবে কিনা, সে ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।

 এএফপি

SHARE