Home অর্থনীতি ইতিহাসের বৃহত্তম যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু

ইতিহাসের বৃহত্তম যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু

94
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৬ জুলাই) :: চীনের ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ওয়াশিংটন সময় মধ্যরাত থেকে ২৫ শতাংশ এ শুল্ক কার্যকর করার ফলে পৃথিবীর বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে যে বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা হয়েছে, বেইজিং তাকে অর্থনীতির ইতিহাসে বৃহত্তম বাণিজ্যযুদ্ধ আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এ শুল্কের প্রথম ধাপ শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে উড়োজাহাজের টায়ার, বাণিজ্যিক ডিশওয়াশার, ইলেকট্রনিক পণ্য, গাড়ি, কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ ও এলইডিসহ বেশকিছু চীনা পণ্যের আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক প্রদান করতে হবে।

শুল্ক আরোপ ঘোষণার পর বেইজিংও ‘প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ’ নেবে বলে জানিয়েছিল। ট্রাম্পের ঘাঁটি বলে পরিচিত কৃষিভিত্তিক অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে মূলত মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করার কথা চীনের।

শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং এর জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় চীনকে পাল্টা আঘাতের জন্য বাধ্য করা হলো। এ ঘোষণার পর সমমূল্যের মার্কিন পণ্যে শুল্ক কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া শুল্ক ট্রাম্পের সুরক্ষাবাদী পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক দশকজুড়ে বিশ্বজুড়ে পণ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বৈশ্বিক মুক্তবাণিজ্য নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, সেটিকে প্রত্যাখ্যান করলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে আমদানিকৃত ওয়াশিং মেশিন এবং সোলার প্যানেলের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানি করা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক কার্যকর করেছেন।

ট্রাম্পের দাবি, চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চীনে মার্কিন প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্বের অবৈধ পাচার বন্ধ হবে এবং মার্কিন কর্মবাজার সুরক্ষিত হবে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তারা আরো ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছে।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, এ শুল্ক চলতি মাসের শেষ দিক থেকে কার্যকর হবে। এ শুল্ক ছাড়াও আরো শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, বেইজিং যদি ‘অভ্যাস পরিবর্তন করতে রাজি না হয়’, তবে আরো ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। প্রয়োজনে তা আরো অনেক বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, সব মিলিয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরো ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।

আপনারা জানেন, আমাদের আরো ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক স্থগিত আছে এবং এরপর আরো ২০ হাজার কোটি, আমাদের ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক স্থগিত হয়ে আছে, তাই না?

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার মূলে আঘাত করে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াতে পারে। শুল্কের ঘোষণায় শেয়ারবাজারগুলোয় এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে প্রকাশ করা মরগান স্ট্যানলির এক গবেষণায় বলা হয়, মার্কিন শুল্কের ফলে এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যের দশমিক ৬ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির দশমিক ১ শতাংশের ওপর প্রভাব পড়বে।

ব্যাংকটির হিসাবে, শুল্কের প্রভাব পড়া প্রতি ১০ হাজার কোটি ডলারের আমদানি বৈশ্বিক বাণিজ্যের দশমিক ৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির দশমিক ১ শতাংশের সমান। বিশ্লেষকরা এর প্রভাবে সরবরাহ শৃঙ্খল এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরো বেশি নেতিবাচক হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

বেইজিংভিত্তিক থিংকট্যাংক পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস (পিআইআইই) জানায়, চীন কিছু বেদনা অনুভব করবে, তবে সেগুলো সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত থাকা কোম্পানিগুলোর মতো এত তীব্র হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে যে পরিমাণ পণ্য ক্রয় করে, এর পরিমাণ চীনে বিক্রয় করা পণ্যের প্রায় চার গুণ হওয়ায় বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে চীন হয়তো বাণিজ্যের বাইরে অন্য কোনো উপায়ে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।

এসব পদক্ষেপের একটি হতে পারে, চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি না করার ব্যাপারে প্রভাবিত করা। এর ফলে বাণিজ্যযুদ্ধের রেশ অর্থনীতি ছাপিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

SHARE