Home কক্সবাজার গর্জনিয়াতে ডাকাতের ভয়ে ঘর হারা হাজারও মানুষ

গর্জনিয়াতে ডাকাতের ভয়ে ঘর হারা হাজারও মানুষ

139
SHARE
হাবিবুর রহমান সোহেল,নাইক্ষ্যংছড়ি(৮ জুলাই) :: নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলা  গর্জনীয়ায় আইন শৃংখলার চরম অবনতি হয়েছে। ওই এলাকায় ডাকাতের ভয়ে হাজারও মানুষ ইতিমধ্যে ঘরহারা হয়েছে। আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী কচ্ছপিয়া ইউনিয়ানে। গর্জনিয়া ইউনিয়নের নজুমাতবর পাড়া এলাকায় সম্প্রতি অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসনের পাশাপাশি রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অপহরণ ও ডাকাতদলের হানা থেকে রক্ষায় একাট্টা হয়েছেন তারা।
এদিকে একটি প্রভাবশালী মহল অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে ব্যক্তিগত আক্রোশবশত: এলাকার সমাজসেবি লোকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন সংবাদ পত্রে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং ভয় দেখিয়ে এলাকাবাসীকে আতংকে রেখে দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নজুমাতবর পাড়ার বাসিন্দা সমাজসেবি ছুরত আলম।
অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জনতার সহযোগীতায় রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ফাক্রিকাটার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের পুত্র গিয়াস উদ্দিন (২১) ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ বেলালের পুত্র তারেকুল ইসলাম (২৪) প্রকাশ তারেক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বাইশারী পুলিশ।
 জানা যায়, গত ২৯ জুন ও ১ জুলাই দুই দফা গর্জনীয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড নজুমাতবর পাড়া এলাকা থেকে তাজর মুল্লুক ও দুই সহোদর মোঃ রিদুয়ান ও শহিদুল্লাহ অপহৃত হয়। তাদের মুক্ত করতে পরিবারের প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়।
মুক্তিপন হাতে হাতে দিয়েই তাদের মুক্ত করে পরিবারের সদস্যরা। অপপ্রচারের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ আহমদ জানান, এলাকাকে ডাকাত ও অপহরন থেকে বাঁচাতে এলাকার যুবকদের সমন্বয়ে রাত জেগে পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এটাই এখন কাল হয়ে দয়িড়েছে তাদের। রাত জেগে পাহারা বসিয়ে এলাকাকে সুরক্ষিত করার দায়িত্ব যখন এলাকার লোকজন নিয়েছে, তখন অপহরণ চক্রের সদস্যদের মদদদাতা স্থানীয় গুটিকয়েক প্রভাবশালী লোক ডাকাত ঠেকাতে রাত জেগে পাহারায় নিয়োজিত এসব যুবকদের পিছনে লেগে রয়েছে।
তারা প্রশাসনকে ভূল বুঝিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও মিডিয়ার লোকদের ভূল বুঝিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত। এ জন্য তিনি প্রশাসনকে এসব মিথ্যা, বানোয়াট তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি মিডিয়ার লোকদের সরজমিনে তদন্ত করে সুষ্ট প্রতিবেদন দেওয়ার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, গত ১ জুলাই তার বাড়ীতে ডাকাতদলের সদস্যরা হানা দিয়ে ব্যাপক লুটপাট চালানোর পাশাপাশি চলে যাওয়ার সময় তার দুই ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে এলাকার লোকজন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ আহমদ সহ অন্যান্যরা আতংকে থাকা এসব পরিবারের সদস্যদের অভয় প্রদান করেন এবং এলাকায় অপহরণ ও ডাকাতি প্রতিরোধে নিজেরাই রাত জেগে পাহারা দিয়ে অপহরণ এবং ডাকাতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেরাজ, মোতাহেরা, মছুদা বেগম ও মর্জিনা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের বসত বাড়ী ভিটা থেকে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছেন একটি প্রভাবশালী মহল। অপহরণ ও ডাকাতীর ভয় দেখিয়ে আতংক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু এলাকার সচেতন লোকজন ও যুবকরা এগিয়ে এসেছে তাদের দীর্ঘদিনের জমি রক্ষায়। পাশাপাশি এলাকাকে অপহরণ ও ডাকাতদের হানা থেকে রক্ষা করতে রাত জেগে পাহারায় থাকছেন এলাকার লোকজন।
 স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, অপহরণ ও ডাকাতি ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকার লোকজন রাত জেগে দফায় দফায় পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন। সংঘবদ্ধ একটি অপহরণ ও ডাকাতদল বড়বিলকে অশান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, অপহরণ ও ডাকাত প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। এসময় তিনি অপপ্রচার ও গুজবে কান না দিয়ে তদন্ত করে অপহরণ ও ডাকাতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
গর্জনীয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোঃ আলমগীর জানান, ডাকাত প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড়বিল ও মরিচ্যাচর এলাকায় ইতিমধ্যে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও ডাকাতি প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, অপহরণ ও ডাকাতি প্রতিরোধে ডাকতপ্রবণ এলাকা গুলোতে রাত্রীকালীন পুলিশী টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানান।
এছাড়া গত মঙ্গলবার নজুমাতবর পাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী, ডাকাত ও অপহরণকারীদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত এলাকাবাসীকে কক্সবাজারের নবাগত সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) আবিদ ইসলাম বলেন, ডাকাত, অপহরণকারীদের ধরতে ইতিমধ্যে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।
এ সময় তিনি এলাকাবাসীর সহযোগীতা আশা করে বলেন, অপরাধী যত বড় হউক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি গর্জনীয়া-কচ্ছপিয়াকে ডাকাত ও সন্ত্রাস মুক্ত করার ঘোষনা দেন।
পরে ককসবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( এএসপি) আফরুজুল হক টুটুল জানান, শীগ্রই অপরাধিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি এলাকাবাসী কে ভয় না পাওয়ার আহবান জানান।
SHARE