Home শীর্ষ সংবাদ রাশিয়া বিশ্বকাপে উৎসবে ভাটার টান

রাশিয়া বিশ্বকাপে উৎসবে ভাটার টান

54
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৮ জুলাই) :: শনিবার সন্ধ্যার ক্রেমলিন ছিল প্রাণবন্ত! হাজারো মানুষ, গায়ে রাশিয়ার জার্সি, হাতে প্ল্যাকার্ড। কেউ ভুভুজেলা বাজিয়ে উৎসবের রঙে আশপাশটা রাঙাচ্ছে। গুচ্ছ দলগুলো নাচে-গানে উৎসবের জানান দিচ্ছিল।

রোববার সকালের ক্রেমলিনও ছিল হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত। তবে উৎসব-উচ্ছ্বাসের ভাবটা উধাও— বিশ্বকাপ থেকে স্বাগতিকদের বিদায়ের ছাপ!

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বিদায়ে রাশিয়ার আয়োজক শহরগুলো প্রাণবন্ত ভাবটা হারিয়েছে; বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান থেমে যাওয়ার পর থেকে। ফুটবলের কুলীন দেশ দুটির দুনিয়াজোড়া ফ্যান-বেজ তৈরির মূলে তাদের ফুটবল সংস্কৃতি। মাঠে মেসি-নেইমারদের শৈল্পিক ছোঁয়া যেমন হূদয়ে কম্পন ধরায়, বাইরে তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিও উৎসবের আমেজ ছড়ায়।

আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিও কমে আসে। ব্রাজিল-উরুগুয়ের কল্যাণে লাতিনদের ঘিরে উৎসবের আমেজ ছিল। সেটাও শেষ হয়ে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। রাজনৈতিক কারণে রাশিয়ায় ইংল্যান্ড সমর্থকদের দৌড়ঝাঁপ সীমিত। ম্যাচের দিন স্টেডিয়াম ও ফ্যান-জোনে তাদের চোখে পড়ে। পথে-ঘাটে দলবেঁধে উত্তাপ ছড়ানোর দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না; যেমনটা ছড়িয়ে গেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা।

গত কয়েক দিন বিশ্বকাপের আমেজটা ধরে রাখার অলিখিত দায়িত্ব পালন করেছে স্বাগতিক সমর্থকরা। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হারের পর থেকে সেটাও উধাও। উৎসব-উচ্ছ্বাস থেমে গেলেও সাধারণ রাশানদের মাঝে হতাশা অবশ্য চোখে পড়েনি।

দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় হঠাৎই কানে ভেসে আসত— রাশিয়া… রাশিয়া… ধ্বনি; বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে শুটআউটে জয়ের পর। স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা ব্যস্ত সড়কেপথ চলতে চলতে জাতীয় দলকে নিয়ে নিজেদের উৎসব-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করত এভাবেই। গতকাল কোথাও সে ধ্বনি শোনা যায়নি। কানে ভাসেনি গাড়িতে উচ্চশব্দের গানের আওয়াজ; যেমনটা দল নকআউট পর্বে উন্নীত হওয়ার পর হরহামেশাই শোনা গেছে।

‘রাশিয়া এ বিশ্বকাপে যা খেলেছে, তাতে আমরা গর্বিত। ক্রোয়েশিয়ার কাছে ওভাবে হারের পর খারাপ লেগেছে ঠিক। এখানে হতাশার কিছু দেখছি না’— বলছিলেন রাশিয়ান সমর্থক ভাস্ক। গার্সিয়া নামে আরেক সমর্থক জানান, ‘মাঠের দুর্দান্ত নৈপুণ্য দিয়ে আমাদের আনন্দের উপলক্ষ করে দেয়া ফুটবলারদের ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে তাদের সাফল্য কামনা করছি।’

হতাশ নন দেশটির শীর্ষ কর্তারাও। প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘দুর্দান্ত নৈপুণ্যের জন্য রাশিয়ান জাতীয় ফুটবল দলকে অনেক ধন্যবাদ।’ মস্কোর ব্যস্ত রাস্তার পথচারী মারিয়া বলছিলেন, ‘আমরা জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরেছি। এটা হতাশার। যারা সেমিফাইনালে গেছে, তাদের জন্য শুভকামনা।’

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মশগুল ছিলেন নিজাভিচ। আলোচনার বিষয়বস্তু বিশ্বকাপ ও রাশিয়ার বিদায়। তার কথায়, ‘সোভিয়েত-পরবর্তী সময়ে রাশান ফুটবলের সেরা অর্জন এটা। আমাদের উৎসবের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দল হেরে যাওয়ায় সবই ভেস্তে গেছে। তার পরও আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপ আয়োজন ও দলের নৈপুণ্য অগামী দিনে দেশের ফুটবলকে আরো এগিয়ে নেবে।’

এদিকে সেমিফাইনালের লাইনআপ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার অন্যান্য আয়োজক শহরে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের চাপ কমতে শুরু করেছে। দুটি সেমিফাইনালের একটি মস্কোয়, আরেকটি সেন্ট পিটার্সবার্গে হবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সেন্ট পিটার্সবার্গে, ফাইনাল হবে মস্কোয়। দুটি আয়োজক শহর ছাড়া বাকি নয় আয়োজক শহরের আলো নেভার প্রতীক্ষায়।

SHARE