Home কক্সবাজার কক্সবাজারে চেক প্রতারনা মামলায় জামিন নিলেন কোরাল রীফের চেয়ারম্যান ড. ফখরুল ইসলাম

কক্সবাজারে চেক প্রতারনা মামলায় জামিন নিলেন কোরাল রীফের চেয়ারম্যান ড. ফখরুল ইসলাম

229
SHARE

সোয়েব সাঈদ,রামু(১২ জুলাই) :: কক্সবাজারের চেক প্রতারনা মামলায় বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন কোরাল রীফ প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর মালিক ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম।

চেক প্রতারনা অভিযোগে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ড. ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুটি মামলা করা হলে গত মঙ্গলবার (১০ জুলাই) তিনি আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এসময় যুক্তিতর্ক শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে জামিন দেন।

জানা গেছে, উনার মালিকানাধীন কক্সবাজারের কলাতলির মোড়ে নির্মানাধীন পাঁচ তারকা হোটেলের টাইম শেয়ারিং রুম বিক্রির পর কাজ বন্ধ থাকায় মুল্য ফেরত জনিত কারনে দেয়া দুটি চেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বারবার ডিসঅর্নার হওয়ায় মামলা দুটি করেছেন রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল আসকর পাড়ার মৃত জালাল আহম্মেদ এর ছেলে কাতার প্রবাসী বেলাল আহম্মেদ। মামলা দুটির নাম্বার সিআর ৪৯৩/২০১৮ এবং সিআর ৪৮৬/২০১৮।

মামলার বাদী বেলাল আহম্মেদ জানান, জামিন নিতে গিয়ে বিজ্ঞ আদালতে অযৌক্তিক ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন ডঃ ফখরুল ইসলামের আইনজীবি। এসময় মামলার বাদি সর্ম্পকে অনেক অসত্য তথ্য তুলে ধরেছেন। যা চরম মানহানিকরও।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কোরাল রীফ প্রপার্টিস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান ডঃ ফখরুল ইসলাম কলাতলি মোড়ের অর্ধনির্মিত পাঁচ তারকা হোটেলের টাইম শেয়ারিং রুম ফেরত নেয়া বাবদ বাদী বেলাল আহম্মেদকে গত ২০১৭ সালের ৩০ আগষ্ট ইসলামী ব্যাংকের অনুকুলে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৩৫ টাকা এবং ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের অনুকুলে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৩৬ টাকার দুটি চেক প্রদান করেন।

পরবর্তীতে বেলাল আহমদ ইসলামী ব্যাংক রামু শাখায় ৬ মাস যাবত চেক দুটির বিপরীতে বারবার টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডঃ ফখরুল ইসলামের একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ৬ মাস অপেক্ষার পর চেক দুটি ডিসঅর্নার করে দেন।

ভুক্তভোগী বেলাল আহমদ এনিয়ে ডঃ ফখরুল ইসলাম এর কাছে বারবার তদবির করে ব্যার্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞ আইনজীবির মাধ্যমে উকিল নোটিশ প্রেরণ করতে বাধ্য হন । পরে নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল তিনি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

বাদী কাতার প্রবাসী বেলাল আহম্মেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডঃ ফখরুল ইসলামের ব্যাংক একাউন্টে টাকা না থাকা সত্ত্বেও তাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে দুটি চেক দিয়ে তার ক্লায়েন্ট বাদীর বিশ্বাস ভঙ্গ এবং চরম প্রতারনা করেছেন। কিন্তু জামিন নিতে গিয়ে তিনি উল্টো তার (বাদী) বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এতে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। তিনি প্রতারক ডঃ ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে তার প্রাপ্য অর্থ আদায়ের জন্য বিজ্ঞ আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, কক্সবাজারের কোরাল রীফ প্লাজায় দোকান বিক্রি সহ তার মালিকানায় নির্মানাধীন বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে গ্রাহকদের সাথে বিভিন্নভাবে প্রতারনা ও হয়রানির অনেক অভিযোগ রয়েছে। বুয়েটে শিক্ষকতার পেশাকে পূঁজি করে প্রতারণার মাধ্যমে তিনি শপিং মল, তারকা হোটেল, ইনানি-লামায় দামি জমি ক্রয়সহ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বুয়েটের একজন শিক্ষক হয়েও এই মহত পেশার আড়ালে নিরীহ জনগন ও খেটেখাওয়া প্রবাসীদের সাথে ধারাবাহিক প্রতারণা সহ সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিভাবে পরিচালনা করেন, তা নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলেছেন।

SHARE