Home কক্সবাজার টেকনাফে পাহাড়ী ছড়া হতে ২জনের লাশ উদ্ধার : পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যাকান্ড

টেকনাফে পাহাড়ী ছড়া হতে ২জনের লাশ উদ্ধার : পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যাকান্ড

133
SHARE

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ(১৩ জুলাই) :: টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা বস্তি সংলগ্ন পাহাড়ী খাল হতে ভাসমান অবস্থায় ইউপি মেম্বার নুরুল হুদার ছোট ভাই শামসুল হুদার জবাই করা লাশসহ ২জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শামসুল হুদা পরিবারের দাবী এলাকায় বিদ্যমান প্রতিপক্ষ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

জানা যায়, ১৩ জুলাই সকালে একদল রোহিঙ্গা উপজেলার হ্নীলাস্থ লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ের পশ্চিমে ছড়ায় দু’টি ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে লোকজনকে খবর দেয়।

লোকজন দলে দলে গিয়ে দেখতে পায় ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল হুদার ছোট ভাই, মরহুম আবুল কাশেমের পুত্র শামসুল হুদা (২৮) এবং লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ২৫৪ নং রোমের বাসিন্দা রশিদ আহমদ প্রকাশ লাল বুইজ্জার পুত্র রহিমুল্লাহ (২৩) এর মৃত দেহ বলে সনাক্ত করেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই পুরো উপজেলায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ভাসমান লাশের খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পোস্ট মর্টেমের জন্য লাশ ২টি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

লেদা রোহিঙ্গা বস্তির চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব বলেন, সকালে লোকজন পাহাড়ে যাওয়ার সময় ছড়ায় ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে খবর দিলে লোকজন গিয়ে দেখে তাদের সনাক্ত করে। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে নিহত শামসুল হুদার মেঝ ভাই নুরুল হুদা মেম্বার বলেন, ২০০৪ সালের ২৭ জুন আমার বাবা কাশেম হত্যাকারীরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের জন্য ভাড়াটে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের চক্রান্ত করে আসছে। এছাড়া আমি কাশেম হত্যা মামলার বাদী, নিহত শামসুল হুদা আমার ভাই নুরুল কবিরকে ছিনতাই মামলার বাদী ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় মৃত আবু বক্কর মেম্বারের পুত্র রাসেল, আবছার কামাল ও মর্জিনা মেম্বার, দক্ষিণ আলীখালীর মৃত মকবুল আহমদের পুত্র জুহুরসহ একটি শক্তিশালী চক্র মিলে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই নৃশংস ঘটনার আশ্রয় নিয়েছে। এই ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

এই ব্যাপারে মর্জিনা আক্তার ছিদ্দিকী বলেন, তাদের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধীদের কারণে কোন ঘটনা ঘটলে আমাদের দায়ী করে। তবে আমি লোকজন মারফতে জানতে পেরেছি আলীখালীর জামাল মেম্বারের পুত্র আজমের সাথে ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটছে। তবে রাসেলের বিষয়ে আমরা ভাল-মন্দ কিছুই জানিনা।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার বলেন, সম্প্রতি অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার এবং খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মানুষ আতংকিত হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এসএম আতিক উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল হতে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এইটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দু’টি পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় অপরাধীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বিশেষ কিলিং স্কোয়াড মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ভাড়াটে খুনীসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অপকর্ম করে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোয় পাহাড়ী জনপদ নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে।

SHARE