Home কক্সবাজার নাইক্ষ্যংছড়ির সবুজ পাহাড় পর্যটকদের হাতছানি ডাকছে

নাইক্ষ্যংছড়ির সবুজ পাহাড় পর্যটকদের হাতছানি ডাকছে

165
SHARE

হাবিবুর রহমান সোহেল,নাইক্ষ্যংছড়ি(১২ জুলাই) :: বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির সবুজে সবুজে ছড়িয়ে থাকা পাহাড় ঘেরা সুন্দর্য এবং শুন্যের উপর দাড়িয়ে থাকা ঝুলন্ত ব্রীজ সহ আরো অসংখ্য দর্শনীয় স্থান ভ্রমন পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। উঁচু পাহাড় কিংবা চিরসবুজ নিরাপদ বনানীতে হারিয়ে যেতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ির কথা ভাবতে পারেন।

বন-বনানী, বন্যপ্রাণী, পাহাড়-পর্বত যাদের পছন্দ তাদের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি। জায়গাটি এক কথায় ভীষণ সুন্দর। উপভোগ করার মতোই বটে। মিয়ানমারের পিঠ ঘেঁষে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অবস্থান। বান্দরবান জেলার অন্তর্গত হলেও জেলা সদর থেকে অনেকটাই দূরে নাইক্ষ্যংছড়ি।

পথও দুর্গম। বান্দরবান হয়ে ওখানে যাওয়া খানিকটা কঠিনও। তার চেয়ে ভালো কক্সবাজার হয়ে যাওয়াই। কক্সবাজার জেলা থেকে মাত্র ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাইক্ষ্যংছড়ি। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ। নাইক্ষ্যংছড়িতেই অবস্থিত ‘নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন কেন্দ্র’।

দারুণ এক নৈসর্গিক স্থান বলা যায় এটিকে। দুই পাহাড়ের মধ্যখানে কৃত্রিম হ্রদ খনন করে ১৯৯৪ সালে এ পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানকার হ্রদের জল স্বচ্ছ নীলাভ। মনে হতে পারে কেমিক্যাল মেশানো জল। প্রথম দর্শনেই যে কেউ মোহিত হবেন। আসলে ওই ধরনের কিছুই নয়। জল জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটেনি এখানে।

প্রকৃতির ছোঁয়ায় জল ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। অপূর্ব সে দৃশ্য না দেখলে নিজ দেশটাকে ভালোভাবে দেখা হয়নি বলে ধরে নেবেন। এখানে প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। প্রমাণ হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রের গাছবাড়ি। দ্বিগুণ জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে পর্যটন কেন্দ্রের গাছবাড়িটি।

পাহাড়ের ওপরে মোটাসোটা রেইনট্রি গাছের মাঝামাঝি তেডালে এ বাড়িটি টিন-কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১৫-২০ ফুট উপরে উঠে বাড়িতে বসে খানিকটা বিশ্রাম নিলেই শরীর-মন ফুরফুরে হয়ে যাবে নিমেষেই। গাছবাড়িতে বসে সবুজ বন-পাহাড়ের হাতছানিতে মুগ্ধ না হয়ে পারবে না কেউই। তার ওপর রয়েছে হ্রদে বড় বড় রুই-কাতল মাছের দাপাদাপি যা গাছবাড়িতে বসলেই স্পষ্ট নজরে পড়বে।

এ ছাড়া নজর পড়বে ছায়ানিবিড় সবুজ গাছ-গাছালি ও রাবার বাগানের সারির ওপর। নজর পড়বে জলের ওপর ঝুলন্ত সেতুটিও, যা পর্যটন কেন্দ্রটাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শিউর হয়েই বলা যায়, মনোমুগ্ধকর সেই বন-পাহাড়ের নজরকাড়া দৃশ্যে মোহিত না হয়ে পারবেন না পর্যটক। উপবনের অদূরে রয়েছে কুমিরের খামার, রয়েছে গয়াল প্রজনন কেন্দ্র। এক কথায় দারুণ এক নৈসর্গিক স্থান পাহাড়িকন্যা নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন পর্যটনকেন্দ্র।

এ ছাড়া দেখা যাবে উঁচু সব পাহাড়ের সারি। রাবার বন আলাদা জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ির। রাস্তার দু’ধারে রাবার গাছের সারি। গাছ কেটে রস সংগ্রহ করছেন চাষিরা। চমৎকার সে দৃশ্য যাতায়াতকালে দু’চোখ ভরে দেখার সুযোগ হয় পর্যটকদের। পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর তীব্র স্রোতের পাশ কেটে গাড়ি হাঁকিয়ে গেলে নিজের ভেতর একটু হলেও শিহরণ জাগবে।

আবার সমতলে চলে এলে সেখানকার দৃশ্যেও মন মজে যাবে উল্লাসে। রাস্তার দু’ধারে ফসলের মাঠ, শেষ প্রান্তে সারিবদ্ধ পাহাড়। মাঝেমধ্যে দু’চারটা গাছও নজরে পড়ে। যা দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় নিমেষেই এবং পর্যটক বাধ্য হন বারবার নাইক্ষ্যংছড়ি ছুটে যেতে।

নাইক্ষ্যংছড়ির পর্যটন বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচির সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি একটি শান্ত ও পাহাড় ঘেরা পর্যটন এলেকা। এখানে ভ্রমন পিপাসুরা যে কোন সময় আসতে পারেন।

SHARE