Home কক্সবাজার পেকুয়ায় প্রেমিক জুটি আটক, আসামী-৪

পেকুয়ায় প্রেমিক জুটি আটক, আসামী-৪

50
SHARE

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১৩ জুলাই) :: পেকুয়ায় প্রেমিক জুটিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পেকুয়া থানায় একটি অপহরন মামলা রুজু হয়েছে।

১২ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পেকুয়া থানা পুলিশ প্রেমিক জুটিকে আটক করে। এ সময় পেকুয়া থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়। যার নং ০৭/১৮।

মামলায় প্রেমিক পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র আরমান(১৫), তার মা পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী মোসাম্মৎ শাহজাহান বেগম বড় ভাই পেকুয়া কলেজ গেইট চৌমুহনীর হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসাইন, ভগ্নিপতি টইটংয়ের পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের জেবর মুল্লুকের ছেলে সাহাদাত হোসেনসহ ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে।

আটককৃত প্রেমিক জুটিরা হলেন সদর ইউনিয়ন মাইজপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে স্কুল ছাত্র আরমান(১৫) ও প্রেমিকা শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী জন্নাতুল নাঈম(১৪)। পুলিশ আরমানকে আটক করে। তবে প্রেমিক জুটি আটক অত:পর অপহরন মামলা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, জন্নাতুল নাঈম ও আরমানের মধ্যে মন দেয়া নেয়া চলছিল। তারা এক সপ্তাহ আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। প্রেমিক জুটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এ বিয়ে দু’পরিবার মেনে নেয়নি। পরিনত বয়স না হওয়ায় কাবিন সম্পাদন হয়নি। তবে তারা আকদ সম্পন্ন করে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালীতে ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রেমিক জুটিকে পেকুয়া সদর ইউপিতে হাজির করায়। ৪ জন ইউপি সদস্যের মধ্যস্থতায় বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা ছিল।

ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসাইন এ ২ জনকে পরিষদে নিয়ে আসে। এ সময় ছেলে ও মেয়ে পক্ষকে নিয়ে পরিষদে বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি অমীমাংসিত ছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় কিশোর ও কিশোরীকে পেকুয়া থানায় প্রেরন করে।

সুত্র জানায়, পেকুয়া থানার এস,আই শফিকুর রহমান বিষয়টি সমাধানের আস্বস্থ করছিলেন। এ সময় সন্ধ্যা ৭ টার দিকে প্রেমিক আরমানের মা শাহজাহান বেগম ও ভগ্নিপতি সাদাত হোসেনকে থানায় ডেকে পাঠায়।

এ সময় শাশুড়ী ও মেয়ের জামাতাকে আটকিয়ে ৪০ হাজার টাকা দাবী করছিলেন পুলিশ। ২০ হাজার টাকা নিয়ে রাত ৩ টার দিকে এ ২ জনকে ছেড়ে দেয়। শর্ত ছিল অবশিষ্ট ২০ হাজার টাকা দিলে পুলিশ আরমানকে ছেড়ে দেয়াসহ মামলা থেকে নিষ্কৃতি দেবে।

তবে আরমানের মা শাহজাহান বেগম জানায়, এ বিষয়ে ৪০ হাজার টাকা দাবী করছিল পুলিশ। ২০ হাজার টাকা দিলেও পুলিশ প্রেমের এ ঘটনাকে অপহরন সাজায়। পরবর্তীতে মামলা রেকর্ড করে। আমি আমার ছেলে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও মেয়ের জামাই শাহাদাত এ মামলার আসামী হয়েছি। ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন জানায়, তারা অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক।

আমার ওয়ার্ডে একটি বাসায় থাকত। আসলে পরিষদে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা ৪ ইউপি সদস্য এদের শর্তসাপেক্ষে পরিষদে হাজির করি। এটি অপহরন হবে না। যেহেতু ২ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বিয়েটিও ঝামেলায় থাকবে।

জেনেছি তারা দেড় মাস আগে আরেকবার বাড়ি থেকে পালায়। বিবাহ করতে এ ২ জন সটকে পড়ছিল। টইটংয়ে এ ২ জন আটক হয়। চেয়ারম্যান মেয়ে ও ছেলেকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

আনোয়ার হোসেন জানায়, আমার ছোট ভাই পড়ালেখা করে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন ছিল। আমরা তাকে কি প্রেম করতে দিয়েছিলাম। আসলে পুলিশ চরম অবিচার করেছে। এ ভাবে আমরা যারা আ’লীগ করি ও হালাল রুজি রোজগার করি পুলিশ এ সবের অন্তরায় হয়েছে পেকুয়ায়। অপহরন হয়নি। এরপরও এ মামলা অবিচার হয়েছে।

পেকুয়া থানার এস,আই শফিকুর রহমান জানায়, মামলা হয়েছে। তদন্ত চলবে। কেউ নিরাপরাধ হয়ে থাকলে এদের আইনী সহায়তা করা হবে।

SHARE