Home শীর্ষ সংবাদ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নদের মশাল ফ্রান্সের হাতে

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নদের মশাল ফ্রান্সের হাতে

116
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১২ জুলাই) :: চ্যাম্পিয়নদের ‘বিপদ সংকেত’ দিয়েই শুরু হয় এবারের বিশ্বকাপ। বাছাই পর্ব থেকেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও তিন-তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসের। রাশিয়া বিশ্বকাপে বল মাঠে গড়াতেই চ্যাম্পিয়নদের এ ‘বিপদ সংকেত’  রূপ নিল ‘মহাবিপদ সংকেত’-এ।

গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ল বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি। ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলো আট-আটবার ফাইনাল খেলা জার্মানরা। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়তে পড়তে কোনো রকমে টিকে যায় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

সচরাচর দেখা যায়, গ্রুপ পর্বে দুয়েকটা অঘটন ঘটলেও নকআউট পর্বে এসে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয় জায়ান্টরা। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপে চলতেই থাকল চ্যাম্পিয়নদের পতনের মিছিল। প্রথম নকআউট যুদ্ধেই বিশ্বকাপের দর্শক বনে গেলেন গত এক দশকেরও বেশি সময় ফুটবল দুনিয়াকে শাসন করা মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

দুদুবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩-৪ গোলের ব্যবধানে হারল ফ্রান্সের কাছে। বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ২০১৬ ইউরো কাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ নিয়েই রাশিয়া মিশনে নামে রোনালদোর পর্তুগাল।

কিন্তু শেষ ষোলোতেই ‘সিআর সেভেন’ ও তার সতীর্থদের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে  দিল উরুগুয়ে। বিদায়ঘণ্টা বাজল ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী ও দুদুবারের ইউরো শিরোপাধারী স্পেনেরও। স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছেন মাঝমাঠের শিল্পী আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।

চ্যাম্পিয়নদের কান্না থামল না কোয়ার্টার ফাইনালেও। ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের অপেক্ষা বাড়ল আরো। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গর্ব খর্ব করল বেলজিয়াম। গত কয়েক বছর ধরে মেসি-রোনালদোর পাশাপাশি উচ্চারিত হওয়া নেইমারেরও জায়গা হলো দর্শকের সারিতে। দুদুবারের বিশ্ববিজয়ী উরুগুয়ের স্বপ্নের সমাধি রচনা করল ফ্রান্স। শেষ চারে চ্যাম্পিয়ন দলের সংখ্যা নেমে এল দুইয়ে। ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড।

এর মধ্য দিয়ে যেন নতুন যুগে প্রবেশ করল বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে  সেমিফাইনালে ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা   আর্জেন্টিনা— এ তিন দলের কারো উপস্থিতি নেই এমন ঘটনা ঘটল প্রথমবারের মতো।

চ্যাম্পিয়নদের জন্য কি তবে এ বিশ্বকাপ মরণফাঁদ? সামনে চলে এল এ প্রশ্নটি। তবে প্রথম সেমিফাইনালে চ্যাম্পিয়নদের জয়বার্তাই যেন ঘোষণা করলেন  ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম। পুরো আসরেই দুর্দান্ত খেলা বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারাল ফরাসিরা।

বিশ্বকাপ মানেই যেন বনেদিয়ানার  জয়জয়কার, সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অনুগামী। ফ্রান্সের পর ইংল্যান্ড জিতলেই সেই পুরনো চিত্রনাট্যই আসত ঘুরেফিরে। কিন্তু চমক জাগানিয়া রুশ বিশ্বকাপ থেমে থাকল না এখানেই। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারল ১৯৬৬-এর বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ড।

এবারের ফাইনালে তাই এক ভিন্ন বাস্তবতা। বিশ্বকাপ সমৃদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারীই  থাকবে নাকি নতুনের জয়গানে মুখরিত হয়ে উঠবে, তারই যেন এক অগ্নিপরীক্ষা আগামী রোববার ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল ম্যাচটি।

বিশ্বকাপ নতুন চ্যাম্পিয়ন উপহার দিয়েছে ২০১০ সালের আফ্রিকা বিশ্বকাপে। ওই আসরে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস ও স্পেন। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের পার্থক্যটিও কিন্তু সুস্পষ্ট। বিশ্বকাপ তো দূরে থাক, বড় আসরে চ্যাম্পিয়ন শব্দটির সঙ্গে কোনোই যোগ নেই ক্রোয়াটদের। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল।

এবারের আসরের আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপে তারা সর্বশেষ সেমিফাইনাল খেলেছিল ১৯৯৮ সালে। বিপরীতে  ফুটবল ইতিহাসের ঐতিহ্য-গরিমার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার আগে ২০০৮ সালে  ইউরো শিরোপা জিতেছিল স্পেন। ১৯৮৮ সালের ইউরো শিরোপাজয়ী নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে তিন-তিনবার। বলা যায়, ১৯৫৮ সালের পর অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত কোনো দল ফাইনাল খেলছে এবারের আসরে।

মনে রাখতে হবে,  ১৯৫৮ সালের ওই বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পেয়েছিল সুইডেন। পক্ষান্তরে সবকিছুই নতুন করে লিখতে হচ্ছে ক্রোয়াটদের।

চ্যাম্পিয়ন শব্দটি ক্রোয়াটদের অচেনা। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন শব্দটির সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়, তারাই যেন এবারের বিশ্বকাপে বড্ড বেশি অচেনা। একমাত্র ব্যতিক্রম ফ্রান্স। বিশ্বকাপের সঙ্গে ইউরো জয়ের কীর্তিও আছে তাদের ঝুলিতে। চ্যাম্পিয়নদের গরিমা ধরে রাখার শেষ নাম এখন ফ্রান্স।

SHARE