Home কক্সবাজার পেকুয়ায় প্রবাহমান খালে বাঁধ তৈরী, বিপাকে দুই শতাধিক পরিবার

পেকুয়ায় প্রবাহমান খালে বাঁধ তৈরী, বিপাকে দুই শতাধিক পরিবার

95
SHARE

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১৬ জুলাই) :: পেকুয়ায় নেই রাস্তা। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। বর্ষার সময় পানিতে বন্দী থাকা প্রায় ২০টি পরিবারের চলাচলের অন্যতম প্রানস্পন্দন এ নৌকা। পরিবারের যাতায়াতে রাস্তাঘাট ছিল। বর্ষায় পানি আটকিয়ে থাকায় চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়।

এতে করে এ সব পরিবারের অন্তত শতাধিক মানুষের যোগাযোগের প্রধান ভরসা একমাত্র নৌকা। উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দরদরিঘোনা গ্রামে নৌকায় চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। দরদরিঘোনা আগারঘোনা নামক স্থানে পানি চলাচল পথে বাঁধ তৈরী করে।

কিছু অসাধু প্রভাবশালী চক্র দরদরি প্রবাহমান খালে বাঁধ তৈরী করে। কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে মাছ আহরন করছে তারা। এতে করে মগনামা ইউনিয়নের দরদরিঘোনা গ্রামের অন্তত শতাধিক পরিবার পানিবন্ধী হয়েছে। এরই মধ্যে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয় ২০ টি পরিবারের মধ্যে।

এ সব পরিবার গত তিন মাস ধরে পানিবন্ধী রয়েছে। খালে বাঁধ তৈরী হওয়ায় দরদরিঘোনাসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। কিছু পরিবার চলাচলের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বাড়িঘর,পুকুর পানিতে তলিয়ে যায়।

উঠান ও বসতভিটায় পানি থাকায় এ সব পরিবারে নিদারুন দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, দরদরিঘোনা গ্রামে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি আটকিয়ে গ্রামটি পানিতে সয়লাব হয়। দরদরিঘোনার একাধিক রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত।

বিশেষ করে জিল্লুর করিম, ফজল করিম, মহিউদ্দিন, আবু তাহের, পুতু মাঝি, আবদুল করিম,আবুল হোসনসহ আরও বেশ কিছু ব্যক্তির পরিবার পানিতে আটকা পড়েছে। গত কয়েক বছর আগে এ সব পরিবার যাতায়াত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হয়। গ্রামীন অবকাঠামো নির্মিত হয়েছিল। ছোট ছোট রাস্তা ছিল এ সব পরিবারের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।

গত কয়েক বছরের ব্যবধানে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। খাল ও হাওড়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছ চাষীরা বর্ষার সময় পানি আটকিয়ে রাখে। পানির আঘাতে এ সব রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়। জিল্লুর করিমের পরিবারের যাতায়াত থেমে গেছে।

তার ভাই ফজল করিমসহ বাপ দাদার ভিটায় যে সব পরিবার বসবাস করছিল তারা পানির কারনে অবরুদ্ধ হয়েছে। চলাচল রাস্তা বিলীন হয়েছে। একটি কাঠের তৈরী ঝুলন্ত কালভার্ট স্থিত আছে। এ সড়কের স্বাক্ষী হল এ কালভার্ট। প্রায় ৫-৬ চেইন সড়ক বিলীন হয়েছে।

৮ম শ্রেণীর ছাত্র মিজান, কলেজ ছাত্রী খতিজা বেগম, মগনামা রশিদিয়া মাদ্রাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্র ফোরকান জানায়, ১ বছর আগেও এখানে রাস্তা ছিল। বর্ষার সময় দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করে। শুষ্ক মৌসুমে লবণের মাঠের আইল দিয়ে চলাচল করি। রাস্তার চিহ্ন খুজে পাওয়া যাবে না। মাটি সরে গেছে।

এখন সড়ক বিলীন হয়েছে। দরদরিঘোনার মানুষের যাতায়াত থেমে গেছে। মক্তবে যাওয়া যায় না। আমরা নৌকায় পাড়ি দিয়ে পড়ালেখা করতে প্রতিষ্টানে যায়। কতবার বই, খাতা পানিতে নষ্ট হয়েছে তার হিসাব মেলা যাবে না। আমরা আর কতদিন দুর্ভোগের মধ্যে থাকব।
জগুন খাতুন(৮০) জানায়, আমি বার্ধক্য জনিত রোগে ভোগছি। নৌকা ছাড়া চলাফেরা অচল হয়েছে।

সরকার আমাদের এ দুর্ভোগগুলো দেখে না। আমরা সবাই গরীব। এলাকাও অনুন্নত। ইউপি সদস্য আলমগীর জানায়, আমির হামজাবর বাড়ি থেকে মগঘোনা সফদার মাষ্টারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এ সড়কটি অবশ্যই উন্নয়ন জরুরী।

জিল্লুর করিমের পরিবারসহ দরদিরঘোনার পূর্ব ও পশ্চিম অংশের বিপুল জনগোষ্টী পানিতে অবরুদ্ধ। এ সব সমাধান না হলে এ সব এলাকায় মানুষের বসবাস দুস্কর হবে।

SHARE