Home সাহিত্য ওসামা বিন লাদেন কী ধরনের বই পড়তেন ?

ওসামা বিন লাদেন কী ধরনের বই পড়তেন ?

93
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ জুলাই) :: ওসামা বিন লাদেন কী ধরনের বই পড়তেন বা তার সংগ্রহে কী কী বই ছিল- এই কৌতুহল সবার। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামাকে গ্রেফতারের সময় তার শেলফের বইও জব্দ করে আমেরিকার নৌবাহিনীর সীল গ্রুপ।

পরবর্তিকালে তার বাসা থেকেও আরো বই জব্দ করা হয়। এই বইয়ের উপর মার্কিন সরকার এতদিন গবেষণা করেছে, যার শিরোনাম ছিল, “লাদেন’স বুক সেলফ”। সম্প্রতি এই বইয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সূত্র, ইন্ডিপেন্ডেন্টট।

বইগুলোর নাম পড়লেই বোঝা যাবে, চমস্কি কিংবা প্যালাস্টের মতো ওসামা বিন লাদেনও মার্কিন সরকারকে নিয়ে অন্যভাবে ভেবেছিলেন, বিশ্লেষণ করেছিলেন গভীরভাবে। এছাড়া রাজনীতি, আইন এবং বিশেষত ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের বইগুলোর দিকে সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টি রাখলে খুঁজে পাওয়া যাবে আসল ওসামা বিন লাদেনকে।

জব্দ করা বইগুলোর সবগুলোই ইংরেজি এবং অধিকাংশের লেখকই মার্কিন। মার্কিন সরকার লাদেনের পাঠ্য তালিকায় যে কয়টি বইয়ের নাম প্রকাশ করেছে তা নিম্নরূপ:

এন্থোনি অ্যাস্টের “হ্যান্ডবুক অফ ইন্টারন্যাশনাল ল”;

আমেরিকান গবেষক শেরিল বারনার্ডের “সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম : পার্টনার্স, রিসোর্সেস অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক্স”;

আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও সমালোচক উইলিয়াম ব্লামের “কিলিং হোপ : ইউএস মিলিটারি অ্যান্ড সিআইএ ইন্টারভেনশন সিনস ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু” এবং “রোগ স্টেট : এ গাইড টু দ্য ওয়ার্ল্ড অনলি সুপারপাওয়ার”;

নোয়াম চমস্কির “নেসেসারি ইল্যুশনস : থট কন্ট্রোল ইন ডেমোক্র্যাটিক সোসাইটি” এবং “হেগেমোনি অর সারভাইভাল : আমেরিকার’স কোয়েস্ট ফর গ্লোবাল ডোমিন্যান্স”;

ক্রিস্টিন ফেয়ার এবং পিটার চকের “ফোরটিফাইয়িং পাকিস্তান : দ্য রোল অফ ইউএস ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাসিসট্যান্স” (শুধুমাত্র এই বইটির ভূমিকা অংশ);

কানাডিয়ান অর্থনীতিবিদ মিশেল চোসুডোস্কের “আমেরিকান ওয়ার অন টেরোরিসজম”;

জন কোলম্যানের “কনসপিরাটরস হাইরকি : দ্য কমিটি অফ থ্রি হান্ড্রেড”;

ব্যারি কপারের “নিউ পলিটিক্যাল রিলিজিয়নস অর এনালাইসিস অফ মডার্ন টেরোরিজম”;

জেমস কারবট্রির “গেরিলা এয়ার ডিফেন্স : এন্টিএয়ারক্রাফট ওয়েপনস অ্যান্ড টেকনিক ফর গেরিলা ফোর্স”;

ডেভিড রে গ্রিফিনের, “নতুন পার্ল হারবার : ডিস্টার্বিং কোশ্চেনস এবাউট দ্য বুশ এডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ৯/১১”;

সিআর হেইন্সের “ক্রিশ্চিয়ানিটি অ্যান্ড ইসলাম ইন স্পেন ৭৫৬-১০৩১ এডি”;

ম্যানলি হলের “দ্য সিক্রেট টেকনিকস অফ অল এজেস”;

বেভ হ্যারিসের “ব্লাক বক্স ভোটিং, ব্যালট টেম্পারিং টেম্পারিং টুয়েন্ট ফার্স্ট সেঞ্চুরি”;

রবার্ট হপকিন্স মিলারের “দ্য ইউএস অ্যান্ড ভিয়েতনাম ১৭৮৭-১৯৪১”;

জন হিউজ-উইলসনের “মিলিটারি ইনটেলিজেন্স ব্লান্ডার্স”;

আইএ ইব্রাহিমের “এ ব্রিফ গাইড টু আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইসলাম”;

জন আইকনবেরি এবং মাইকেল মস্তান্ডানোর “ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস থিওরি অ্যান্ড দ্য এশিয়া প্যাসিফিক”;

পল কেনেডির “দ্য রেইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য গ্রেট পাওয়ার্স”;

অসীম আবদুল মজিদ, এসাম উদদীন এবং ড. নাহা ইব্রাহিমের লেখা “ইন পারসুইট অফ আল্লাহ্‌স প্লেজার”;

কলিন মাসুনের “দ্য ২০৩০ স্পাইক”;

উইলার্ড মথিয়াসের “আমেরিকা’স স্ট্রাটেজিক ব্লান্ডার্স”;

ইস্টেস মুলিন্সের “সিক্রেট অফ ফেডারেল রিজার্ভ”;

মাইকেল ও’হ্যানলনের “আনফিনিশড বিজনেস, ইউএস অভারসিস মিলিটারি প্রেজেন্স ইন দ্য টুয়েন্টি ওয়ান সেঞ্চুরি”;

জন পারকিন্সের “কনফেশন অফ এন ইকোনমিক হিট ম্যান”;

গ্রেগ প্যালাস্টের “দ্য বেস্ট ডেমোক্রেসি মানি ক্যান বাই”;

জেফরি রেকর্ডের “বাউন্ডিং দ্য গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর”;

হ্যানা রোগানের “আল কায়েদা’স অনলাইন মিডিয়া স্ট্রাটেজিক্স : ফ্রম আবু রয়টার টু ইরহাবি ০০৭”;

মাইকেল রোপারটের “ক্রসিং দ্য রুবিকন”;

মাইকেল শয়ারের “ইম্পোরিয়াল হাবরিস”;

হেনরি সকোলস্কি এবং প্যাট্রিক ক্লাউসনের “চেকিং ইরান’স নিউক্লিয়ার এমবিশনস”;

রিচার্ড স্প্রাগের “দ্য টকিং অফ আমেরিকা ১-২-৩”;

ফ্রিটস স্প্রিংমাইয়ারের “ব্লাডলাইন্স অফ দ্য ইলুমিনাটি”;

অ্যান্টোনি সাটনের “দ্যা বেস্ট এনিমি মানি ক্যান বাই”;

চার্লস টাউনসেন্ডের “অক্সফোর্ড হিস্টোরি অফ মডার্ন ওয়ার”;

এবং বব উডওয়ার্ডের “ওবামা’স ওয়ার”।

আমেরিকান কথাসাহিত্যিক ওয়াল্টার মুসলে বলেছিলেন, ‘একজন ব্যক্তির বুকসেলফ সেই ব্যক্তি সম্পর্কে প্রায় সবটুকু বলতে পারে।’ বিন লাদেনের বইয়ের তালিকা দেখলে বোঝা যায় তিনি রাজনীতি, আইন, ধর্ম, যুদ্ধ, বিশেষ করে ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব সম্পর্কে খুবই আগ্রহী ছিলেন।

মার্কিন পণ্ডিত নোয়াম চমস্কি গণতান্ত্রিক সমাজের বিভিন্ন চিন্তা নিয়ন্ত্রণের উপর ভিত্তি করে ১৯৮৯ সালে “নেসেসারি ইল্যুশনস : থট কন্ট্রোল ইন ডেমোক্র্যাটিক সোসাইটি” বইটি লেখেন। বইটিতে তিনি রাজনৈতিক শক্তিগুলি কীভাবে রাজনৈতিক প্রপাগাণ্ডা প্রচার করে এবং মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও বিকৃতি সৃষ্টি করে ও গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যহত করে মূলত তারই ব্যাখ্যা করেছেন। নোয়াম চমস্কি প্রথম থেকেই মার্কিন নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন।

তার লেখায় তিনি মার্কিন নীতিকে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এদিক থেকে দেখলে খুব সাধারণভাবেই বোঝা যায় লাদেন নিজেও যেহেতু মার্কিন সমালোচক সেহেতু চমস্কির বই আবশ্যিকভাবেই তার আগ্রহের বিষয় হবে। ঠিক একই বিষয় প্যালাস্টের ক্ষেত্রেও। তিনি “দ্য বেস্ট ডেমোক্রেসি মানি ক্যান বাই” বইতে গণতন্ত্রের আবশ্যকীয় বিষয় ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছেন। লাদেনের বইয়ের তালিকায় এই বইটিও আছে।

এছাড়া বিশ্ব মূলত কাদের মাধ্যমে চালিত হয় তাদের নিয়ে ফ্রিটজ স্প্রিংমাইয়ার “ব্লাডলাইন্স অফ দ্য ইলুমিনাটি” বইতে ব্যাখ্যা করেছেন বিশদভাবে। বইটি স্প্রিংমাইয়ার লিখেছিলেন বছরের পর বছর গবেষণা করে। সেই বইটিও ছিলো লাদেনের বইয়ের তালিকায়।

সবমিলিয়ে লাদেনের বইয়ের তালিকায় যে বইগুলো ছিলো তার সবই খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশ্লেষণধর্মী ও তথ্যবহুল। মার্কিন সরকার বইগুলোর তালিকা প্রকাশ করার পর বইগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দুঃখজনকভাবে এই বইগুলোর অধিকাংশই আর পুনর্মুদ্রিত হয়নি। তবে খুঁজলে হয়তো সেকেন্ড হ্যান্ড বই হিসেবে এগুলোর পাওয়া যেতে পারে।

 

SHARE