Home কক্সবাজার কক্সবাজারের উপকূল নিম্নচাপ ও সামুদ্রিক জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কক্সবাজারের উপকূল নিম্নচাপ ও সামুদ্রিক জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

132
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৭ জুলাই) :: টানা কয়েকদিন ধরে নিম্নচাপ তার উপর ভরা অমাবস্যার তিথিতে সামুদ্রিক জোয়ারে কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় নিচু এলাকা শুরু হয়েছে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস। সেই সঙ্গে চলছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতও।বৈরী আবহাওয়া ও নিম্নচাপের ফলে সাগরে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২/৩ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার উপকূলের বিভিন্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসের জেরে কক্সবাজার সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় আট ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ছে সমুদ্রতটে। আগের কয়েকে দিনের চেয়ে এবার জোয়ারের পানি বেশি।

পানির তোড়ে কক্সবাজার কলাতলী,ডায়াবেটিক পয়েন্ট হুমকির মুখে পড়েছে। সাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকায় বয়ে যাচ্ছে ঝড়ো হাওয়া। আবহাওয়া বিভাগ ইতোমধ্যে উপকূলে ‘তিন নম্বর সতর্ক সংকেত’ প্রচার করেছে। গত শনিবার থেকে উপকূলে শুরু হয়েছে ঝড়ো হাওয়া। এ কারণে সাগরের জোয়ারের পানি ফুঁসে উঠেছে। ফলে উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলের বিধ্বস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া সামুদ্রিক জোয়ারের পানি দুপুর নাগাদ পূর্ণ জোয়ারে পরিণত হয়। বাতাসের ফলে মঙ্গলবার দুপুরে জোয়ারের পানিও বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে।

অস্বাভাবিত জলোচ্ছাস বা সামুদ্রিক জোয়ারে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ির ঝাউবীথি প্লাাবিত হয়ে যায়। জোয়ারের পানিতে একাকার হয়ে যায় সৈকতের কলাতলীর হ্যাচারী জোন ও ডায়াবেটিক পয়েন্ট এলাকা। সামুদ্রিক জোয়ারের পানির তোড়েও ডায়াবেটিক পয়েন্টের ঝাউবীথির বেশ কিছুসংখ্যক গাছ সাগরে ভেসে গেছে। জোয়ারের অব্যাহত ঢেউয়ে কলাতলীর হ্যাচারী পয়েন্ট ও ডায়াবেটিক পয়েন্টটি তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক, সমিতিপাড়া, ফদনার ডেইল, চরপাড়া ও কুতুবদিয়াপাড়া এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। নাজিরারটেক এলাকা ছেনুয়ারা বেগম বলেন,সাগরের জোয়ারের পানিতে পুরো ঘরে ঢুকে পড়েছে। পানির কারণে রান্না করতে না পারায় না খেয়ে রোজা রাখতে হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বাড়ার কারণে কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল এবং উত্তর ধুরুং এর অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে সামুদ্রিক জোয়ারে জেলার মহেশখালীর ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি এবং কুতুবদিয়া দ্বীপেরও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহারপাড়া,কাজির পাড়া, তেলিপাড়া, বায়ুবিদ্যুৎ, কুমিরারছড়া জেলেপাড়া,বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরালিয়া,লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারাকাটা, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ফয়জানিরবাপের পাড়া, চরধুরুং, পশ্চিমচরধুরুং,কাইছারপাড়া, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের আলী ফকির ডেইল,বাতিঘর পাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া,উত্তর বড়ঘোপ এলাকাসহ প্রায় ১৪ কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে ডুকে পড়লে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।এতে শত শত পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পুরো মাতারবাড়ি এখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে।দিবারাত্রি দুই দফার জোয়ারের পানি ফুঁসে উঠে এসব এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

অপরদিকে মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, জোয়ারের প্লাবনে এই ধলঘাটা ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটা চলছে। নিম্নমানের (বালুর বাঁধ) কাজ করায় বেড়িবাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ধলঘাটার উত্তর সুতুরিয়া, বনজামিরা, সরইতলা ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকা জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে।

টেকনাফ উপজেলা শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা হোসেন বলেন, সাগরের জোয়ারের ধাক্কায় দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়ার বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে লোকজনের দুর্ভোগ বেড়েছে।

পাউবো সূত্রমতে, জেলার টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া ও সদর উপজেলার পাউবোর ৫৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে আড়াই কিলোমিটার, মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নে দেড় কিলোমিটার, মাতারবাড়ি ইউনিয়নে ১০০ মিটার ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীতে ৮০ মিটারসহ পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে।

এ ছাড়া জেলার পেকুয়া, কুতুবদিয়া উপজেলায় আরো সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে এসব অর্ধভাঙা ও নড়বড়ে বেড়িবাঁধ বিলীন হতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান এর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া যায়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান,জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙা বেড়িবাঁধ নিয়ে উপকূলের লাখো মানুষ আতঙ্কে আছেন। এব্যপারে পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

SHARE