Home কক্সবাজার কুতুবদিয়ার জলাশয়ে নয় লোকালয়েও জ্বীন আতংক !

কুতুবদিয়ার জলাশয়ে নয় লোকালয়েও জ্বীন আতংক !

289
SHARE

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া(১৬ জুলাই) :: বিগত কয়েকদিন ধরে জ্বীন আতংকে ভোগছে কক্সবাজারের দ্বীড উপজেলা কুতুবদিয়ার সাধারণ জনগণ। শুধু জলাশয়ে নয়, লোকালয়েও উপজেলার উত্তর ধুরুং,কৈয়ারবিল ও বড়ঘোপের কয়েকটি এলাকায় পরপর একই ধরনের অলৌকিক ঘটনা ঘটায় এ আতংক আরো ঘনিভূত হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

কোন সময়,কার উপর সওয়ার হয় কেউ বলতে পারছেনা। দিন দুপুরে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও।

সন্ধ্যার পরে কিংবা আগে এমনকি দিনের সূর্যালোতেও পুকুরে নামতে ভয় পাচ্ছে এলাকার যুবক,বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ঘরের বৌ-ঝিঁয়েরা। মহিলাদের অনেকেই সন্ধ্যার পরে ঘরের বাহির হচ্ছে না বলে লোকমুখে শুনা যাচ্ছে।

এমনকি পুরুষরাও একাএকা কোন স্থানে আসা-যাওয়া করতে ভয় পাচ্ছেন। তাছাড়া উপজেলার সর্বত্র জ্বীন-জ্বীন একটি রব উঠায় জ্বীনের ভয় কেউ সহজে কেটে উঠতে পারছে না।

সন্ধ্যার পর থেকে এলাকার কোচিং সেন্টারগুলোতে সন্তানদের নিতে অভিভাবকদের ভিড় দেখা গেছে।তবে অনেকেই কোচিং করতেই আসেনি বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি অনেকেই নিছক গোজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

১৬ জুলাই বড়ঘোপ ছৈয়দ পাড়ার ৭০ বছরের বৃদ্ধ খাইরুল্লাহ জানান, ওই দিন সকাল ১০টায় ঘোয়াল ঘরে কাজ করছিলেন তিনি। হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসে তার চোখে। ফলে তিনি বসে পড়েন। এরপর তিনি অনুভব করেন তাকে কেউ যেন সজোরে আছাড় দিল। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। পরে মসজিদের ইমামের মাধ্যমে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা হয়।

১৫ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যায় জ্বীনের আক্রমণে আক্রান্ত হন বড়ঘোপ ইউনিয়নের মনোহরখালী গ্রামের হাফেজ শহিদুল্লাহর দশম শ্রেণি পড়–য়া ছাত্র জিয়া উদ্দিন (১৫)।

তার বর্ণনামতে, ৫ কি ১০ মিনিট পরেরই সন্ধ্যার আযান। বাড়ি থেকে বাহির হয়ে মসজিদের দিকেই যাচ্ছিল সে। হঠাৎ সে অনুভব করে তাকে কেউ যেন উপরে তুলে আবার নিচে সজোরে নিক্ষেপ করছে। এর পর সে আর কিছু মনে রাখতে পারেনি। গঠনা স্থলের পাশেই একটি জলাশয়। কিছুক্ষণ পর সে নিজেকে আবিষ্কার করে রক্তাক্ত অবস্থায়।

তার শরীরের কয়েকটি অংশে নকের আঁচড়ের দাগ ও জামার সামনে-পেছনের বেশ কিছু অংশ ছিড়ে গেছে। ঘটনাশুনে তাকে একনজর দেখার জন্য ছুটে যায় এলাকাবাসী। একই দিন ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দেখে ফেরার পথে ওই এলাকায় জ্বীনের আক্রমনে আরো দু’জন আক্রান্ত হওয়ার কবর নিশ্চিত করেন এলাকাবাসী।

কৈয়ারবিল এলাকার একজন জানান, ১৪ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পুকুরে চাল পরিষ্কার করতে গিয়েছিলেন বাড়ি কর্তী। পুুকুরের সিড়িতে নেমে তিনি চাল পরিষ্কার করছিলেন। হঠাৎ দেখেন বাম পায়ের কাছেই একটি বস্তা। পা দ্বারা বস্তাটি তিনি কয়েকবার সরিয়ে দেন। কিন্তু ক্ষনিক পরেই দেখলে একগোছা চুলে তার পা পেছিয়ে যাচ্ছে। চিৎকার দিয়েই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের এম.হোছাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহারি শিক্ষক মাস্টার মফিজের বরাত দিয়ে একজন জানান, গত ১৪ জুলাই রাক ১২টার দিকে বিছানা থেকে নিখোজ হন মফিজের শাশুড়ি।

সারা রাত বিভিন্ন স্থানে খুঁজাখোঁজির পর বাড়ির পুকুরে তল্লাশি চালালে ওই পুকুরের নি¤œ দেশে তাকে (শাশুড়ি) বসা অবস্থায় মৃত উদ্ধার করা হয় বলে দাবী সংবাদবাহকের। সংবাদগুলো মুহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কুতুবদিয়া টক অব দ্যা নিউজে পরিণত হয়।

একই ধরনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানের আরো অনেকেই। তাদের ধারণা সাগর থেকে উঠেছে এসেছে খারাপ জিনিসটি। মানুষের অনিষ্ট করার জন্য লোকালয়ে বিচরণ করছে। এলাকবাসীকে সচেতন থাকতে বলেছেন নেতৃবৃন্দরা। এ যেন কুতুবদিয়ার জলাশয়ে জ্বীনের বিচরণ সত্যে পরিণত হলো।

SHARE