Home কক্সবাজার কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন : ভোটের প্রচারে উৎসবমুখর পর্যটননগরী

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন : ভোটের প্রচারে উৎসবমুখর পর্যটননগরী

188
SHARE

তোফায়েল আহমদ(১৭ জুলাই) :: কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন আগামী ২৫ জুলাই। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচারযজ্ঞ। ভোটারদের মন জয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রার্থী-সমর্থক। বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে উৎসবমুখর ভোটের প্রচারে মেতেছে সৈকত তীরের শহর কক্সবাজার। দেশের প্রধান পর্যটননগরী কক্সবাজারের এ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশেও ঔত্সুক্য কম নেই। কে হচ্ছেন মেয়র-তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

জানা যায়,গত ২৬ জুন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল, ৩ জুলাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং ৪ জুলাই প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। নির্বাচনে ৫ জন মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর ও জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ), বিদায়ী মেয়র ও জামায়াত নেতা সরোয়ার কামাল (নারিকেল গাছ), জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন সিকদার (লাঙল) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের জাহেদুর রহমান (হাতপাখা)। এবারের পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১২টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনে ১৮ নারী  কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৬৪ জন পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থী।

সরেজমিন দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণাকালে এবং লোকমুখে গেলবারের পৌর নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতাই সরব আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র। গতবারের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াত নেতা সরোয়ার কামাল। সেইবার বিএনপি-জামায়াত একত্রে মিলেমিশে প্রার্থী দিয়েছিল। অপরদিকে আওয়ামী লীগের মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান গতবারও মেয়র পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। এর অন্যতম কারণ ছিল গতবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আরো তিনজন প্রার্থী ছিলেন। সেই নির্বাচনে জামায়াত নেতা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও মেয়রের পদে বেশি দিন টিকতে পারেননি। নানা ঘটনাসহ নাশকতামূলক মামলা মোকদ্দমার কারণে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

আবার তাও তিনি যতদিন মেয়র পদে ছিলেন ততদিনে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও নানাভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়েন। তদুপরি ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবেও এরই মধ্যে দুজন নির্বাচিত কাউন্সিলর কাজ করেছেন। কিন্তু পৌরবাসী তাঁদের কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নয়ন বা সমস্যার সমাধান পাননি। এসব কারণেই পৌরবাসী ক্ষুব্ধ। তাই এবারের নির্বাচনে তেমন বাগিবতণ্ডা বা হৈ-হুল্লোড় এক প্রকার নেই বললেই চলে। জোটের দ্বন্দ্বে প্রচারণায়ও পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী।

প্রধানত এ কারণেই সরকারি দলীয় প্রার্থী তথা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান এবং তাঁর সমর্থকরা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। কেননা মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কক্সবাজারে ভঙ্গুর ২০ দলীয় ঐক্যজোটের হেভিওয়েট দুই প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

কক্সবাজার পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মর্যাদাকর মেয়র পদ বাগিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন। ভোটারের মন পেতে তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে মন ভোলানো আকুতি জানিয়েই যাচ্ছেন। কোনো প্রার্থী উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে ঢেকুর তুলছেন, কেউ বা নির্যাতন অনিয়মের কথা সামনে আনছেন, আবার কোনো প্রার্থী কক্সবাজার পৌরসভা নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা জানাচ্ছেন।

এদিকে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের অন্যতম সরকার দলীয় প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান। তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে একটি কথাই বলছেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের  প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমি। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। কক্সবাজারকে নিয়ে আমার ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে কক্সবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে ভোট দিন।’

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধাচারী হলেও অন্তত প্রকাশ্যে আমার বিরোধিতা করবেন না প্লিজ। কারণ আমি মুজিব শুধু দলের নয়, সব মানুষের।’ মুজিব চেয়ারম্যান এ রকম আশ্বাসও দিচ্ছেন যে, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে কক্সবাজার হবে সিটি করপোরেশন। এরকম আশ্বাস তাঁকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলেও তিনি পৌরবাসীকে জানাচ্ছেন।

জামায়াত সমর্থিত নাগরিক পরিষদের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল ভোটারদের সহানুভূতি পেতে দিনরাত নিরন্তর ছুটে চলছেন এ ঘর থেকে ও ঘরে। নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন-‘আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত মেয়র ছিলাম। কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এমন চক্রান্তকারীরা আমাকে আপনাদের সেবা করতে দেয়নি। মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে বছর দুয়েক যা সময় পেয়েছি এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আপনার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে আপনারা আবারও আমাকে নির্বাচিত করুন।’

বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম তিনি ভোটারদের কাছে গিয়ে কক্সবাজার পৌরসভা নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথার পাশাপাশি বলছেন, ‘যে দেশে গণতন্ত্র নেই, সে দেশের উন্নয়ন স্রেফ ভাঁওতাবাজি, মিথ্যাচারের ফুলঝুরি। দেশের গণতন্ত্রের মা, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের চক্ষুশূলে এখন অন্ধকার কারাগারে। তাঁর কারামুক্তি ত্বরান্বিত করতে এবং নির্বাসিত গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমি প্রার্থী হয়েছি।’ তিনি বলছেন, ‘কক্সবাজারের মাটি ধানের শীষের ঘাঁটি।’

অপরদিকে জাতীয় পার্টি এরশাদের লাঙল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রুহুল আমিন সিকদারও প্রচারণায় ও গণসংযোগে অন্য প্রার্থীদের চাইতে পিছিয়ে নেই। তিনি ভোটারদের বলছেন, ‘কক্সবাজারের সব অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান। অতীতের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এরশাদ এবং লাঙল মানে উন্নয়ন এবং উন্নয়ন।’

এছাড়া ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে প্রার্থী মৌলানা জাহেদুর রহমান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ধর্মের কথা শুনিয়ে ভোটারদের মনজয় করার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর প্রচারণা রয়েছে সীমিত পরিসরে।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে জমে ওঠেছে প্রার্থীদের প্রচারণার অন্যতম উপাদান মাইকিং। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রার্থীরা নিরবচ্ছিন্ন প্রচারে মাইক ব্যবহার করছেন। শতাধিক রিকশা, অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে সাফাই তুলে অলিতে-গলিতে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে। তাঁরা মন-মাতানো আঞ্চলিক গান, কক্সবাজারের ঐতিহ্যের হঁলার সুরে প্রার্থী ও প্রতীকের প্রচারণায় ঝড় তোলছেন।

এদিকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ২০ দলীয় জোটের প্রধান দুই শরিক বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সুসম্পর্কের ফাটল দিন দিন চওড়া হচ্ছে। আগে পৌরসভার মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বাগিবতণ্ডা থাকলেও একেবারে ফাটল ছিল না। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে উভয় দলের মধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। জামায়াতকেও এড়িয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

জোটের প্রধান দুই শরিকের মধ্যে টানাপড়েন এবার স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সম্ভাব্য জাতীয় ঐক্যের একমাত্র ‘বাধা’ হিসেবে বিবেচিত জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক দূরত্ব শুরু হলো।

একদিকে বিএনপির নেতারা মনে করছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামায়াত এখন বিএনপির বোঝা। বরং নিবন্ধন ও প্রতীক হারানোর পর বিএনপির কাঁধে সওয়ার হয়েই জামায়াতকে নির্বাচনে অংশ নিতে হচ্ছে। তার পরেও তারা বিএনপিকে বিভিন্ন  দিকে দিয়ে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে।

অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা মনে করেছেন, জামায়াতের ভোট ছাড়া বিএনপি কোনো দিনই নির্বাচিত হতে পারবে না। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কোনো কোনো ইউনিয়নের জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের ঐক্য ছিল না। সে ইউনিয়নগুলোতে বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব রয়েছে। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের ঐক্য ছিল না। আগামী ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থিতা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। এ নির্বাচনে জামায়াত আলাদাভাবে মেয়র প্রার্থী দিয়েছে। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে জামায়াত দলীয় প্রতীকে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। স্বতন্ত্র ব্যানারে দলটির নেতারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনেও একই কৌশলে লড়তে পারে জামায়াত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজারে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করা হয় সুদূর ভারতের সিলং থেকে। সেখানে আটক রয়েছেন কক্সবাজারের পেকুয়ার বাসিন্দা সাবেক বিএনপি দলীয় এমপি এবং সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এবারের পৌর নির্বাচনে তিনি সেখান থেকে কলকাঠি নেড়ে বিএনপি-জামায়াতকে এখনও পর্যন্ত এক কাতারে আনতে পারেননি। তবে অনেকেই বলেছেন, বলা যায় না যেকোনো মুহূর্তেই দুই দলীয় প্রার্থীর মধ্যে ঐক্য হওয়াও সময়ের ব্যাপারও হতে পারে।

বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন ভোটার বলেছেন, কক্সবাজারের মাটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবার যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে, তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ভোটারদের একই মতামত।

আর আওয়ামী লীগের ভোটাররা বলেছেন, প্রচারণায় কোনো ঘাটতি রাখবো না। সবাই সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইবেন। প্রয়োজনে এক বাড়িতে একাধিকবার যাবেন, যাতে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। কক্সাবাজারে যে উন্নয়ন হয়েছে, এর মূল্যায়ন করলে ভোটারদের নৌকা ছাড়া অন্য প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা নয়।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ষ্পষ্ট হচ্ছে-এবারের নির্বাচন হবে মূলত একমুখো। অন্তত ভোটার আর সমর্থকদের মুখে এবার রব ওঠেছে, উন্নয়নই পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের রূপ বদলে দিতে পারে। সেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পেতে হলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকেই বেছে নিতে হবে। আবার সরকার দলীয় নেতারা সবাই অন্তত কক্সবাজার পৌরসভার মেয়রের আসনটি নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে পৌর এলাকার পাহাড়তলীর বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, ‘দেখুন আমাদের দেশে একটি কথা আছে, ইছার দিনে ইছা আর মুছার দিনে মুছা। অর্থাৎ আমরা স্রোতের বিপরীতে গেলে উন্নয়ন পাব না।’ এদিকে পুরো নির্বাচনী মাঠেই ‘ইছার দিনে ইছা আর মুছার দিনে মুছা’ কথাটিও ব্যাপক প্রচারণা পেয়ে বসেছে।

কক্সবাজার পৌর এলাকার সমিতি পাড়ার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ‘এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী একজন। আবার সব আওয়ামী লীগ নেতা এক হয়েই ভোট প্রার্থনা করছেন নৌকা প্রতীকের জন্য। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী আগেরবার একজন হলেও এবার পৃথক হয়ে রয়েছেন। তাই এবারের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য নিষপ্রয়োজন।’

জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৯টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে ৩টি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটাররা ভোট প্রদান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কিনা তা জানতেই পরীক্ষামূলকভাবে মূলত তিনটি কেন্দ্রে এ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের ১২টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র  ৩৯টি। এর মধ্যে ৩টি কেন্দ্রের মোট ১৫টি বুথে ইভিএম পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কক্সবাজার পৌর নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা জানান, নির্বাচন কমিশন তিন ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসলে এ পদ্ধতিতে ভোট প্রদানে ভোটাররা কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তা পরীক্ষা করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন এবং নারী ভোটার ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন।

SHARE