Home আন্তর্জাতিক পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের সমীকরণ নির্ধারণ করে কে ?

পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের সমীকরণ নির্ধারণ করে কে ?

114
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২২ জুলাই) :: ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণ নির্ধারণ করে উত্তরপ্রদেশ৷ এই রাজ্যের ৮০টি লোকসভা কেন্দ্রের বেশিরভাগ যার দখলে যায় তারাই মূলত দিল্লির কুর্সির ভাগীদার হয়৷ আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে যায় পাঞ্জাব প্রদেশ৷ পাক জাতীয় সংসদের সর্বাধিক১৪৮টি আসনের দখল নিতে রাজনৈতিক দলগুলির মূল লড়াইটা হয় এখানেই৷ ফলে প্রাদেশিক রাজধানী লাহোরের রাজনীতি গোটা দেশেই বিশেষ প্রভাব ফেলে৷

একনজরে পাক জাতীয় নির্বাচন:
২৭২টি আসনে সরাসরি ভোট
পাঞ্জাবে পড়ছে ১৪৮টি আসন
সিন্ধ প্রদেশে ৬১ আসন
খাইবার পাখতুনখোয়ার ৩৫টি আসন
বালোচিস্তানে আছে ১৪টি আসন
উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার (ফাটা) ১২টি আসন
জাতীয় রাজধানী (ইসলামাবাদ) সংলগ্ন ২টি আসন

সংখ্যায় বেশি তো বটেই, পাঞ্জাব প্রদেশ ঘিরে জাতীয় নির্বাচন আলোচিত হচ্ছে মূলত দুটি কারণে৷ প্রথমত দুর্নীতির দায়ে জেলে যাওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ৷ দ্বিতীয়ত এই প্রদেশ থেকেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে পড়া জঙ্গি নেতা হাফিজ সঈদের অবস্থান৷ ফলাফলের নিরিখে মুম্বই হামলার মূলচক্রী সঈদের দল আল্লাহ হো আকবর তেহরিকের প্রার্থীরা জয়ী হলে দেশটির আইনসভায় প্রবেশ করবে জঙ্গি নেতারা৷

লাহোর পাক চিন্তন মননের প্রধান কেন্দ্র তথা দেশটির সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত৷ সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী এই শহর ভারতের সীমান্ত থেকে বেশি দূরে নয়৷

লাহোর কেন্দ্রিক রাজনীতিতে শরিফ সাহেবর দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল(এন) এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি এখানেই জন্মেছেন৷ যেহেতু জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচন হওয়া ২৭২টি আসনের অর্ধেকের বেশী আসনই এই প্রদেশে অবস্থিত।

তাই পাঞ্জাব প্রদেশেই মূল নির্বাচনী লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতে এই প্রদেশের ক্ষমতায় রয়েছে পিএমএল(এন) দল৷ মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ৷ তিনি নওয়াজ শরিফের ভাই৷ নির্বাচনে ফলাফল পরিবর্তন না হলে শাহবাজই হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী৷ এছাড়া শরিফ পরিবারের অপর তারকা প্রার্থী নওয়াজ কন্যা মরিয়ম৷ তিনিও পিতার সঙ্গে জেলে বন্দি৷

পিএমএল(এন) এর শক্তিশালী ঘাঁটিতে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাঁত ফোঁটাতে পারবে সেটাও লক্ষ্যনীয়৷ সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, জনপ্রিয়তার সূচকে শরিফের দলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই)৷ দলের নেতা ইমরান খান৷ যিনি বিরোধী রাজনৈতিক মুখ হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ভূমিকা নিয়েছেন৷

বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ী পাক দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বারে বারে বিয়ে করে বিতর্কে জড়িয়েছেন৷ এতে তাঁর ইমেজে কতটা কালি লেগেছে সেটা বলে দেবে পাঞ্জাবের ভোট৷ পিটিআই দলটি পাঞ্জাব প্রদেশের মাটিতে ইএমএল(এন)-কে বেগ দিতে না পারলে জয়ের আসা দুরস্ত৷

ইমরান খালের দল শক্তিশালী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে৷ সেখানে তারাই প্রাদেশিক সরকার চালাচ্ছে৷ এই প্রদেশের ৩৫টি আসনের বেশিরভাগ পেলেও সিন্ধ প্রদেশের ৬১টি আসনের লড়াই হতে চলেছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র৷ এই প্রদেশে আবার শক্তিশালী সংগঠন বেনজির ভুট্টো পরিবারের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)৷ সিন্ধ পাকিস্তানের অন্যতম সংখ্যালঘু এলাকা৷

এই সংখ্যালঘুদের মধ্যে হিন্দু, খ্রিষ্টান, শিখদের মধ্যে জনপ্রিয় হল পিপিপি৷ সেখানে ইমরান খানের দল কতটা শক্তি দেখাতে পারবে তাও আলোচনার কেন্দ্রে৷ সিন্ধে ইমরানের সঙ্গে মূল লড়াই হচ্ছে বেনজির পুত্র তথা তরুণ পাক প্রজন্ম বিলাবল জারাদারির৷ ২৯ বছরের বিলাবল আধুনিক পাক প্রজন্মের নেতা হিসেবে সুপরিচিত৷

বাকি থাকল বালোচিস্তান, ফাটা, রাজধানী সংলগ্ন আসনের যুদ্ধ৷ সবমিলে এই তিন এলাকার ২৮টি আসনের যে যত পাবে তারই লাভ বেশি৷ তবে মূল লড়াইটি সেই পাঞ্জাব প্রদেশেই৷

SHARE