Home কক্সবাজার কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন ২৫ জুলাই : শেষ মুহুর্তের প্রচার প্রচারনায় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা

কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন ২৫ জুলাই : শেষ মুহুর্তের প্রচার প্রচারনায় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা

282
SHARE

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া(২৫ জুলাই) :: আগামী ২৫ জুলাই পর্যটন নগরীর কক্সবাজার পৌরসভার বহুল প্রতিক্ষীত পৌর নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে ৫ মেয়র প্রার্থীসহ সংরক্ষিত ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলররা আরাম কে হারাম করে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে।

সোমবার রাতেই শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। তাই শেষ মুহুর্তের নির্বচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে এখন মহাব্যস্ত প্রার্থীরা। নির্বাচনকে ঘিরে পুরো কক্সবাজারে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এই প্রচারণা পৌরসভার ভোটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলোনা।

পাঁচ মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে নেতা- কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের মন জয় করতে প্রচার চালিয়েছেন নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে। এ কারণে জেলার অন্যান্য উপজেলা অনেকটা রাজনৈতিক নেতা-কর্মী শূণ্য হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে থেমে নেই উপজেলার আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা। এসব দলের নেতা-কর্মীরা শুরু থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভার পাড়া-মহল্লা চষে বেড়িয়েছেন প্রচারণা চালাতে।

ফলে, প্রতিটি উপজেলার দলের নেতা-কর্মী শূণ্য হয়ে পড়ে। শতশত নেতা-কর্মী নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে কক্সবাজার পৌরসভায় অবস্থান করছিলেন।

এমনকি চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়াণগঞ্জ, বান্দরবানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাদেরও কক্সবাজার পৌরসভায় বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রচারণার সময়কাল শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কক্সবাজার পৌরশহরে অবস্থান করা নেতা-কর্মীরা ফের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন বলেও অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

সোমবার প্রচারণার শেষ সময় পর্যন্ত অলি-গলি ছাড়াও ঘরে ঘরে গিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে নারী-পুরুষরা গ্রুপ করে ভাগ হয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গেছেন।

শেষ সময় পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে ছিলেন আওয়ামীলীগের মুজিবুর রহমান। ব্যক্তি মুজিবকে ছাড়িয়ে দলীয় নৌকা প্রতিকের ছায়াতলে আওয়ামীলীগ ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী সমর্থকরা একাট্টা হয়ে প্রচারণা চালানোয় অনেকটায় ভোটারদের মন জয়ে নৌকা প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে ভোটারদের অভিমত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে শ্রমিকদলের জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির ব্যানারে নারিকেল গাছ প্রতিক নিয়ে জামায়াত নেতা সরওয়ার কামাল, জাতীয় পার্টির লাঙ্গন প্রতিক নিয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার ও ইসলামী আন্দোলনের পৌরসভা শাখার আহবায় জাহিদুর রহমান হাত পাঁখা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

এসব প্রার্থীসহ তাদের কর্মী-সমর্থকরা বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে পৌরসভার ৮৩ হাজার ৭২৮ জন ভোটারের মন জয় করতে।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০১১ সালে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিয়ে জামায়াতের সরওয়ার কামালের পক্ষে ভোট করেন। পক্ষান্তরে মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের প্রার্থী হলেও এই দলের দুই নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন।

ফলে, অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান মুজিবুর রহমান। কিন্তু এবার বিএনপি ও জামায়াত কেউ কাউকে ছাড় না দিয়ে বিএনপি দলীয় ও জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ছাড়াও আওয়ামীলীগ থেকে মুজিবুর রহমান একক প্রার্থী হওয়ায় এবং যে কয়েকজন নেতা প্রার্থীতা চেয়েছিলেন এবং বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তারাও নৌকার পক্ষে মাঠে নামায় মুজিবুর রহমানের মেয়র হওয়া সময়ের ব্যাপার বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের অভিমত।

জামায়াতে ইসলামী চকরিয়া দক্ষিণের আমির মো.মোজাম্মেল হক বলেন, সরওয়ার কামাল গত নির্বাচনেও পৌরবাসির ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় জড়িয়ে তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হয়নি। তিনি এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আবারো মেয়র নির্র্বাচিত করতে জেলার ৮ উপজেলা থেকে জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক কক্সবাজার পৌরসভায় প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও শহরের ভোটার নয় এমন অন্তত ৮০ শতাংশ লোক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

প্রচারের কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ-বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা দৃশ্যমান। আর জামায়াতের কর্মীরা প্রত্যেক ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন বিদায় তাদের প্রার্থীর প্রচারণা সরব না হলেও ভোটারদের মন জয়ে অনেকটায় এগিয়ে রয়েছেন বলে আমার অভিমত।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারকে আধুনিকায়ন করে গড়ে তুলে বিশ্ববাসির নজর কাড়তে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত প্রার্থী মুজিবুর রহমানের বিকল্প নেই।

তাই নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রার্থী হওয়া মুজিবুর রহমানকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সপ্তাহকাল ধরে চকরিয়া ও পেকুয়ার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে সাথে নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছি।

ভোটারদের বলেছি পৌরসভার সকল সমস্যা সমাধান করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা ছাড়াও বিশ্ব দরবারে পর্যটন শহর কক্সবাজারকে তুলে ধরতে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মুজিবুর রহমানকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা সময়ের দাবি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হোসেন জানান, ‘কক্সবাজারে তপসীল ঘোষনার পর থেকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। প্রত্যেকটি সংস্থা, প্রার্থী, জনগণ, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগীতা পেয়ে আসছি। কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৩৯টি ভোটকেন্দ্র। সবগুলো কেন্দ্রকে আমরা সেন্সিটিভ হিসেবে নিয়েছি। নির্বাচন কমিশনও এটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সেভাবেই আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করেছেন। আমারা ইতোমধ্যে ১২ ওয়ার্ডের ৩৯টি কেন্দ্রের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছি। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট। আমরা একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছি। ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য আমাদের দেওয়া হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর ৬টি দল দিয়েছে। আর নির্বাচনের দিন প্রত্যেক কেন্দ্রে ১৪ জন আনসার এবং ১৪ জন পুলিশ থাকবে। প্রতি দুইটি কেন্দ্রের জন্য একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে।’

SHARE