Home কক্সবাজার পেকুয়ায় নির্মাণ সামগ্রী চুরি, জনতা দিল পিটুনি

পেকুয়ায় নির্মাণ সামগ্রী চুরি, জনতা দিল পিটুনি

156
SHARE

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২৩ জুলাই) :: পেকুয়ায় বাঁশখালী-টইটং সীমান্ত ব্রীজে চুরি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় চোরের দল নির্মাণাধীন ব্রীজের মালামাল রক্ষিত বাসায় হানা দেয়। এ সময় লোহার রড সহ বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা মালামালসহ একজনকে আটক করে। এ সময় তারা উত্তম মাধ্যমসহ পিটুনি দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট সোপর্দ করে।

তবে এ সময় টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী কক্সবাজার শহরে যাচ্ছিলেন। এ সময় চেয়ারম্যান আটককৃত ব্যক্তিকে সমাজপতির জিম্মায় দিয়ে দেয়। জনতা ও ব্রীজ নির্মাণে ঠিকাদারসহ শ্রমিকরা জড়িত ব্যক্তিকে শায়েস্তা করছিলেন।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ওই স্থানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তবে চুরির ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্টান থেকে পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

প্রজেক্ট ম্যানেজার ওবাইদুল হক বাদী হয়ে একটি এজাহার পেকুয়া থানায় ২৩ জুলাই দায়ের করেন।

আটককৃত ব্যক্তির নাম মো: মোকাদ্দেস প্রকাশ বদ(২৮)। তিনি টইটং ইউনিয়নের আলিগ্যাকাটা গ্রামের মৃত হোসন আলীর ছেলে। এ ছাড়া ওই এজাহারে নতুন পাড়া এলাকার মাদু, পন্ডিত পাড়ার কায়সারসহ তিন জনকে আসামী করা হয়।

সুত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে নির্মাণাধীন ব্রীজের মালামাল রক্ষিত বাসায় চুরি সংঘটিত হয়েছে। কেয়ারটেকার বাদশা মিয়া রাতে ডিউটি শেষে ভোরে বাড়িতে যান। এ সময় চুরি সংঘটিত হয়। পাশর্^বর্তী দোকানদার ছৈয়দ নুর চুরির দৃশ্য দেখতে পান। এ সময় মুঠোফোনে কেয়ারটেকারকে চুরির বিষয়ে জানায়। কেয়ারটেকার দ্রুত ওই স্থানে পৌছে।

এ সময় বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী একটি পিকআপ ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি জড়িতদের দেখতে পান। মোকাদ্দেস পরবর্তী সময়ে ওই স্থান দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে ধরে ফেলে তারা। উত্তেজিত লোকজন সহ ঠিকাদারের শ্রমিকরা তাকে উত্তম মাধ্যম দেয়।

এ সময় চেয়ারম্যানকে সোপর্দ করছিলেন। চেয়ারম্যান তাকে সমাজপতি মো: আলমের জিম্মায় দিয়ে কক্সবাজারে যান।

ঠিকাদারের কেয়ারটেকার বাদশা মিয়া জানায়, তারা চুরি করে মালামাল নিয়ে যায়। দোকানদার আমাকে মোবাইলে জানায়। তাকে আমরা ধরে সামান্য উত্তম মাধ্যম দিয়েছি। চেয়ারম্যান সাহেব সমাজপতির জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

পরবর্তীতে এ পরিস্থিতিকে রং ছিটিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। কিছু মিথ্যুক লোকজন চেয়ারম্যান মারধর করেছে এমন অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়। যা মোটেই সত্য নয়।

চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেননি। উত্তেজিত লোকজন তাকে শায়েস্তা করছিল। গ্রাম পুলিশ এসে তাকে নিরাপত্তা দেয়। আলিগ্যাকাটা সমাজ কমিটির সমাজপতি মো: আলম জানায়, ঠিকাদারের লোকজন উত্তম মাধ্যম দিয়ে তাকে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান কক্সবাজার শহরে যাচ্ছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন।

এমন সময় আটককৃত ব্যক্তিকে তার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আমার জিম্মায় মোকাদ্দেসকে দিয়ে দেয়। আসলে ভাল কাজ করলেও নিন্দের ভাগী হতে হয় সেটি আমরা এ পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষ করেছি। চেয়ারম্যান শরীরে টুকাও দেয়নি। কেন তার বিরুদ্ধে এ ধরনের দুরন্ত মিথ্যা অপপ্রচার। তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে এ টইটংকে পরিচালনা করছেন।

আটক মোকাদ্দেস জানায়, চেয়ারম্যান আমাকে মারধর করেননি। ঠিকাদারের লোকজন আমাকে উপর্যুপুরি মারধর করে। আমাকে তারা চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় চেয়ারম্যান কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সমাজপতিকে বিষয়টি ফায়সালা করতে দায়িত্ব দেয়। চেয়ারম্যান আমাকে মারধর করেছে।

এ সম্পর্কিত তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট। যারা আমার বক্তব্য ও উদ্ধৃতি দিয়ে এ সব চালিয়েছে সবই মিথ্যা। তারা আমার কাছ থেকে কোন ধরনের বক্তব্য নেননি। আমি এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করি নাই। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এটি অহেতুক অপপ্রচার।

SHARE