Home কক্সবাজার কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন : আওয়ামী লীগের ফিরে আসা, নাকি ফের জামায়াতের আধিপত্য?

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন : আওয়ামী লীগের ফিরে আসা, নাকি ফের জামায়াতের আধিপত্য?

355
SHARE

বিশেষ প্রতিবেদক(২৪ জুলাই) :: সব জল্পনা-কল্পনা শেষ। অবসান ঘটতে চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার। বুধবার সকাল থেকে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতিক্ষিত পর্যটন নগরী কক্সবাজার পৌরসভার ভোটযুদ্ধ। আর সোমবার রাত ১২টা থেকে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে।

এই ভোটযুদ্ধে মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের মুজিবুর রহমান (নৌকা), বিএনপির রফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ), জামায়াত সমর্থিত নাগরিক কমিটির সরওয়ার কামাল (আনারস), জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন সিকদার (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা জাহেদুর রহমান (হাতপাখা)।

এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ১৭ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ৬৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

জানা যায়,কক্সবাজার পৌরসভায় এককালে একক আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের। গত পৌর নির্বাচন দলীয়ভাবে না হলেও সেবার জামায়াত-বিএনপি জোট বিজয় অর্জন করেছিলেন। এবার প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইবে নাকি আধিপত্য বজায় থাকবে জামায়াতের। আর অনেকদিন পর পৌর নির্বাচনে নামা বিএনপি শেষবেলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামিয়ে নাকি চমক দেখাবেন। এ নিয়েই বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে সকল জল্পনা-কল্পনা।

সার্বিক বিবেচনায় ও জরিপে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্ত হলেও ২০ দলীয় জোটের দুই দলে সমঝোতা না হওয়ায় বিএনপির ‘কাটা’ হয়ে আছে জামায়াত।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, সাত বছর পর কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি সর্বশেষ এ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই এবারের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত নির্বাচনের মতো বিএনপি-জামায়াত এবার সমঝোতা না হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুজিবুর রহমান রয়েছেন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, পৌর নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত দুই মেরুতে অবস্থান করায় তাদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত। দলের প্রার্থী নির্বাচিত হলে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের মডেল শহরে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নেতারা।

মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সুতরাং পৌরসভার মানুষ এবার তাকে নিরাশ করবে না।

জেলা জামায়াতের শীর্ষ এক নেতা বলেন, মেয়র পদে জোটবদ্ধ প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টার কমতি ছিল না। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি মেয়র পদে প্রার্থী নিয়ে অনমনীয় থাকায় আলোচনা সফল হয়নি। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হলেও জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামালের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দলের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিএনপি ও জামায়াত দু’দলেরই কক্সবাজারে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে পৃথকভাবে নির্বাচন করেও বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বিজয়ী হবেন।

বিএনপি মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক ধানের শীষ। মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনিই বিজয়ী হবেন।

জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল বলেন, নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আমাকে সমর্থন দিচ্ছে। কক্সবাজার পৌরবাসী এর আগেও আমাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। আশা করি, এবারও করবে না।

এদিকে, নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসছেন তিন দলের প্রার্থীই। বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, মামলা দায়ের করে তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান,মঙ্গলবার থেকে সব ধরনের প্রচার বন্ধ থাকবে। বুধবার ভোট গ্রহণের জন্য প্রশাসন যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে।আজকের মধ্যে সব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম পৌঁছানো হবে। সেইসঙ্গে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন।

তিনি আরও জানান,পৌরসভায় ‘ভোটাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পৌর নির্বাচনে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। ইতমধ্যেই র‌্যাব ও বিজিবি নামানো হয়েছে। তাই ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরসভা নির্বাচনে ১২ ওয়ার্ডে ৩৯ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ১ হাজার পুলিশ সদস্য, ২ প্লাটুন বিজিবি, ৬টি দলে ৯০ জন র‌্যাব সদস্য এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪ জন করে আনসার সদস্য এবং ১৪ জন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিচারিক দায়িত্বপালনের জন্য ১২টি ওয়ার্ডে ১২জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।’আর সোমবার থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে বিজিবি ও র‌্যাব মহড়া দেওয়া শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান,এ নির্বাচনে ৩টি কেন্দ্রের মোট ১৫টি বুথে ইভিএম পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন ও নারী ভোটার ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন। ভোটকেন্দ্র ৩৯টি।

SHARE