Home কক্সবাজার
120
SHARE

আব্দুল হামিদ,নাইক্ষ্যংছড়ি(২৫ জুলাই) :: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির নিম্ম এলাকায় পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত তিনদিনের টানা অতি বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার (২৫ জলাই) দিনভর উপজেলার নিম্ম এলাকায় অন্তত শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি-দৌছড়ি সড়ক, বাইশারী-গর্জনীয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের তিন জায়গায় ব্যাপক ভাঙ্গনে গাড়ী যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বুধবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের আশারতলী, কম্বনিয়া, ধুংরী হেডম্যানপাড়া, বড়–য়া পাড়া, বাজারপাড়া, উপজেলা পরিষদ নীচ তলা, বিজিবি ক্যাম্প এলাকা সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শণে দেখা যায়, মায়ানমার সীমান্ত থেকে নেমে আসা নাইক্ষ্যংছড়ি-জামছড়ি খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে। এতে নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার, উচ্চ বিদ্যালয় পানিতে ডুবে যায়।

ইউনিয়নের ৭ নং ইউপি মেম্বার আলী হোসেন ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. হাসান জানান- বন্যায় প্লাবিত গ্রাম থেকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে মাটির ঘরগুলো ধসে পড়বে। এই দুই ওয়ার্ডে অন্তত শতাধিক পরিবারের ব্যাপক ও ২ শতাধিক পরিবারে আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, টানা বর্ষণ হওয়ায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত এবং গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ছালেহ আহমদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ওয়ামী একাডেমী, বিজিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিছামারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আশারতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পানি বন্দি আছে। অসংখ্য মসজিদে পানি ঢুকে পড়ায় নামাজ আদায় করতে পারেনি মুসল্লিরা।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রাসনের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য উপজেলা পরিষদকে আরো সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, ইউনিয়নের কোনারপাড়া ও তুমব্রু জিরো পয়েন্টে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বাড়ীঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ফারিখাল ও গর্জই খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নারিচবুনিয়া, পশ্চিম বাইশারী, করলিয়ামুরা, দক্ষিণ বাইশারীসহ পাচঁটি গ্রাম পাহাড়ী ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বীজতলা, গ্রামীণ সড়ক, শাকসবজি ও হাস-মুরগির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঈদগাও-ঈদগড়-বাইশারী সড়ক, বাইশারী-গর্জনীয়া সড়কের তিনটি জায়গায় ভাঙনের ফলে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান মো: আলম কোম্পানী।

মহিলা ইউপি সদস্য সাবেকুন্নাহার জানান- ভারী বর্ষণের পর থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে আসতে সর্তক করা হচ্ছে।

বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় এমন বন্যায় এলাকার মানুষ চিন্তিত।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকেও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এই রিপোর্ট লিখা ও পাঠানো পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

SHARE