Home খেলা জুভেন্টাসে রোনালদো : নেপথ্যে পেরেজ-মেন্দেজ স্বার্থ

জুভেন্টাসে রোনালদো : নেপথ্যে পেরেজ-মেন্দেজ স্বার্থ

95
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৯ আগস্ট) :: রোনালদো রিয়াল ছাড়ার পর রকমারি কারণ বের করেছেন গণমাধ্যম থেকে শুরু করে বিশ্লেষক এবং ‘পন্ডিত’রা। সন্দেহ নেই চলতি দশকের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং আলোচিত দলবদল হিসাবে এটি আরো অনেকদিন আলোচনায় থাকবে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসার আজব এক ঝোকও দেখা যাচ্ছে। যার সর্বশেষ নজির রেখেছেন এক নাম সর্বস্ব ব্রাজিলিয়ান।

আমরা বরং একটু গভীরভাবে দেখতে চাই যে, স্বপ্নের ‘তেরো’ জেতার গন্ধ গা থেকে মুছে যাবার আগেই কেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সাবেক হবার সিদ্ধান্ত নিলেন পাঁচবারের এই বর্ষসেরা এবং এর পেছনের চরিত্রগুলোর মাঝে কি কাজ করেছে?

রিয়ালে নয় মৌসুমে দলীয় এবং ব্যক্তিগতভাবে এমন কিছুই আর বাকি নেই যেটি রোনালদোর জেতা হয়নি। যে লা দেসিমা জেতানোর স্বপ্ন নিয়ে রিয়ালে এসেছিলেন সেটি সহ বাড়তি হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হ্যাট্রিক শিরোপা জিতিয়েছেন ব্লাংকোসদের। অবিশ্বাস্য রাফতারে হয়েছেন রিয়ালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও।

প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবার প্রচেষ্টারত রোনালদোর জন্য তাই প্রয়োজন ছিল নতুন চ্যালেঞ্জ। এটি যদি তার মনে সামান্য উঁকিও দিয়ে থাকে তাহলে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন দুজন রোনালদোর এজেন্ট হোর্হো মেন্দেজ এবং রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

বিষয়টি একটু কৌতুহলোদ্দীপক বটে। রোনালদোর ক্লাব ছাড়ার পেছনে এদের স্বার্থ কি? বিশেষ করে রিয়ালকর্তা পেরেজের? এখানে হিসাবে চলে আসছে রোনালদোর বয়সটি। এটা সত্য যে, এখনো অধিকাংশ তরুণের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছাড়তে পারেন রোনালদো, কিন্তু এটাও সত্য যে, বাস্তবে তার বয়স তেত্রিশ।

এজেন্ট মেন্দেজের জন্য নিজের সবচেয়ে সেরা পণ্যটি বিকিয়ে বেশ মোটা একটি অংক পকেটে ভরার এটাই ছিল শেষ সুযোগ। কারণ, রোনালদোর বয়স বিবেচনাতেও যে দামে তাকে য়্যুভেন্তাস কিনেছে সেটি অবিশ্বাস্য। সেদিক দিয়ে বলতেই হয়, মেন্দেজ খুব ভাল করে হিসাব করেই কাজটি করেছেন।

এর সাথে স্পেনের কর ব্যবস্থা, যেটি বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এক ধরনের আতঙ্ক সেখান থেকে মুক্ত করে নিজের ক্লায়েন্টকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন যেখানে তিনি যদি রিয়ালে যা কামাতেন ঠিক ততটাই কামান, তাহলেও পকেটে অনেক বেশি অর্থ থাকবে, কারণ ইতালিয়ান কর ব্যবস্থা স্পেনের মত না। বর্তমান সময়ে দিন শেষে অর্থ একটি প্রভাব রাখেই, এবং এটিই নিরেট সত্য।

এবার দেখা যাক পেরেজের ভূমিকাটি কি? রোনালদো এখনো যে ফর্মে রয়েছেন তাতে রোনালদোকে ছাড়া সাদা চোখে পাগলামি বৈ কিছুই মনে হবে না। কিন্তু, আর এক অথবা দুই মৌসুম পরেই রিয়ালকে রোনালদো সর্বস্ব অবস্থান থেকে বের হয়ে নতুন পথ খুঁজতে হতোই। কারণ, স্বাভাবিক যুক্তিই বলে, পয়ত্রিশের একজন খেলোয়াড় তিনি যতই ফিট হন, পঁচিশের মতন ভূমিকা রাখতে পারেন না। রোনালদোর আগেই রিয়ালকে বিদায় জানিয়েছেন জিদান। সুতরাং, নতুন কোচের জন্য সম্পুর্ণ নতুন একটি সেট আপ তৈরি করে দেয়ার জন্য এটাই সঠিক সময়।

কারণ, জিদান-কার্লো-মোরিনহোরা যেভাবে রোনালদো সর্বস্ব দল সাজিয়েছেন সে সুযোগটিই পাচ্ছেন না লোপেতেগুই। তিনি সম্পূর্ণ নতুন ভাবে দলটিকে সাজাতে পারবেন। একই সাথে যে অংক রিয়ালের অ্যাকাউন্টে এসেছে নামটি রোনালদো মেনে নিয়েই বলতে হয় বয়স বিবেচনায় সেটি বোনাস। সুতরাং, ব্যবসায়িক দিক চিন্তা করলে পেরেজ একটি বাম্পারই মেরেছেন।

অর্থ অনর্থের মূল হলেও এ দলবদলটিতে অর্থ যে অন্যতম নিয়ামকের ভূমিকায় ছিল তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। হ্যাঁ, রোনালদোবিহীন রিয়ালের জন্য আসন্ন মৌসুমটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ একই সাথে রোনালদোর জন্যও এটি বড় চ্যালেঞ্জ, নিজেকে আলাদা তিনটি লিগের সেরায় পরিণত করার। এত হিসাব নিকেশ মিলিয়েই যখন দলবদলটি হয়েছে তখন দেখা যাক ফুটবল ভক্তদের এটি কি উপহার দেয়?

SHARE