Home শীর্ষ সংবাদ নিরাপদ সড়ক আন্দোলন : সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও উদ্বেগ কাটেনি সরকারের

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন : সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও উদ্বেগ কাটেনি সরকারের

116
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৯ আগস্ট) :: শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শেষ হওয়ায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও উদ্বেগ কাটেনি সরকারের। আগামীতে নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির মধ্যে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারা। অবশ্য এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আগাম প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিগত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনের সময়ের ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, নির্বাচন এলেই দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল অনুপ্রবেশ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি।

সরকারি দল মনে করছে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীসহ স্বার্থান্বেষী মহল ইস্যু তৈরি করে নানা ঘোঁট পাকিয়ে ইস্যু তৈরি করে। তারা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের খেলায় মেতে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সম্প্রতি কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ওই গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করেছিল বলেও আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করেন। ফেসবুকসহ স্যোশাল মিডিয়ায় নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর স্ট্যাটাস, অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ প্রচারকেও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের এসব দায়িত্বশীল নেতা।

ক্ষমতাসীন দল গত কয়েক বছরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার পেছনে ‘ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে’ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বরাবর বিএনপি ও তার জোট সদস্য জামায়াত ইসলামীকে দায়ী করে এলেও এবার তাদের সঙ্গে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের কথাও বলেছে।

দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের শান্তিময় পরিস্থিতিতে এক-এগারোর কুশীলবরা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। বিএনপি তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন কোনও ষড়যন্ত্রের জাল বোনার গোপন চক্রান্ত করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অচল করার পরিকল্পনা তাদের ছিল ও আছে। দেশে-বিদেশে বৈঠকের নামে ‘নানা ষড়যন্ত্র’ করছে তারা এমন তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর সপ্তাহখানেক আগে গত ২৩ জুলাই দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা জানান ওবায়দুল কাদের।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নিজেরা ‘বোমা মেরে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে’ মন্তব্য করে ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, নানা রকম খেলাও শুরু হবে—এতে কোনও সন্দেহ নেই। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলীয় সভাপতি দলের নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে নির্বাচন উপলক্ষে ষড়যন্ত্র ও আগাম প্রস্তুতির কথা বলা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে সরকার দলীয় এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, সামনে নির্বাচন। কাজেই শেষ সময়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্র হতে থাকবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘অতীতে আমরা নানা খেলা দেখছি। এবারও দেখলাম। আমাদের দলীয় সভাপতি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিএনপি-জামায়াতের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার নলেজের ভিত্তিতে সম্প্রতি যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন তার একটি দৃষ্টান্ত কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে দেখলাম। ওই গোষ্ঠী কখনোই বাংলাদেশের ভালো চায়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তো অসুস্থ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। অসুস্থ রাজনীতিকে নিয়ে কোনও কিছু প্রেডিক্ট করা যায় না। তারা যে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করবে না বলা কঠিন। কাজেই একটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তো থাকবেই। তবে আমরা যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সচেতন ও সতর্ক রয়েছি।

হেফাজতের আন্দোলন, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের অগ্নিসংযোগের আন্দোলনসহ তাদের সব আন্দোলন মোকাবিলা করে দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করেছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনও ষড়যন্ত্র হলে তা মোকাবিলা করবো।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা ধরনের খেলাধুলা সব সময়ই রয়েছে। নির্বাচন এলেই এটা ‍দৃশ্যমান হতে শুরু করে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। তারা অন্ধকার গলিপথে ক্ষমতায় যাওয়ার ফাঁকফোকর খুঁজবে। এর সঙ্গে সুশীল নামে পরিচিত একটি অংশের ভিন্ন ধান্দা রয়েছে। নির্বাচনকে ভণ্ডুল করে করে তারা ভিন্ন পথে ক্ষমতার স্বাদ নিতে চাইছে, যার কারণে তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে এবং করবে। তবে, তাদের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা আগেও বসেছিল না, এখনও বসে নেই। ওরা ষড়যন্ত্রের ওপর বিশ্বাস করে। তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এটা করবেই। কাজেই তারা ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকবে এটা আমরা মনে করি না।’

স্যোশাল মিডিয়ার চলমান ‘অপপ্রচারকে’ ষড়যন্ত্রের অংশ দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন স্যোশাল মিডিয়াতে আক্রমণ শুরু করেছে। মিথ্যা তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তবে, দেশের জনগণ তাদের এই ষড়যন্ত্র ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশ্য মন্ত্রী স্যোশাল মিডিয়ার অপপ্রচার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করবেই। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক রয়েছে। তাদেরকে সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

SHARE