Home কক্সবাজার সালাউদ্দিনের ঐক্যবদ্ধ পেকুয়ার বিএনপিতে ফাটল

সালাউদ্দিনের ঐক্যবদ্ধ পেকুয়ার বিএনপিতে ফাটল

134
SHARE

মো: ফারুক,পেকুয়া(১০ আগস্ট) :: বিএনপি বৃহত্ত একটি রাজনৈতিক দল। কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলায় বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। অনেক সময় স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে ভোটের ফলাফলও তাদের পক্ষে যায়। তবে বর্তমান অবস্থান খুবই করুন।

বিশেষ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের গ্রামের বাড়ি পেকুয়া উপজেলায়। অতিতের ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনে বিবেদ সৃষ্টি হয়ে গ্রুপিং চরম আকার ধারণ করছে।

একপ্রকার পৃথক ৪টি পক্ষ হয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে সালাউদ্দিনের ঐকব্যদ্ধ বিএনপিতে। বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের কমিটি গঠন ও অনুমোদন দেওয়া নিয়ে তা প্রকাশ্যে রুপ ধারণ করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি সদর ইউপি’র চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইনের একক নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

এর আগেও তারা দু’জন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দেওয়ায় তৃণমূলের অনেক ত্যাগি নেতাকর্মীদের সাথে মৌনমালিন্যের বিষয় চলে আসছিল। তা ছিল সম্পূর্ণ গোপনে। কিন্তু বর্তমানে তা আর গোপনে নাই। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে সভাপতি আর সম্পাদকের মধ্যে।

এছাড়াও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজুর নেতৃত্বে একটি পক্ষ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ইউছুপ রুবেল, উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা আলিদা আলিদা দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকে। তাদের সাথেও উপজেলা বিএনপির দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইনকে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় না পাওয়ায় ক্ষোভ ছিল তাদের।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি একক সাক্ষরে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদনের কপিতে সাধারণ সম্পাদকের কোন সাক্ষর নাই। কমিটি গঠন নিয়ে সভাপতি আর সম্পাদকের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদল আর যুবদলের একটি পক্ষ সভাপতি আরেকটি পক্ষ সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় গ্রুপিং আরো বেশি চাঙ্গা হয়ে ওঠছে।

এক মাসের ভিতর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি দুইবার ঘোষনা করা হয়েছে। কমিটি ঘোষনা করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ শুরু করেছে। একটি পক্ষ আরেক একটি পক্ষকে দোষারুপ করে চরম বিষেদাগার করে চলছে। বিগত কিছুদিন আগে শ্রমিকদলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়ে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে দলীয় কর্মসূচি পালনে অনীহা প্রকাশ করে।

এছাড়াও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাফায়েত আজিজ রাজু কমিটি ঘোষনা পরবর্তি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা দিলেও বর্তমানে সক্রিয় হয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে। তার পক্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের একটি অংশ সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলে।

সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইউছুপ রুবেলও যুবদল ও ছাত্রদলের একটি অংশ নিয়ে রাজনীতির কর্মসূচি পালন করে থাকে। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামরান জাদিদ মুকুট ছাত্রদলের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করায় গ্রুপিং চরম আকার ধারণ করেছে। যার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ায় রাজনীতি থেকে দূরে অনেকাংশে সরে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইউছুপ রুবেল বলেন, প্রিয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের বিএনপিতে কোন ধারণের ফাটল নাই। বড় দলের কিছু মতপার্থক্য থাকতে পারে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সম্পাদকের সাথে দুরত্বের বিষয়ে মতামত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন বলেন, পেকুয়ার বিএনপির ঐকব্যদ্ধ আমাদের নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ যা নির্দেশ দেন তা আমরা বাস্তবায়ন করি। সভাপতি সম্পাদকের মাঝে কোন ধরণের গ্রুপিং নাই।

ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে শুধু সভাপতির সাক্ষর কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, অতি উৎসাহি হয়ে একক সাক্ষরে কমিটি ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে পরে আমি সাক্ষর করেছি। আর ছাত্রদলে কিছু নেতা পদত্যাগ করার কথা বললেও তারা কোন নেতা নয়। এটি সামান্য বিষয়।

পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ এ বিষয়ে বলেন, পেকুয়ার বিএনপির রাজনীতিতে কোন ধরণের বিরোধ নাই। ইউনিয়ন কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। কমিটি সাক্ষরের সময় সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রামে অবস্থান করায় তাৎক্ষনিক কমিটিতে সাক্ষর করতে পারেনি। পরে তিনি সাক্ষর করেছেন। আর সহযোগি সংগঠনের নতুন কমিটিতে অনেক নেতা পদবঞ্চিত হওয়ায় কিছু ক্ষোভ থাকতে পারে তা গ্রুপিং নয়।

SHARE