Home শীর্ষ সংবাদ রাখাইনের মংডুতে ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাখাইনের মংডুতে ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

169
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১১ আগস্ট) :: মিয়ানমারে চার দিনের সফরের অংশ হিসেবে শনিবার রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ সময় তিনি রাখাইনের মংডুতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নির্মিত একটি ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এখানে ৩০ হাজার শরণার্থী থাকতে পারবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর। মন্ত্রীর সঙ্গে একটি প্রতিনিধি দলও রয়েছে। এ প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের প্রস্তুতির বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করবে।

মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছেন।

সফরের অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট শুক্রবার মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি’র দফতরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ে’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী নেপিদো’তে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী। আলোচনাকালে উভয় পক্ষই এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিশ্রুতির প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের গতি বাড়াতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।.

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়টি ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে শরণার্থীদের ফেরাতে তাদের সদিচ্ছার কথা বলা হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি)-এর অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করে দেশটি।

মিয়ানমার জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থানে ঘর তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য ৪২টি স্থান বাছাই করা হয়েছে। এসব স্থানে এ ধরনের আরও ঘর তৈরি করা হবে।

দুই মন্ত্রীর মধ্যে একটি হটলাইন তৈরির ব্যাপারেও একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যাপারে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে যে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডের কথা বলা হচ্ছে সে ব্যাপারে বাংলাদেশের অসন্তোষের কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব রোহিঙ্গা ন্যাশনাল ভেরিফিকিশেন কার্ড নিতে আগ্রহী নয় তাদেরকে বিষয়টি বোঝানোর জন্য। এর জবাবে মিয়ানমার কক্সবাজার ক্যাম্পে প্রতিনিধি দল পাঠাতে সম্মত হয় বিষয়টি রোহিঙ্গাদের বোঝানোর জন্য। প্রতিনিধি দলটি ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড থাকার সুবিধা এবং এছাড়াও প্রত্যাবাসনে ব্যাপারে দেশটির গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপ সম্পর্কে শরণার্থীদের অবহিত করবে।.

সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সেই জার নামের একটি গ্রাম পরিদর্শন করে যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪৮টি বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া তারা পান তো পিয়ান নামের আরেকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন যেখান থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সেআ গ্রামে মিয়ানমার ৭২ ঘর নতুন করে তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ দল সীমান্তে জিরো লাইনে যেখানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে সেখানে যান। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত শরণার্থীদের বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত হয়েছে দুই দেশ। এছাড়া প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য বানানো দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং একটি ট্রানজিট সেন্টার পরিদর্শন করেন।

আলোচনাকালে উভয় পক্ষই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মত হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সফর শেষে ১২ আগস্ট রবিবার দেশে ফিরবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

এর আগে চলতি মাসের গোড়ার দিকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তদন্ত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালতকে কোনও সহযোগিতা না করার ঘোষণা দেয় মিয়ানমার। বরং দেশটি বলছে, আন্তর্জাতিক আদালত যদি সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও মিয়ানমারকে যদি বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে চায় তাহলে তা সংস্থাটির বিধির লঙ্ঘন হিসেবে পরিগণিত হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য তা খারাপ উদাহরণ তৈরি করবে। গত বৃহস্পতিবার অং সান সু চি’র পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমন দাবি করা হয়।

সু চি’র দফতর বলছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসির) কাছে যে আবেদন করা হয়েছে তা ‘ভিত্তিহীন ও বাতিলযোগ্য।’

SHARE