Home কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্তে আবারও বেড়েছে ইয়াবা পাচার : কোরবানির ঈদে সক্রিয় হচ্ছে মাদক...

টেকনাফ সীমান্তে আবারও বেড়েছে ইয়াবা পাচার : কোরবানির ঈদে সক্রিয় হচ্ছে মাদক কারবারীরা

134
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১২ আগস্ট) :: সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফেও চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে জুলাই মাসে ইয়াবার চালান তুলনামূলক হারে কমে আসে। কিন্তু চলতি আগস্ট মাসে হঠাৎ করে বৃহৎ আকারের পরিত্যক্ত চালান আটকের ঘটনায় আবারো নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ বিজিবি,র‌্যাব,পুলিশ,কোস্টগার্ড সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের পরও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার চালান আসছেই।থেমেও নেই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।তবুও প্রতিদিন কোনো না কোনো পয়েন্ট থেকে ইয়াবাসহ পাচারকারী বা পরিত্যক্ত ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছেই।এভাবেই প্রতিনিয়ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কৌশলে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা চালান নাফ নদী ও সমুদ্র পথে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে।

এছাড়া আসন্ন কোরবানি ঈদ সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে আসছে প্রচুর গরু-মহিষ। এ কোরবানি পশু আমদানীর আড়ালে গরু-মহিষের পেটের মধ্যে(বিশেষ কায়দায়) লাখ লাখ ইয়াবা পাচরের আশংকা করছে স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবাসহ মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও এ পর্যন্ত বড় কোনো ইয়াবা কারবারি আটকের খবরও পাওয়া যায়নি। সীমান্তের ইয়াবা গডফাদাররা রয়েছে বহাল তবিয়তেই। অথচ টেকনাফ বাংলাদেশের ‘ইয়াবার গেটওয়ে’ হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমারের প্রায় ৪০টি ইয়াবা কারখানায় উত্পাদিত ইয়াবার চালান আসে একমাত্র টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে। 

এদিকে ১২ আগস্ট রবিবার একদিনেই বিজিবি-র‌্যাব এর পৃথক অভিযানে প্রায় ১৪ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এসময় আটক করা হয় ৮ পাচারকারীকে।

এর মধ্যে টেকনাফে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১০কোটি ৩৫ লাখ টাকার ইয়াবা। এসময় আটক করা হয় ৬ পাচারকারীকে। এছাড়াও ধুমধুমের বেতবনিয়া এলাকা থেকে অর্ধ  কোটি টাকার আরও ১০ হাজার ৫০ পিচ ইয়াবাসহ এক মাদক পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি।

এছাড়া একইদিন ১২ আগষ্ট ভোরে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে টেকনাফ থেকে পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় পাচারের সময় ৩ কোটি টাকার ৬০ হাজার ইয়াবা সহ সাবরাং ইউনিয়নের দুই পাচারকারীকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে আটক করেছে।

অপরদিকে ২৫ জুলাই টেকনাফে র‌্যাবের অতিরিক্ত ৫টি ক্যাম্প স্থাপন হওয়ার পর থেকে গত ২৫জুলাই মাস থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।এর মধ্যে ৮০ হাজার ৬৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, তিন হাজার ৩২২ ক্যান বিয়ার, একটি ওয়ান শুটার গান ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।আর গত জুলাই মাসে অভিযান চালিয়ে ৪৩ হাজার ৮৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০৮ ক্যান বিদেশি বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১২ মামলায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়াও গত ৫ আগষ্ট টেকনাফ উপজেলায় শাহপরীরদ্বীপের উত্তরপাড়াস্থ নিজ বাড়ী থেকে ড্রামের ভেতর বস্তাভর্তি প্রায় ৬ কোটি টাকার ১ লক্ষ ৭০ হাজার ইয়াবাসহ মৌলভী আরমান (৪৫) নামে শীর্ষ এক কারবারীকে আটক করে পুলিশ। তবে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে মৌলভী আরমান এর বাড়ীতে ১০ লক্ষাধিক ইয়াবার মজুত ছিল।

এছাড়া কোস্টগার্ডের সদস্যরা গত ৭ মাসে ৮০ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই টেকনাফের সাইরংখাল এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

সীমান্তের লোকজন জানান, ইয়াবা গডফাদাররা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আপাতত গা ঢাকা দিলেও চুনোপুঁটিরা ভয়ে দুবাই এবং সৌদি আরব পাড়ি দিতে বর্তমানে অবস্থান করছে চট্রগ্রাম সহ রাজধানী ঢাকায়।

তাই টেকনাফ সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতিতে এবার একেবারে ভিন্ন রূপ। ইয়াবাবিরোধী অভিযান চললেও সীমান্তের ইয়াবা গডফাদারদের মধ্যে কোনো ভীতি নেই। তাদের বেশির ভাগ ঘর-বাড়িতে না থাকলেও এলাকা ছেড়ে যায়নি। গডফাদাররা এমন পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছে।

আর চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে যেখানে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বন-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সেই পরিস্থিতির মধ্যেও সীমান্তে বৃহৎ আকারের মাদকের পরিত্যক্ত চালান উদ্ধারের ঘটনায় আবারো নতুন করে অজানা আতংক দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অদিফতরের এক কর্মকর্তা জানান,সীমান্তে কোনো মূল্যে ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের চোরাচালান বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। ইয়াবা পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য সম্প্রতি সরবারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৬০ জন গডফাদারসহ ১১৫১ জন মাদক কারবারির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ সীমান্তেই রয়েছে ৯ শতাধিক ইয়াবা কারবারি।

SHARE