Home অর্থনীতি এনবিআরে আটকে আছে ৭,৩০০ কোটি টাকার ভ্যাট

এনবিআরে আটকে আছে ৭,৩০০ কোটি টাকার ভ্যাট

82
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ আগস্ট) :: সরকারের আদায়কৃত রাজস্বের সিংহভাগই যোগান দিয়ে থাকে বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই রয়েছে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদায় হওয়া মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের ৬০ শতাংশের বেশি আদায় হয় ১৭৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এসব প্রতিষ্ঠান এনবিআরের বৃহত্ করদাতা ইউনিট বা এলটিইউ-ভ্যাট অফিসে রাজস্ব প্রদান করে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গত পাঁচ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগেরই প্রবণতা হলো— অর্থ পরিশোধ না করে মামলা করা। মামলা করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রদান প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রেখেছে তারা বছরের পর বছর ধরে।

এমন ২৩৫টি মামলা হয়েছে, যেখানে আট হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার রাজস্ব সংশ্লিষ্ট। এরমধ্যে মধ্যে আলোচ্য সময়ে এক হাজার ৪৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। আরো প্রায় দুইশ’ মামলায় সাত হাজার তিনশ’ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুলে আছে।

সূত্র জানিয়েছে, যে কোন ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন হলে সংশ্লিষ্ট অফিস ওই অর্থ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জরিমানা ও সুদ যুক্ত করে তা পরিশোধের জন্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবিনামা জারি করে।

কোন কোন প্রতিষ্ঠান তা স্বীকার করে ওই অর্থ পরিশোধ করে। আবার কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নেওয়ার নামে বছরের পর বছর ওই অর্থ ঝুলিয়ে রাখার কৌশল গ্রহণ করে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে বড় অঙ্কের ভ্যাটের অর্থ ঝুলে আছে।

শুধু তাই নয়, এনবিআরের হিসাবে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক সংক্রান্ত এ ধরণের মামলা ২৫ হাজারের অধিক। যেখানে সরকারের পাওনা ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বছরের পর বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এসব মামলা এনবিআরের আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট বিভাগে চলমান রয়েছে।

এলটিইউ-ভ্যাট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ৫৮টি মামলা হয়, রাজস্বের পরিমাণ ২ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। এবছর আদায় হয়েছে ৫১২ কোটি টাকা। এর আগের অর্থাত্ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৫ মামলায় জড়িত ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা। এই অর্থবছরে আদায় হয় ৯১ কোটি টাকা।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে সর্বাধিক মামলা হয়। আলোচ্য সময়ে ৭৮টি মামলায় জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয় ৪১৮ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৩টি মামলা হয়, যাতে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৮৫ কোটি টাকা।

আলোচ্য বছরে আদায়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩১টি মামলা হয়, যাতে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। আলোচ্য বছরে আদায় হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

ভ্যাট ফাঁকি ইস্যুতে মামলা রয়েছে এমন তালিকার শীর্ষ রয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানির সিম রিপ্লেসমেন্টের আড়ালে নতুন সিম বিক্রির ঘটনায় ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার একটি মামলা বর্তমান উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

এর বাইরে স্থান ও স্থাপনা ভাড়া সংক্রান্ত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ২ হাজার ৪৩১ কোটি টাকার ভ্যাট আটকে রয়েছে। এর বাইরে ব্যাংক, বীমা, সিমেন্ট, খাদ্য ও পানীয়, তামাকসহ আরো কিছু খাতের প্রতিষ্ঠানের মামলা রয়েছে।

এনবিআরের একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিষ্কার ফাঁকি উদ্ঘাটন হওয়ার পর দাবিনামা জারি করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান কেবল এ অর্থ ঝুলিয়ে রাখার জন্য মামলায় যায়। তবে সম্প্রতি ভ্যাট অফিসের তত্পরতা বাড়ায় আমাদের আদায় বাড়ছে।

তিনি বলেন, এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে আপিলাত ট্রাইব্যুনালে ৬৪০ কোটি টাকার দুটি মামলায় সরকারের পক্ষে রায় এসেছে। অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে ১০টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এলটিইউ-ভ্যাট অফিস থেকে দফাওয়ারী জবাব পাঠানো হয়েছে।

এসব মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে জড়িত ভ্যাটের পরিমাণ ২ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। শিগগিরই এসব নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি।

SHARE