Home কলাম নিউইয়র্ক শহরে কত রহস্য !

নিউইয়র্ক শহরে কত রহস্য !

242
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ আগস্ট) :: নিউইয়র্ক শহরে এলেই মানুষ এই শহরের প্রেমে পড়ে। এটি কেবল আমারই কথা নয়, শুনেছি বহু মানুষের মুখে। অনেকে বহুদিন এই শহরে বসবাস করে বিরক্ত হয়ে অন্য শহরে চলে যান।

অজুহাত দেখান, ছিঃ, নিউইয়র্কে কোন ভদ্রলোক থাকে? মানুষ আর মানুষে গিজ গিজ করে, যেন গায়ে গায়ে ধাক্কা খায়। এসব মানুষ আপ স্টেট বা অন্য কোন শহরে গিয়ে বিশাল বাড়ি কেনেন, গাড়ি কেনেন। তারপর কয়েক বছর না যেতেই আবার ফিরে আসেন ঘনবসতির এই শহরে। তখন বলেন, আসলে মানুষ না দেখলে কেন যেন ঘুম হয় না। এত নীরবতায় কেমন যেন দম আটকে আসে।

আমার অবস্থাও তাই। আমি প্রকৃতির চেয়ে মানুষ দেখতে বেশি ভালোবাসি। প্রকৃতিও আমাকে খুব টানে। পাহাড়, সাগর, অরণ্য আমাকে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমি ছুটে যাই পাহাড়ের কাছে। বিশাল মৌন পাহাড় আমার মনে গভীর দর্শনের জন্ম দেয়। আমি বুঝতে পারি, ঈশ্বরের এই বিশাল সৃষ্টির কাছে আমরা কত তুচ্ছ। তেমনি সাগরের বিশালতা বা অরণ্যের গভীরতা আমাকে রোমাঞ্চিত করে। আমার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে সৃষ্টির এই অপার রহস্য দেখে। কিন্তু সেই অদ্ভুত সুন্দরের সামনে বেশিক্ষণ থাকলে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। অসহ্য সুন্দরকে বেশিক্ষণ সহ্য করার মত শক্তি মনে হয় সৃষ্টিকর্তা আমাদের মানুষকে দেন নাই। আমি আমার পরিচিত নাগরিক কোলাহলে ফিরে এসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।

প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির মত মানুষও একটি রহস্যময় সৃষ্টি। যেমন শারীরিকভাবে তেমনি মানসিকভাবে। মানুষের শরীরের রহস্য বিজ্ঞান আবিষ্কার করলেও মনের রহস্যের নাগাল আজও পায়নি। আজকের এই বিজ্ঞানের জয়জয়কারের যুগেও মানুষের মনের গঠন বা অবস্থান আজও বিজ্ঞান খুঁজে পায়নি। তাই পথ চলতে, ঘুরতে-ফিরতে আমি যখনই কোন আকর্ষণীয় মানুষ দেখি, আমি গভীর মনোযোগে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাদের দেখি। আগ্রহ নিয়ে তাদের কথা শুনি। একেকটা মানুষ যেন একেকটা নতুন জগৎ। একটা মানুষ যখন মন খুলে তার নিজের গল্প করে, মনে হয় একটি বদ্ধ গুহার দরজা যেন খুলে গেল। 

নিউইয়র্ক এমন একটি শহর যেখানে বসবাস করার সুযোগে আমি চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফিলোপিনো, কলাম্বিয়ান, নাইজেরীয়, আফ্রিকান, ইন্দোনেশীয়, নেপালি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, ফরাসি, আইরিশ—এমন বহু ভাষার, বহু জাতের আর বহু ধর্মের মানুষকে চেনা-জানার সুযোগ পেয়েছি। সুযোগ পেয়েছি তাদের ব্যক্তিগত আনন্দ বেদনার গল্প শোনার। একই শহরে বসবাসের সুবাদে এসব দেশের খাবার থেকে শুরু করে তাদের পোশাক, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গেও হচ্ছে আমাদের প্রত্যক্ষ পরিচয়। কথায় বলে, ‘নিউইয়র্ক ইজ আ মেল্টিং পট অ্যান্ড ডাইভারসিটি ইজ দ্য বিউটি।’

তেমনি অনেক শহর বা গ্রাম আছে যা অপার রহস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই নিউইয়র্ক শহরের মধ্যিখানেই আছে এমনি একটি রহস্যময় শহর নাম যার ভিলেজ। ইস্ট ভিলেজ আর ওয়েস্ট ভিলেজ। একসময় ওখানে কাজ করতে গিয়েই আমার সঙ্গে পরিচয় হয় ভিলেজের সঙ্গে। তারপর আমি ভিলেজের প্রেমে পড়ে গেলাম। আমি কারণে-অকারণেও মাঝেমধ্যে ইস্ট ভিলেজ, ওয়েস্ট ভিলেজের রাস্তাগুলোতে একা একা ঘুরে বেড়াতে শুরু করলাম।

ব্লিকার স্ট্রিট, থমসন স্ট্রিট, ওয়াশিংটন স্ট্রিট—এসব রাস্তা একসময় আমার অতি পরিচিত হয়ে উঠল। আমার মনে হতে লাগল, এই শহর যেন আমার অনেক দিনের চেনা। এর প্রতিটি অলিগলি যেন আমার অতি পরিচিত। লাল ইটের বড় বড় বাড়িগুলো তাদের সব রহস্য নিয়ে চুম্বকের মত আমায় তাদের কাছে টানতো, যেন এদের প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে নানা গল্প। তারা আমাকে তাদের গল্প শোনাতে চাইতো।

এমন একটা সময় ছিল, যখন নিউইয়র্ক শহর নিয়ে যেকোনো রোমান্টিক সিনেমার গল্প মানেই ছিল ওয়েস্ট ভিলেজ। নায়িকাকে হতে হবে ওয়েস্ট ভিলেজের বাসিন্দা। সে কোবেল স্ট্রিটের কোন এক লাল রঙা ওয়াক আপে বসবাস করবে। ভিলেজের পথে পথে ও সুন্দর সুন্দর দামি বুটিকে সে ঘুরে বেড়াবে। তারপর নায়কের সঙ্গে কোন ফ্যাশনেবল কফি শপে তার হঠাৎ করেই পরিচয় হবে।

ওয়েস্ট ভিলেজের মধ্যে খাপছাড়া এক ধরনের সৌন্দর্য আছে। আছে ছোট্ট মফস্বল শহরের একটা ভাব, যা খুবই অদ্ভুত রকমের। কিন্তু সুন্দর। কিছু ক্ষ্যাপা, ছন্নছাড়া ভবঘুরে টাইপ মানুষের আড্ডা দেওয়ার জায়গা এটি। ছোট্ট বোহেমিয়ান নামেই পরিচিত এই শহর। লাল ইটের তৈরি ওয়াকআপ টাউন হাউসগুলো তার বাইরের চেহারায় একটা মোহনীয় রূপ নিয়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাদের ভেতরের সাজসজ্জা খুবই পুরোনো আর সেকেলে। সকালে কোবেলস্টোনের রাস্তা ধরে হাঁটা আর বিকেলে হাডসন রিভার গ্রিনওয়ে মনভোলানো সূর্যাস্ত দেখার তুলনা হয় না। এ যেন এক স্বর্গীয় আবেশ।

ওয়েস্ট ভিলেজের সীমানা হল গ্রিনউইচ ভিলেজ আর হাডসন নদী। এই এলাকাটি লোয়ার ম্যানহাটনের সবচেয়ে সুন্দর আর অভিজাত একটি পকেটের মতো। বেশির ভাগই আবাসিক বাড়িঘর। দিনের শুরুতে আশপাশটা খুবই নিরিবিলি আর শান্তিপূর্ণ মনে হলেও রাতটা হয়ে ওঠে মায়াবী। রাতে শহরের চিত্র যায় বদলে। দিনের শহর রাতে যেন তার আটপৌরে পোশাকটি বদলে ঝলমল রঙিন পোশাকে সজ্জিত হয়।

রাত বাড়তে থাকলে শিল্পী, লেখক, মডেল, ধনী আর ফ্যাশনেবল সব লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। মৃদু আলোকিত ককটেল বারগুলো জমে ওঠে। ‘দ্য কর্নার বিস্ট্রো’ বারটি যেন সবারই পা রাখার অভিন্ন এক জায়গা। কালো কাঠের প্যানেল করা বার, আর ডাইনিং এরিয়া প্রতিরাতে মানুষে গিজগিজ করতে থাকে। হ্যাপি আওয়ার ড্রিংকস আর শহরের সবচেয়ে ভালো বার্গারের জন্য এই ছোট্ট শহরের জনপ্রিয় হ্যাঙআউটের জায়গা হিসেবে পরিচিত।

সেই ঊনিশ শতক থেকেই ওয়েস্ট ভিলেজ গড়ে উঠেছিল অদ্ভুতুড়ে এক শহর হিসেবে। তারও অনেক আগে থেকেই লেখক, শিল্পী, ছাত্রছাত্রী, বুদ্ধিজীবী আর ভবঘুরে লোকজন জড়ো হয়েছিল এই ছোট্ট শহরে। আশির দশকে শহরটি হয়ে দাঁড়াল অভিজাত আর ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের আড্ডার প্রাণকেন্দ্র।

যদিও শহরটির চরিত্র একটি আধুনিক নগরীর ঠিক উল্টো। সরু সরু গলির মত পথঘাট, ইট বের করা খোয়া ওঠা রাস্তা, পুরোনো বাড়িঘর। পথের দুধারে দেশ-বিদেশের ছোট ছোট সব খাবারের দোকান। অদ্ভুত অদ্ভুত সব পণ্য সামগ্রী নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসে থাকে ফুটপাথের দোকানিরা।

যদিও রাতে শহরের চরিত্রটি মুহূর্তেই বদলে যায়। বার কাম রেস্তোরাঁগুলো জমে ওঠে সুবেশী, দামি পোশাকে সজ্জিত মানুষের পদচারণায়। পারফিউমের গন্ধ, হাই হিলের ঠুকঠাক শব্দ আর হাসি-গল্পের লহরি ওঠে থেকে থেকে। পানপাত্র হাতে ফুটপাতের খোলা টেবিলগুলোতে বসে থাকা মানুষ দৃষ্টি কাড়ে পথচারীদের।

এবার এই রহস্যময় নগরীরই কিছু রহস্যময় মানুষের গল্প বলে নানা রঙের নিউইয়র্কের কথকতা শেষ করব। কাজ করি তখন ওয়েস্ট ফোরের ক্রিস্টোফার স্ট্রিটে। কাজের প্রয়োজনেই এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয়। কথা হয় অনেকের সঙ্গে।

পরিচয় হয় নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পলের সঙ্গে। তার সঙ্গে প্রায়ই কথা হয়, গল্প হয়। একদিন ওয়েস্ট ফোর সাবওয়ে থেকে বের হয়ে পাশেই ক্রিস্টোফার পার্কে গিয়ে বসলাম। উদ্দেশ্য পার্কে বসে পার্কের শ্বেত পাথরে তৈরি সাদা রঙের ম্যুরালগুলোর কিছু ছবি তুলব। তারপর কাজের সময় হলে কাজে গিয়ে ঢুকব।

হঠাৎ চোখ পড়ল কিছু দূরে একটি রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পলের দিকে। সে তারই সমবয়সী একটি ছেলেকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে। আমার কান গরম হয়ে ঝাঁঝাঁ করতে লাগল। পলের সঙ্গে অনেক গল্প হয়েছে। কিন্তু এই রহস্য তখনো উন্মোচন হয়নি। আমার চোখ গেল স্টোন ওয়ালের গায়ে মাঝ বরাবর লাগানো পতাকাটির দিকে। ছয়টি উজ্জ্বল রঙের ডোরাকাটা পতাকাটি এখন এলজিবিটি মানুষের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির এক রহস্যময়তার শিকার মানুষগুলো আংশিক লাল ইটের দোতলা এই বারে এসে নিজেরা একে অন্যের সামনে আত্মপ্রকাশ করার বা মন খুলে দুটো কথা বলার সুযোগ পায়।

শুনেছি, সমাজের চোখ রাঙানো বা ভ্রুকুটি থেকে বাঁচার জন্য এসব মানুষের বাঁচার চেষ্টা বা লড়াই শুরু হয়েছিল এখান থেকেই। এই সেই ঐতিহাসিক বার যেখানে ১৯৬৯ সালের জুন মাসের এক সকালে পুলিশ বারে তল্লাশি চালালে বারের পৃষ্ঠপোষক, কর্মী আর আশেপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে পলের কাছে এই সংঘর্ষের অনেক গল্প শুনেছি। প্রায় ছয় দিন এই সংঘর্ষ চলেছিল। ক্রিস্টোফার পার্ক, ক্রিস্টোফার স্ট্রিটের আশপাশেও এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল।

এই সংঘর্ষের সূত্র ধরেই পরে আমেরিকা তথা সারা বিশ্বে সমকামী অধিকার আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ভিলেজের ব্যস্ত রাস্তা ধরে বাকি পথটুকু হাঁটতে হাঁটতে আমার বুক ভারি হয়ে এল। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। পতাকার লাল, নীল, হলুদের সঙ্গে পলের মুখটিও যেন একাকার হয়ে আমার চোখে ভাসতে লাগল। কৌতূহলীদের চোখ এড়িয়ে, বারবার চোখ মুছতে মুছতে, বুকের ভেতরে একধরনের শূন্যতা নিয়ে আমি আমার কাজে গেলাম। 

পল আমার কেউ নয়। শুধুই পরিচিত একজন মানুষ। তবুও পলের জন্য আমার মন ব্যথায় ভরে উঠেছিল। কিছু কিছু মানুষ প্রকৃতির এই রহস্যের শিকার। প্রকৃতি তাদের নিয়ে খেলছে। অথচ আমরা যারা ভাগ্যবান মানুষ, আমরা জেনে বা না জেনে এই মানুষগুলোর বিচার করি। তাদের প্রতি হৃদয়হীন আচরণ করি। কিন্তু তারা আমাদেরই একজন। কারও ভাই, কারও সন্তান, কারও বোন। তারাও বাঁচুক সুস্থ, সুন্দরভাবে। তারাও উপভোগ করুক এই সুন্দর পৃথিবী। নানা রঙের, নানা লিঙ্গের, নানা দেশের মানুষকে একঠাঁই হওয়ার সুযোগ দিয়ে নিজেই বর্ণিল হয়ে উঠেছে আমাদের প্রাণের শহর নিউইয়র্ক।

টুইন টাওয়ারের কথা সবার মনে আছে নিশ্চয়ই? নিউইয়র্ক নগরের ম্যানহাটন শহরে টুইন টাওয়ার নামে দুইটা যমজ টাওয়ার ছিল। একদিন হঠাৎ সেখানে বর্গিরা আসিয়া আক্রমণ করিয়াছিল…! জানি, এই গল্পটা সবারই জানা। সেই রূপকথার গল্পের মতোই লোমহর্ষক এই গল্প। লোয়ার ম্যানহাটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। ১৯৭৩ সালে কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। ষোলো একর জমির ওপর সাতটা বিল্ডিং নিয়ে বিশাল এক কমপ্লেক্স। টুইন টাওয়ার ছিল এই কমপ্লেক্সের সেন্টার পিচ। দুই যমজ ভাইয়ের মত পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল ১১০ তলা সুউচ্চ এই টাওয়ার দুটি। এই দুই যমজ ভাই ছিল নিউইয়র্কের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার।

আজও মনে পড়ে, সেই টুইন টাওয়ার দেখার স্মৃতি। সেদিনও ছিল সুন্দর ঝকঝকে একটি দিন। আমরা কমপ্লেক্স দেখা শেষ করে দক্ষিণ টাওয়ারের ১০৭ তলায় ‘উইন্ডোজ অন্য দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামের স্কাই হাইরেস্টুরেন্টে ডিনার করতে গেলাম। সেখানে আকাশের কাছাকাছি জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। শুধু ম্যানহাটনই নয়, ব্রুকলিন এবং নিউজার্সির স্কাই লাইনও ছবির মতোই আলো ঝলমলে দেখাচ্ছিল আমাদের খাবার টেবিলে বসে। 

নিচে তাকিয়ে দেখলাম ইস্ট রিভারের পানিতে সূর্যের আলো সোনা রং আভা ফেলে জ্বলজ্বল করছে। সেই গোধূলির আলোতে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, এলিস আইল্যান্ড অপরূপ মায়াপুরীর মত লাগছিল। গ্রীবা উঁচু করে গর্বিত ভঙ্গিতে এক হাতে বই আর অন্য হাতে মশাল তুলে দাঁড়িয়ে আছেন লেডি লিবার্টি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হল টুইন টাওয়ার। ভেঙে পড়ল সুউচ্চ যমজ টাওয়ার দুটি। সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হল সাতটা ভবনসহ সেই বিশাল কমপ্লেক্স। হারিয়ে গেল কত শত তাজা প্রাণ। সেদিনও নিউইয়র্কের মানুষেরা এক হয়ে গিয়েছিল। কেউ মনে রাখেনি, তারা কে, কোথা থেকে এসেছে। নিউইয়র্কাররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছে। সবাই একসঙ্গে কেঁদেছে। সবার চোখের জল ছিল একই রঙের। সবার বেদনা ছিল বুক ভাঙা।
ওরা জীবন দিয়েছিল। কেউ খ্রিষ্টান, কেউ মুসলিম, কেউ ইহুদি, কেউ হিন্দু, কেউ বৌদ্ধ। তারা সবাই এসেছিল পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে। কিন্তু তারা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিল নিউইয়র্কার পরিচয়ে। তাদের গায়ের রং ছিল সাদা, কালো, বাদামি, হলুদ। কিন্তু তাদের সবার রক্তের রং ছিল টুকটুকে লাল। সবাই মিলে একটু একটু করে রঙিন করে তুলেছি আমাদের ভালোবাসার, আমাদের প্রাণের নিউইয়র্ক।

SHARE