Home স্বাস্থ্য ফুসফুস ক্যানসার কেন হয় এবং প্রতিরোধে করণীয়

ফুসফুস ক্যানসার কেন হয় এবং প্রতিরোধে করণীয়

122
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৩১ আগস্ট) :: ধূমপান করলে ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা শতভাগ। ফুসফুসের ক্যানসার একটি প্রাণঘাতী ব্যাধি। বর্তমান বিশ্বে পুরুষদের সব ধরনের ক্যানসারের মধ্যে ফুসফুসে ক্যানসার সবার শীর্ষে। পুরুষের তুলনায় নারীর ফুসফুসে ক্যানসারের হার কম হলেও দিনে দিনে তা বাড়ছে।

ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি হচ্ছে ফুসফুসের ক্যানসার। মধ্যবয়স্ক ও বয়স্কদের মধ্যে এ রোগের হার সবচেয়ে বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হলে এ ক্যানসার নিরাময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যানসারের কারণ : ফুসফুসে ক্যানসারের প্রধান কারণ হলো ধূমপান। তামাকের ধোঁয়ায় থাকে ক্যানসার উৎপাদক বিভিন্ন উপাদান। ধূমপানের ফলে ফুসফুসে বায়ুপথের শ্বাসনালির অভ্যন্তরীণ দেয়ালের আবরক কলায় দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। এ পরিবর্তিত কোষগুলো দ্রুত বিভাজিত হয়ে জন্ম দেয় ফুসফুসে ক্যানসারের। তবে ধূমপান ছেড়ে দিলে ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

আবার ধূমপান করেন না অথচ ধূমপায়ীর সংশ্রবে থাকেন, তারাও ঘাতক ব্যাধি ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। ধূমপানের ফলে অন্যান্য স্থান যেমন মুখ, জিভ, বাকযন্ত্র বা ল্যারিংকস, খাদ্যনালি ও মূত্রথলিতেও ক্যানসার হতে পারে। এর পর যারা সাদা পাতা, জর্দা খায়—এগুলো ঝুঁকির কারণ বা অনেকে গুল ব্যবহার করে, এগুলোও ঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া কিছু রাসায়নিক পদার্থ আছে, যেগুলোও অনেক সময় ঝুঁকির কারণ হয়।

উপসর্গ : ফুসফুসে ক্যানসারের উপসর্গ নির্ভর করে এর আকার ও অবস্থানের ওপর। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে বুকের এক্স-রে পরীক্ষায় এ রোগ ধরা পড়ে। এ পর্যায়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্যানসার ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং অস্ত্রোপচারের সাহায্যে এর চিকিৎসা সম্ভব।

ফুসফুসে সচরাচর যে উপসর্গগুলো দেখা যায় তা হলো স্থায়ী কাশি ও শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, রক্তরঞ্জিত শ্লেষ্মা, ওজন হ্রাস ও স্বরভঙ্গ। যদি বয়স চল্লিশের উপরে হয় এবং উপরোক্ত এক বা একাধিক উপসর্গ দু’সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

চিকিৎসা : ফুসফুসে ক্যানসারের চিকিৎসা তিনভাবে করা যায়। তা নির্ভর করে ক্যানসারের আকার, ব্যাপ্তি ও হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার (কোষের ধরন) ওপর। কখনো কখনো একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয় করার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা : এতে আক্রান্ত ফুসফুসের অংশটি শরীর থেকে অপসারণ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায় ও ক্ষুদ্র আকৃতি ক্যানসারের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে ফুসফুসের ক্যানসার নিরাময়ের সম্ভাবনা সর্বাধিক।

রেডিওথেরাপি বা বিবিরণ চিকিৎসা : এ পদ্ধতিতে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার জন্য উচ্চশক্তির বিকিরণ রশ্মি প্রয়োগ করা হয়। এ জন্য ব্যবহৃত হয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে মেশিন, লিনিয়ার এসকেলেটার, কোবাল্ট ইউনিট ইত্যাদি যন্ত্র।

কেমোথেরাপি বা রাসায়নিক চিকিৎসা : এ পদ্ধতির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ক্যানসার বিধ্বংসী ওষুধ। অধিকতর অগ্রসর বিশেষ ধরনের ফুসফুসে ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপির ব্যবহার করা হয়।

প্রতিরোধের উপায় : ধূমপান করা যাবে না। যারা ধূমপান করেন না তারা এ থেকে সারা জীবন দূরে থাকবেন। যারা ধূমপান করেন তারা এই মুহূর্তে থেকে তা ছেড়ে দিন।

ধূমপান ছাড়ার কয়েকটি সহজ উপায় নিম্নে দেয়া হলো-

* চিরতরে ধূমপান বন্ধ করতে একটি নির্ধারিত দিন ধার্য করা।
* দু’তিন সপ্তাহের ভেতর ধূমপানের মাত্রা কমিয়ে আনা। এরপর চিরতরে বন্ধ করা।
* ইচ্ছাশক্তি গড়ে তোলা।
* কখনো সঙ্গে সিগারেট না রাখা।
* ধূমপায়ীদের বর্জন করা।
* যখন ধূমপান করা হতো (যেমন রাতের খাবারের পর, চা বা কফি পানের পর) তখন না ধূমপান না করা।
* দৈনন্দিন কার্যসূচিতে এমন কিছু আনা যাতে হাতের ব্যবহার হয় অথবা পায়ের ব্যায়াম (হাঁটাহাঁটি, জগিং ইত্যাদি) হয়।
* বেশি করে পানি পান, তাজা ফলমূল, শাকসবজি ও গাজর খাওয়া। তবে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করা যাবে না।
* অন্যদের জানা হবে নিজের ধূমপান বন্ধের চেষ্টার কথা।
* ধূমপান ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরলে দ্রুত ফল আসবে।

এছাড়া ধূমপান ছেড়ে দেয়ার ফলে আরো যে উপকার পাওয়া যাবে তা হলো-

* ধূমপান বন্ধের কারণে অনেক অর্থ সাশ্রয় হবে।
* ক্যানসারের প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সহজ হবে।
* ফুসফুসের ক্যানসার থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

SHARE